ASSAM SEBA/SMEBA CLASS 10 BENGALI QUESTIONS & ANSWERS
সেবা দশম শ্রেনী বাংলা প্রশ্ন এবং উত্তর
অরুণিমা সিনহা : আত্মবিশ্বাস এবং সাহসের অন্য নাম- পদ্মশ্রী ড° জয়শ্রী গোস্বামী মহন্ত
অরুণিমা সিনহা : আত্মবিশ্বাস এবং সাহসের অন্য নাম
পদ্মশ্রী ড° জয়শ্রী গোস্বামী মহন্ত
ASSAM SEBA/SMEBA CLASS 10 BENGALI QUESTIONS & ANSWERS
সেবা দশম শ্রেনী বাংলা প্রশ্ন এবং উত্তর
অরুণিমা সিনহা : আত্মবিশ্বাস এবং সাহসের অন্য নাম
লেখিকা পরিচিতি :-
ড জয়শ্রী গোস্বামী মহন্তের জন্ম ১লা
জানুয়ারি ১৯৬০ ইংরেজি। তার পৈত্রিক বাসভূমি আসাম প্রদেশের ধুবড়ী জেলার গৌরীপুরে।
জয়শ্রী গোস্বামী মহন্তের প্রাথমিক শিক্ষা গৌরীপুরে। ছাত্রী অবস্থায় তিনি অত্যন্ত
মেধাবী ছিলেন। গুয়াহাটির কটন কলেজ থেকে প্রথম বিভাগে বি, এস, সি পাশ
করে গুয়াহাটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন এবং সেখান থেকে জীববিদ্যা বিষয়ে প্রথম
বিভাগে প্রথম হয়ে এম, এস, সি পাশ করেন। তার কর্মজীবন শুরু হয় অধ্যাপকরূপে প্রথমে কটন
কলেজে। সেখান থেকে গুয়াহাটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপিকা হন
তিনি। আসামের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী প্রফুল্ল কুমার মহন্তের সাথে তিনি পরিণয়
সূত্রে আবদ্ধ হয়ে নিজেকে সমাজসেবার কাজে নিয়োজিত করেন। তিনি এ. জি. পি, দলের
অন্যতম মহিলা নেত্রী ও রাজ্যসভার সদস্য ছিলেন পাঁচ বছর। লেখিকা তুলনামূলকভাবে নবীন
হলেও তার লেখার অভিজ্ঞতা অনেক উপরে। তিনি ৬৫টিরও বেশি গ্রন্থের লেখিকা। ‘এদিন’ সংবাদ পত্রের মুখ্য
সম্পাদিকা। তাঁর রচিত গ্রন্থগুলির মধ্যে সাধু এবং ‘হাতার
আঙুতি', ‘উখারিয়া',
‘আসাম আন্দোলন পার্ট-৭', ‘দ্রোণাচার্য’, ‘চাণক্য’
ইত্যাদি প্রধান। তিনি ভারত সরকার কর্তৃক ‘পদ্মশ্রী’ সম্মানে ভূষিত।
শব্দার্থ :
আত্মবিশ্বাস - নিজের উপর বিশ্বাস। ক্ষুব্ধ -
রাগান্বিত। মনোবল - মনের শক্তি। অলংকার - গহনা। রাগে টগবগ - প্রচণ্ড
রাগের অবস্থা। পরশ - স্পর্শ। ধমকাচ্ছে - ধমক দিচ্ছে। সংকল্পবদ্ধ - প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।
আকাঙক্ষায় - ইছায়। বিকলাঙ্গ - বিকৃত অঙ্গযুক্ত। বিপদাপন্ন - বিপদগ্রস্ত। বিচ্যুত - পড়ে যাওয়া, পতন।
সহৃদয় - হৃদয়বান। কৃত্রিম - নকল। আত্মমগ্ন - নিজেকে নিয়ে মত্ত থাকা। দৃঢ় -
শক্ত। প্রখ্যাত খ্যাতনামা। মাউন্ট এভারেষ্ট - হিমালয়ের চূড়া। অদম্য - যাকে দমন
করা যায় না। সহিষ্ণুতা - সহ্য করার ক্ষমতা। শিখরে - চুড়ায়। পদার্পণ - পা রাখা।
দ্রুত - তাড়াতাড়ি। স্মরণীয় - স্মরণ করার যোগ্য। সম্মান - পুরস্কার। উদ্যমে -
চেষ্টায়। অরণ্যে - বনে। হৃদয় - অন্তর। বিশ্ববাসীর - পৃথিবীবাসীর। সহায়তার -
সাহায্যের। সাফল্য - সফলতা। প্রেরণা - উৎসাহ। অভিপ্রায়ে - ইচ্ছায়।
ASSAM SEBA/SMEBA CLASS 10 BENGALI QUESTIONS & ANSWERS
সেবা দশম শ্রেনী বাংলা প্রশ্ন এবং উত্তর
অরুণিমা সিনহা : আত্মবিশ্বাস এবং সাহসের অন্য নাম
অতি সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর
Q.1 ‘অরুণিমা সিনহা:আত্মবিশ্বাস ও সাহসের অন্য নাম’ রচনাটির লেখিকার
নাম কী?
ANS:- ড জয়শ্রী গোস্বামী মহন্ত।
Q.2 ‘অরুণিমা সিনহা : আত্মবিশ্বাস ও সাহসের অন্য নাম’ রচনাটি কোন
ভাষার সাহিত্য থেকে অনুবাদিত?
ANS:- অসমিয়া ভাষার সাহিত্য থেকে এই রচনাটি অনুবাদিত।
Q.3 ড° জয়শ্রী গোস্বামী
মহন্ত কোন পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন?
ANS:- ‘এদিন’ সংবাদ নামক
পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।
Q.4 ‘অরুণিমা সিনহা : আত্মবিশ্বাস ও সাহসের অন্য নাম’ রচনাটি বাংলা
ভাষায় কে অনুবাদ করেছিলেন?
ANS:- মিলন উদ্দিন লস্কর।
Q.5 লেখিকা
ড° জয়শ্রী গোস্বামী মহন্ত ভারত সরকারের পক্ষ থেকে কোন সম্মানে ভূষিত হয়েছিলেন?
ANS:- পদ্মশ্রী সম্মানে ভূষিত হয়েছিলেন।
Q.6 লেখিকা
ড° জয়শ্রী গোস্বামী মহন্ত কত খ্রিষ্টাব্দে পদ্মশ্রী সম্মান লাভ করেছিলেন?
ANS:- ২০১৮ খ্রিষ্টাব্দে।
Q.7 লেখিকা
ড° জয়শ্রী গোস্বামী মহন্তের জন্মস্থান কোথায়?
ANS:- ড° জয়শ্রী গোস্বামী মহন্তের জন্মস্থান ধুবড়ি জেলার
গৌরীপুরে।
Q.8 অরুণিমা
রেলগাড়িতে চড়ে কোথায় যাচ্ছিল?
ANS:- অরুণিমা রেলগাড়িতে চড়ে দিল্লি যাচ্ছিল।
Q.9 অরুপিমার
বয়স কত ছিল?
ANS:- অরুণিমার বয়স ছিল ছাব্বিশ।
Q.10 অরুণিমা
কেনি খেলায় পারদর্শী ছিল?
ANS:- অরুণিমা ভলিবল খেলায় পারদর্শী ছিল।
Q.11 কখন
অরুণিমার হিমালয় শিখরে ওঠার গল্প তীব্র হয়ে উঠেছিল?
ANS:- অল ইণ্ডিয়্য ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল সাইন্স-এ চিকিৎসারত থাকা কালে
অরুণিমার হিমালয় শিখরে ওঠার সপ্ন তীর হয়ে উঠেছিল।
Q.12 ডাকাত
দল অরুণিমার কাছে এসে কী দিতে বলেছিল?
ANS:- অরুণিমার গলার চেন দিতে বলেছিল।
Q.13 অরুণিমার
গলার চেনটিতে কার দেওয়া আশীর্বাদ ছিল?
ANS:- অরুণিমার মায়ের।
Q.14 ডাকাতদল
অরুণিমাকে কোথায় ছুড়ে দিয়েছিল?
ANS:- ডাকাতদল অরুণিমাকে রেলগাড়ি থেকে দরজা খুলে বাইরের অন্ধকারে ছুঁড়ে
ফেলেছিল।
Q.15 অরুণিমার
চিৎকার কেউ শুনল না কেন?
ANS:- রেল ইঞ্জিন আর তার চাকার শব্দে কেহ অরুণিমার চিৎকার শুনতে পেল না।
Q.16 ভোরবেলা
লোকজন অরুণিমাকে কীভাবে দেখতে পেল?
ANS:- গুরুতর আহত অবস্থায় দেখতে পেল।
Q.17 অরুণিমাকে
আহত অবস্থায় প্রথমে কোন হাসপাতালে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছিল?
ANS:- বেরিলি হাসপাতালে।
Q.18 হাসপাতাল
থেকে রিলিজ নিয়ে প্রথমে অরুণিমা কার কাছে গিয়েছিল?
ANS:- এভারেষ্ট বিজয়ী বাচেন্দ্র পালের কাছে।
Q.19 ভারতবর্ষের
প্রথম এভারেষ্ট বিজয়ী মহিলার নাম কী?
ANS:- বাচেন্দ্র পাল।
Q.20 অরুণিমার
নতুন কৃত্রিম পা লাগাতে কত টাকার প্রয়োজন ছিল?
ANS:- ষাট-সত্তর হাজার টাকার প্রয়োজন ছিল।
Q.21 কার
তত্ত্বাবধানে অরুণিমার পর্বত আরোহনের অনুশীলন চলেছিল?
ANS:- এভারেষ্ট বিজয়ী বাচেন্দ্র পালের তত্বাবধানে।
Q.22 অরুণিমা
কোথা থেকে প্রথমে এভারেষ্ট অভিযান শুরু করেছিল?
ANS:- লাদাখের শামসের কাংরি থেকে।
Q.23 যাত্রা
করে কতদিন পর অরুণিমা মাউন্ট এভারেষ্টের শিখরে পদার্পণ করতে সক্ষম হয়েছিল?
ANS:- ৫2 দিন পর।
Q.24 অরুণিমা
কতক্ষণ মাউন্ট এভারেষ্টের চূড়ায় অবস্থান করেছিল?
ANS:- প্রায় দেড় ঘণ্টার মতো সময় মাউন্ট এভারেষ্টের চুড়ায় অবস্থান করেছিল।
Q.25 অরুণিমা
কার কাছ থেকে পদ্মশ্রী সম্মান লাভ করেছিল?
ANS:- ভূতপূর্ব রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়ের কাছ থেকে।
Q.26 অরুণিমার
বাড়ি কোথায়?
ANS:- উত্তর প্রদেশে।
Q.27 স্টিফেন
হকিঙ কে ছিলেন ?
ANS:- একজন পৃথিবী বিখ্যাত মহাকাশ গবেষক ও বিজ্ঞানী ছিলেন।
ASSAM SEBA/SMEBA CLASS 10 BENGALI QUESTIONS & ANSWERS
সেবা দশম শ্রেনী বাংলা প্রশ্ন এবং উত্তর
অরুণিমা সিনহা : আত্মবিশ্বাস এবং সাহসের অন্য নাম
সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর
Q.1 ড
জয়শ্রী গোস্বামী মহন্ত কত সালে কোন সম্মানে ভূষিত হয়েছিলেন?
ANS:- লেখিক ড’ জয়শ্রী গোস্বামী মহন্ত ২০১৮ সালে ভারত সরকার কর্তৃক ‘পদ্মশ্রী’ সম্মানে ভূষিত হয়েছিলেন।
Q.1 অরুণিমা
কেন ডাকাতদের হাতে তার সোনার চেন দিতে চায়নি?
ANS:- অরুণিমা এক সাহসী যুবতী। সে প্রথমত অন্যায়ের প্রতিবাদে চেনটি দেয়নি।
দ্বিতীয়ত এটাতে তাঁর মায়ের আশীর্বাদ জড়ানো ছিল। এজন্য সে ডাকাতদের হাতে সোনার
চেনটি দেয়নি।
Q.1 অরুণিমা
প্রথমে কোন পর্বতে আরোহণ করেছিলেন? তার উচ্চতা কত?
ANS:- অরুণিমা প্রথমে লাদাখে অবস্থিত শামসের কাংরিতে আরোহণ করেছিলেন। তার উচ্চতা
ছিল ২১৭১৮ ফুট।
Q.1 কোন
ক্রিকেটার অরুণিমাকে বিশেষ অনুপ্রেরণা দিয়েছিলেন? তিনি নিজে কোন্ অসুখে ভুগছিলেন?
ANS:- ক্রিকেটার যুবরাজ সিং। তিনি ক্যান্সার রোগে আক্রান্ত ছিলেন।
Q.1 অরুণিমা
যে রেলগাড়িতে চড়ে ছিল, সেটি কোথা থেকে কোথা আসছিল?
ANS:- অরুণিমা যে রেলগাড়িতে উঠেছিল সেটি লখনউ থেকে দিল্লি অভিমুখে আসছিল।
Q.1 অরুণিমার
বাড়ী কোথায় ছিল? ডাকাতরা তার সঙ্গে যে ঘটনাটি করল সেটা কত সালের?
ANS:- অরুণিমার বাড়ি উত্তর প্রদেশে। সে ঘটনাটি ২০১১ সালের।
Q.1 অরুণিমা
কত ঘণ্টা সময় রেললাইনের কাছে পড়ে ছিল এবং সে সময় সীমায় কতটি রেলগাড়ি এই লাইনে
অতিক্রম করেছিল?
ANS:- অরুণিমা প্রায় সাত ঘণ্টা সময় রেল লাইনের কাছে পড়ে ছিল। সে সময়ে এই লাইন
দিয়ে ৩৯টি রেলগাড়ি অতিক্রম করেছিল।
Q.1 অরুণিনার
কষ্টকর দিনগুলিতে মনোবল অটুট রেখে এগিয়ে যেতে কারা সহায়তা করেছিল?
ANS:- অরুণিমার বোন এবং এভারেষ্ট বিজয়ী বাচেন্দ্রী পালের।
Q.1 এভারেষ্ট
বিজয়ের জন্য ভারত সরকার অরুণিমাকে কত সালে এবং কোন সম্মানে বিভূষিত করেছিল?
ANS:- এভারেষ্ট বিজয়ের জন্য ভারত সরকার অরুণিমাকে ২০১৫ সালে ‘পদ্মশ্রী’ সম্মানে
বিভূষিত করেছিল।
Q.1 এভারেষ্টের
চূড়ায় উঠার পরই অভিযাত্রীদের কেন তাড়াতাড়ি অবতরণ করতে হয়?
ANS:- এভারেষ্টের শিখরে উঠার সঙ্গে সঙ্গেই অনেক অভিযাত্রীদের সঙ্গে নেওয়া
অক্সিজেন শেষ হওয়ার পথে থাকে। আর অক্সিজেন শেষ হয়ে গেলে তাদের প্রাণনাশের আশঙ্কা
থাকে। তাই এভারেষ্টের বুকে পা রেখেই তারা দ্রুত নেমে আসতে বাধ্য হয়।
Q.1 অরুণিমা
দেশের অন্যান্য মহিলাদের উদ্দেশ্যে কী বলেছিল?
ANS:- এভারেষ্ট জয়ের পর অরুণিমার উচ্ছসিত বাণী ছিল এই, এদেশের
বুকে তার মতো লক্ষ লক্ষ মহিলা আছেন যাদের মধ্যে লুকিয়ে আছে প্রতিভা, সে
প্রতিভা বিকাশের জন্য দরকার সামান্য আশ্বাস আর সহায়তা। তার নিজের ভাষায় আমি
মাত্র একজন অরুণিমা নই, আমার মতো হাজার হাজার অরুণিমা রয়েছে। আপনারা তাদের চিহ্নিত
করে জীবনের পথে এগিয়ে যেতে, সাফল্য পেতে প্রেরণা দিলে সত্যিকার অর্থে দেশের কাজ হবে।
Q.1 অরুণিমা
কোথা থেকে যাত্রা করে কতদিন পর হিমালয়ের চূড়ায় উঠেছিল?
ANS:- অরুণিমা নেপালের কাঠমাণ্ডু থেকে যাত্রা করে ৫২দিন পর হিমালয়ের চূড়ায়
পৌছেছিল।
Q.1 অরুণিমা
কখন এবং কত মিটার উচ্চতায় অবস্থিত মাউন্ট এভারেষ্টে পদার্পণ করতে সক্ষম হয়?
ANS:- রাত ৮ টায় ৮৮৪৮ মিটার উচ্চতায় অবস্থিত এভারেষ্টের শিখরে পদার্পণ করতে
সক্ষম হয়। তারিখটি ছিল ২১মে ২০১৩ খ্রিঃ।
ASSAM SEBA/SMEBA CLASS 10 BENGALI QUESTIONS & ANSWERS
সেবা দশম শ্রেনী বাংলা প্রশ্ন এবং উত্তর
অরুণিমা সিনহা : আত্মবিশ্বাস এবং সাহসের অন্য নাম
ছোট প্রশ্নোত্তর
Q.1 অরুণিমা
কী কী সম্মান লাভ করেছিল?
ANS:- অরুণিমা তার দুঃসাহসিক এভারেষ্ট অভিযানের জন্য ভারত সরকার প্রদত্ত ‘পদ্মশ্রী’ সম্মান লাভ করে ২০১৫ সালে। এই বছরই অর্থাৎ
২০১৫ সালে ‘তেনজিং নোরগে’ সম্মান লাভ করে। তাছাড়া ২০১৪ সালে সে ভূতপূর্ব রাষ্ট্রপতি ড° এ. পি, জে আব্দুল
কালামের নিকট থেকে ‘অ্যামেজিং ইণ্ডিয়ান
অ্যাওয়ার্ড’ লাভ করে।
Q.2 কারা
কারা অরুণিমাকে অনুপ্রেরণা দিয়েছিল?
ANS:- যারা অরুণিমাকে তার স্বপ্ন এভারেষ্ট বিজয়ে অনুপ্রেরণা দিয়েছিলেন তাদের
মধ্যে সর্বপ্রথম উল্লেখ করা যায় - এভারেষ্ট বিজয়িনী মহিলা বাচেন্দ্রী পালের নাম
যিনি মেয়েটির চোখের স্বপ্ন, চ্যালেঞ্জ এবং আত্মপ্রত্যয় দেখে সাহায্যের
হাত বাড়িয়ে দিয়েছিলেন।
তার মনোবল আরও বাড়িয়ে দিয়েছিলেন যিনি তিনি
হলেন ক্যান্সার আক্রান্ত প্রখ্যাত ক্রিকেটার যুবরাজ সিং। তাছাড়া তার বোনও মনোবল
অটুট রেখে এগিয়ে যেতে অনুপ্রেরণা দিয়েছিল।
Q.3 স্টিফেন
হকিং কে? তার কী অসুবিধা ছিল ?
ANS:- স্যার স্টিফেন উইলিয়াম হকিং ছিলেন পৃথিবী বিখ্যাত পদার্থ বিজ্ঞানী এবং
গণিতজ্ঞ। তিনি মোটর নিউরন রোগে আক্রান্ত হয়ে হুইল চেয়ারে শায়িত
ছিলেন। এ অবস্থায়ও সাফল্য সহকারে তিনি তার গবেষণা চালিয়ে গিয়েছিলেন।
Q.4 ‘আমাদের অবাধ্য হবার পরিণতি কী হতে পারে জানিস?' উক্তিটি কার? কার প্রতি
করেছে? প্রসঙ্গটি উল্লেখ করো।
ANS:- উক্তিটি চলন্ত ট্রেনের ডাকাত দলের। তারা সাহসী যুবতী অরুণিমার প্রতি এই
উক্তিটি করেছিল।
উত্তর প্রদেশের বাসিন্দা অরুণিমা একবার লখনউ
থেকে দিল্লীগামী ট্রেনে যাত্রা করেছিল। অরুণিমা যে কামরায় উঠেছে সে কামরায় হঠাৎ একদল ডাকাতের
আবির্ভাব ঘটে। অরুণিমা ছাড়া বাকী যাত্রীরা ভয়ে নির্বিবাদে নিজেদের গয়না গাঁটি
সমঝে দিয়ে প্রাণভিক্ষা চাইল। একমাত্র ব্যতিক্রমী ছিল অরুণিমা। তাই ডাকাত দল তাকে
এভাবে হুসিয়ারী দিয়েছিল।
Q.5 দিল্লির
অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অব মেডিক্যাল সায়েন্স-এ চিকিৎসারত থাকাকালে অরুণিমার এই
দুর্ঘটনার কারণ সম্বন্ধে কারা কী মন্তব্য করেছিল?
ANS:- হাসপাতালটিতে থাকাকালে অরুণিমার সাহসী পদক্ষেপের কথা কেউ জানতে পারেনি।
তাই তারা বাহবা না দিয়ে উল্টে কেউ কেউ বলেছে - টিকিট ছাড়া ভ্রমণ করছিল বলে টিটি
যখন তার কাছে টিকিট চাইল তখনই সে কামরা থেকে ঝাপ দিয়েছিল। আবার কেউ বা বলল অন্য
কারণে অরুণিমা আত্মহত্যার জন্য রেললাইনে গিয়েছিল ইত্যাদি নানা কথা।
Q.6 ‘তিনিই তাকে সঠিক পথ দেখিয়ে পরামর্শ দিতে পারবেন’ - তিনি কে? কাকে, কিসের পথ
দেখিয়ে দিতে পারবেন?
ANS:- এখানে তিনি বলতে প্রথম এভারেষ্ট বিজয়িনী মহিলা বাচেন্দ্রী পালের কথা বলা
হয়েছে। কাকে বলতে বিকলাঙ্গী অরুণিমা সিনহার কথা বলা হয়েছে। হাসপাতালের বিছানায়
শুয়ে থাকার সময় হিমালয়ের শিখরে চড়ার স্বপ্ন তীব্র হয়েছিল। অরুণিমা মনে মনে
স্থির সিদ্ধান্ত নিয়েছিল যে বাচেন্দ্ৰী পালের সাহায্য পেল সে তার স্বপ্নকে সাকার
করতে পারবে।
Q.7 ‘তার আঙক্ষা দেখে অনেকেই তাকে পরামর্শ দিয়ে বলেছিলেন' - কারা তাকে কী
পরামর্শ দিয়েছিল?
ANS:- এখানে অরুণিমা সিনহার আকাঙ্ক্ষার কথা বলা হয়েছে!
বিকলাঙ্গ অরুণিমার উচ্চ আশা দেখে অনেকে তাকে
পরামর্শ দিয়ে বলেছিলেন, একটি কৃত্রিম পা আর অন্য়টি থেকেও না থাকার মতো, পর্বত আরোহণ যা অতি কঠিন কৌশল এবং পরিশ্রম সাপেক্ষ ব্যাপার, তাতে এরকম
অবস্থায় সাফল্য লাভ করা অরুণিমার পক্ষে সম্ভব হবে না। তারা আরও বলেছিল, কঠিন কাজে
অগ্রসর হওয়া আর জীবনকে বিপন্ন করা একই কথা হবে।
Q.8 যুবরাজ
সিং-এর মানসিক শক্তির উদাহরণ অরুণিমার লক্ষ্যে পৌঁছাতে কীভাবে সাহায্য করেছিল?
ANS:- পাঞ্জাববাসী যুবরাজ সিং একজন প্রখ্যাত ক্রিকেটার। তিনি ক্যান্সার রোগে
আক্রান্ত হয়েছিলেন। আবার তার জীবনেও বড়ো হওয়ার স্বপ্ন ছিল। এই মারণ ব্যাধি হলে
মানুষ সাধারণত জীবনের আশা ছেড়ে মনোবল ভেঙ্গে ফেলে। কিন্তু যুবরাজ সিং এর
ব্যতিক্রম। সে তার নিজের অদম্য মানসিক শক্তিতে সেই মারণ ব্যাধি থেকে আরোগ্য লাভ
করে এবং জীবনে সফলতা লাভ করে।
অরুণিমার চোখের সামনে ছিল যুবরাজের সেই ছবি।
যুবরাজ তাকে দেখিয়ে দিয়েছিলেন যে মনের বল আর আত্মবিশ্বাস থাকলে শারীরিক বাধা
অন্তরায় সৃষ্টি করতে পারে না।
Q.9 টীকা
লেখো।
(ক) স্টীফেন হকিঙ (খ) একলব্য (গ) তৃতীয় পাণ্ডব
অর্জুন।
ANS:-
(ক) স্টীফেন হকিঙ - কেম্ব্রিজ
বিশ্ববিদ্যালের অধ্যাপক স্টফেন হকিং ১৯৪২ সালের জানুয়ারি মাসের ৮ তারিখ
ইংল্যাণ্ডের অক্সফোর্ডে জন্মগ্রহণ করেন। তাত্ত্বিক পদার্থবিজ্ঞানী ও গণিতজ্ঞ
হিসেবে তিনি বিশ্বব্যাপী পরিচিতি লাভ করেন। তারপর কেম্ব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের
লুকাসিয়ান অধ্যাপক হিসেবে কাজে যোগ দেন। ২০০৯-র ১ অক্টোবর সেখান থেকে অবসর নেন।
মোটর নিউরন রোগে ভুগে শারীরিকভাবে অচল হয়ে
হুইল চেয়ারে শায়িত হওয়া সত্ত্বেও হকিং বহু বছর সাফল্যের সঙ্গে গবেষণা চালিয়ে
যান। তার শ্রেষ্ঠ বইগুলির মধ্যে ‘ব্রিফ
হিস্টোরি অব টাইম’ উল্লেখযোগ্য। ‘ব্ল্যাকহোল’, ‘কৃষ্ণগহ্বর’ ও ‘আপেক্ষিকতা’ নিয়ে গবেষণার
জন্য তিনি বিখ্যাত ছিলেন। ১৪ই মার্চ ২০১৮খ্রিঃ তিনি পরলোক গমন করেন।
(খ) একলব্য - মহাভারতে বর্ণিত এক
নিষাদ সন্তান একলব্য। সে গিয়েছিল গুরু দ্রোণাচার্যের কাছে ধনুর্বিদ্যা শিখতে। কিন্তু গুরু দ্রোণাচার্য তাকে নীচ জাতি বলে প্রত্যাখ্যান
করেন। কেননা তিনি কৌরব ও পাণ্ডব রাজকুমারদের অস্ত্র শিক্ষাগুরু, তাই তাকে শিষ্য করে নিলে তার হবে অখ্যাতি।
একলব্য কিন্তু গুরুর প্রতি শ্রদ্ধা হারায়
নি। সে জঙ্গলে এসে ওরু দ্রোণাচার্যের মূর্তি তৈরি করে তারই সম্মখে তীর চালানো
বিদ্যে অভ্যাস করতে লাগল। শেষ পর্যন্ত সে নিজের সাধনা আর একাগ্রতার বলে সিদ্ধিলাভ
করে। সে শব্দভেদী বাণ নিক্ষেপ করে সকলকে তাক লাগিয়ে দেয়। গুরুদক্ষিণা স্বরূপ
নিজের বুড়ো আঙ্গুল দান করে। সে স্মরণীয় হয়ে আছে।
(গ) তৃতীয় পাণ্ডব অর্জুন - মহাভারতে
বর্ণিত হস্তিনাপুরের রাজা পাণ্ডুর তৃতীয় পুত্র অর্জুন। তিনি পৃথিবী বিখ্যাত
ধনুর্ধর।
অজুন গুরু দ্রোণাচার্যের প্রিয় শিষ্য ছিলেন।
একবার অস্ত্র শিক্ষা পরীক্ষার জন্য শুরু দ্রোণাচার্য যখন রাজকুমারদের নিয়ে বনে
যান তখন তাদের সঙ্গে ছিল একটি কুকুর। কুকুরটি ধ্যানরত একলব্যকে দেখে ‘ঘেউ ঘেউ’ শব্দ করতে লাগল। সেই শব্দে একলব্যের ধ্যান ভঙ্গ হলে তিনি
শব্দভেদী বাণ নিক্ষেপ করে কুকুরটির শব্দ বন্ধ করে দেন। এতে অর্জুনের ভীষণ অভিমান হয় গুরুর উপর। তাই অর্জুন এই
বিদ্যে আয়ত্ব করতে সারারাত ঘন অন্ধকারের মধ্যে ধৈর্য্যের সহিত গভীর অরণ্যের মধ্যে
গিয়ে অবস্থান করেন। সেখানে শব্দ অনুসরণ করে তীর ছোড়ার অভ্যাস করে এই শব্দভেদী
বাণ নিক্ষেপ করা আয়ত্ব করতে সফল হয়েছিলেন। অরুণিমাও একইভাবে ধৈর্য্যের পরীক্ষা
দিয়ে সফলতা লাভ করেছে।
Q.10 “তার আকাঙক্ষা দেখে অনেকেই তাকে পরামর্শ দিয়েছিলেন।” - উদ্ধৃতাংশটি
কোন পাঠের? ‘তাকে’ বলতে কার কথা বলা হয়েছে? পরামর্শ কী
ছিল?
ANS:- উদ্ধৃতাংশটি “অরুণিমা সিনহা : আত্মবিশ্বাসের অন্য এক
নাম” নামক পাঠের। তাকে বলতে অরুণিমা সিনহার কথা বলা হয়েছে।
তার প্রতি সুহৃদদের পরামর্শ একটি কৃত্রিম পা, আর অন্যটি
থেকেও না থাকার মতো, এটা নিয়ে হিমালয় আরোহণ, যা অতি কঠিন কৌশল এবং শ্রমসাধ্য ব্যাপার, সুতরাং
এরকম কাজের ঝুঁকি নিয়ে জীবনকে বিপন্ন করার প্রয়োজন নেই।
ASSAM SEBA/SMEBA CLASS 10 BENGALI QUESTIONS & ANSWERS
সেবা দশম শ্রেনী বাংলা প্রশ্ন এবং উত্তর
অরুণিমা সিনহা : আত্মবিশ্বাস এবং সাহসের অন্য নাম
দীর্ঘ প্রশ্নোত্তর
Q.1 অরুণিমা
কোন ঘটনায় পা হারিয়েছিলেন? এই ঘটনা কি তাকে তার লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত করতে পেরেছিল?
ANS:- লখনউ থেকে দিল্লিগামী ট্রেনে অন্যান্য যাত্রীদের সঙ্গে সফরকালীন অরুণিমা
ডাকাতদলের খপ্পরে পড়ে। ডাকাতের হুমকিতে ভয় পেয়ে অন্যান্য যাত্রীরা যখন প্রাণের
ভয়ে নিজ নিজ টাকা কড়ি সহ গয়নাগাটি ডাকাতদের হাতে তুলে দেয়, তখন অসম
সাহসিনী ছাব্বিশের যুবতী অরুণিমা ডাকাতদের বিরুদ্ধে রুখে দাড়ায়। ডাকাতদের বার
বার হুসিয়ারে সাড়া না দেওয়ায় ওরা অরুণিমাকে চলন্ত ট্রেনের দরজা খুলে চ্যাংদোলা
করে বাইরে ছুঁড়ে ফেলে দেয়। এ ঘটনায় অরুণিমা তার দুটি পা হারায়।
অরুণিমাকে ডাকাতদল বাইরে ছুঁড়ে ফেলে দিলে
বিপরীতগামী ট্রেনে ধাক্কা লেগে সে মাটিতে অচেতন হয়ে পড়ে। ভোরবেলা লোকেরা উদ্ধার
করে তাকে প্রথমে বেরিলি হাসপাতালে এবং পরে দিল্লির ‘অল ইণ্ডিয়া ইনস্টিটিউট অব মেডিক্যাল
সায়েন্স’ এ ভর্তি করে। সেখানে নানা লোকের
কাছ থেকে রোগীর বিছানায় শুয়ে শুয়ে সে নানাজনের বিরুপ মন্তব্য শুনতে পায়। এসব
কাহিনিই তার আত্মবিশ্বাসকে আরও দৃঢ় করে। একে তো অরুণিমা সাহসিনী ছিলই, তাতে লোকের
বিরূপ মন্তব্য তার উৎসাহকে আরও বাড়িয়ে দেয়। হাসপাতালের শয্যা থেকেই সে হিমালয় জয়ের
কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়ে নেয়। তার দুর্ঘটনাজনিত পা হারানোর যন্ত্রণাও তাকে
লক্ষ্যচ্যুত করতে পারে নি।
Q.2 পর্বত
অভিযানে অরুণিমা কী ধরনের বাধার সম্মুখীন হয়েছিল? এবং কীভাবে তা অতিক্রম করেছিল?
ANS:- ডাকাতদলের খপরে পড়ে সাংঘাতিক আহত হলে অরুণিমাকে হাসপাতালে ভর্তি করা
হয়েছিল। তার দু’টি পা-ই অকেজো হয়ে পড়ে। নানা লোকের বিরূপ মন্তব্যে জেদি ও
সাহসিনী অরুণিমা এভারেষ্ট জয়ের স্বপ্নে বিভোর হয়ে পড়ে।
হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েই সে সোজা চলে যায়
এভারেষ্ট বিজয়িনী বাচেন্দ্ৰী পালের কাছে। তাকে তার স্বপ্ন ও লক্ষ্য দুটিই খুলে
বলে। বাচেন্দ্ৰী পাল তার দুচোখে আত্মপ্রত্যয়ের অগ্নিশিখা দেখে তাকে প্রশিক্ষণ
দিতে রাজী হয়ে যান।
অরুণিমা প্রথমে উত্তর কাশীতে ইকো এভারেষ্ট
এক্সিপিডিশনে ও পরে টাটা স্টীল এডভেঞ্চার ফাউণ্ডেশনে বাচেন্দ্ৰী পালের
তত্ত্বাবধানে প্রায় একবছর অনুশীলন চালায়। প্রথম এভারেষ্ট অভিযান সার্থক হয় নি।
লাদাখের শামসের কাংরির উচ্চতম শিখরের ৬৯০ ফুট বাকী থাকতেই ফিরে আসতে হয়। কিন্তু
তার প্রথম প্রচেষ্টার ব্যর্থতা কেটে যায় যখন সে শুনে ভারতীয় ক্রিকেটারের মারণ
ব্যাধি ক্যান্সার জয়ের কাহিনি। এবার দ্বিগুণ উৎসাহে অরুণিমা এগিয়ে যায়।
পিছনে উৎসাহদাত্রী ছিলেন তার বোন এবং বাচেন্দ্ৰী পাল স্বয়ং। চার নং ক্যাম্পে
পৌছার পর তার পা ভয়ংকর রক্তাক্ত হয়ে যায়। সঙ্গের শেরপা ভীত হয়ে তাকে সতর্ক করে
দেন। সঙ্গে নেওয়া অক্সিজেনের পরিমাণও কমতে থাকে। কিন্তু অরুণিমা আগের ভুল আর করল
না। সে শেষ দেখেই ছাড়ল। প্রচণ্ড পরিশ্রমে ও অদম্য মনোবলের দ্বারা সে কাঠমাণ্ডু
থেকে যাত্রা শুরু করে। দীর্ঘ ৫২ দিন পর ২১শে মে ২০১৩ খ্রিষ্টাব্দে রাত ৮টায় ৮৮৪৮
মিটার উচ্চতায় অবস্থিত মাউন্ট এভারেষ্টের শিখরে সে পা রাখতে সক্ষম হয়। দীর্ঘ
দেড় ঘণ্টা সেখানে অবস্থানকালে সে সেখানে ভারতের জাতীয় পতাকা উত্তোলন করে। এভাবেই
অরুণিমা এভারেষ্ট জয় করেছিল।
Q.3 অরুণিমা
সিনহার এভারেষ্ট বিজয়ের কাহিনি বর্ণনা করো।
ANS:- দৃঢ় সংকল্পের অধিকারিণী অরুণিমা হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে শুয়েই তার পথ
ঠিক করে নেয়। তাই যেখানে সাধারণ রোগীরা হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়ে নিজের বাড়িতে
ফিরে যায়, সেখানে অরুণিমা সোজা চলে যায় তার লক্ষ্যের গুরু এভারেষ্ট
বিজয়ী বাচেন্দ্ৰী পালের কাছে।
জহুরী বাচেন্দ্ৰী পাল জহর চিনতে ভুল করলেন
না। অরুণিমার দু'চোখের স্বপ্ন ও আত্মপ্রত্যয় দেখে বুঝে নিলেন ওকে সঠিক
প্রশিক্ষণ দিলে একদিন ঠিক লক্ষ্যে পৌছতে পারবে। তবে শুভাকাঙক্ষী অনেকেই তার
বিকলঙ্গতার জন্য জীবনের ঝুঁকি না নিয়ে বরং সাধারণ জীবনযাপনের পরামর্শ দিলেন।
কিন্তু রক্তে যার অদম্য নেশা সে থামবে কেন? হাসপাতালে
যে কৃত্রিম পা লাগানো হয়েছিল সেটি পর্বত আরোহণের উপযোগী ছিল না। অরুণিমা ষাট
হাজার টাকা বিভিন্ন সহৃদয় ব্যক্তির কাছ থেকে সংগ্রহ করে নতুন পা লাগাল। এবার
প্রথমে উত্তর কাশীর ইকো এভারেষ্ট এক্সিপিডিশন গ্রুপে এবং পরে টাটা স্টীল এডভেঞ্চার
ফাউন্ডেশনে বাচেন্দ্ৰী পালের তত্ত্বাবধানে এক বছর অনুশীলন শুরু করল।
প্রথম হিমালয় জয়ের প্রচেষ্টা ৬৯০ ফুট বাকী
থাকতেই থেমে যায়। তার ব্যর্থতার গ্লানি কাটাতে সাহায্য করল ক্রিকেটার যুবরাজ
সিংহের মরণব্যাধি ক্যান্সারকে জয় করবার কাহিনি।
এবার দ্বিতীয় প্রচেষ্টা। চার নং ক্যাম্পে
পৌঁছতেই তার পা থেকে রক্ত পড়ে ভয়ংকর অবস্থার সৃষ্টি হয়। সঙ্গে আনা অক্সিজেনও
শেষ হওয়ার পথে। পর্বত আরোহণের সঙ্গী শেরপা তাকে বারবার সাবধান করলেও সে ফিরে গেল
না। যাত্রাপথে অনেক ব্যর্থ পর্বতারোহীর মৃতদেহ দেখেও সে মনোবল হারাল না। অবশেষে
কাঠমাণ্ডু থেকে দীর্ঘ ৫২ দিন পর ২১শে মে ২০১৩ তারিখ রাত ৮টায় সে ৮৮৪৮ মিটার উচ্চ
মাউন্ট এভারেষ্টের শিখরে পা রাখে। প্রায় দেড় ঘণ্টা এভারেষ্ট্রে অবস্থানকালে
অরুণিমার হাতে ছিল ভারতের জাতীয় পতাকা।
Q.4 এটি
আমার মায়ের দেওয়া আশীর্বাদ, এটি শুধু একটা চেন নয়।' - তাৎপর্য নির্ণয় করো।
ANS:- “অরুণিমা
সিনহা : আত্মবিশ্বাস ও সাহসের অন্য নাম” রচনায় অরুণিমা বছর ছাব্বিশের এক তরুণী। লখনউ থেকে দিল্লিগামী ট্রেনে
যাত্রাকালে অন্যান্য যাত্রীসহ ডাকাতদলের খপরে পড়ে। ডাকাতদের হুমকিতে ভীত যাত্রীরা
নিজেদের সর্বস্ব অর্থাৎ গয়নাগাটি টাকা-কড়ি সব ডাকাতদলকে দিয়ে দেয়। অরুণিমার
গলায় মায়ের দেওয়া আশীর্বাদী একটি চেন ছিল। ডাকাতদল সেটা খুলে দিতে অরুণিমাকে
বললে অরুণিমা রাজি হয় নি। কারণ সেটা ছিল মায়ের স্নেহের উপহার। সে সেটাকে বস্তু
হিসেবে দেখে নি, দেখেছে মায়ের স্নেহ বা আশীর্বাদ হিসেবে। মায়ের আশীর্বাদ
তার কাছে থাকলে ভয় বা কোন বিপদ তার কাছে আসবে না। দ্বিতীয়ত, ওটা
মায়ের দেওয়া একটি স্মৃতিও বটে। এই চেনটার সঙ্গে তার মায়ের উপস্থিতিও জড়িয়ে আছে। তাই
ডাকাতদের কাছে এটার মূল্য শুধু টাকার মুল্যের নিরিখেই, অরুণিমার
কাছে ওটার মূল্য শুধু টাকা নয় এক গভীর আত্মবিস্বাস ও আশীর্বাদ।
Q.5 “অরুণিমা সিনহা
: অবিশ্বাস ও সাহসের অন্য এক নাম” পাঠটির সারাংশ
লেখো।
ANS:- ২০১১ সালের ঘটনা। জাতীয় পর্যায়ের ভলিবল খেলোয়াড় উত্তর প্রদেশের
বাসিন্দা ছাব্বিশ বছরের অরুণিমা সিনহা রেলে চড়ে লখনউ থেকে দিলি অভিমুখে রওয়ানা দিয়েছে। সে যে কামরায় উঠেছে
সে কামরায় হঠাৎ একদল ডাকাতের আবির্ভাব ঘটে। যাত্রীরা ভয়ে, বিনা
প্রতিবাদে নিজেদের টাকা পয়সা, গয়নাগাটি সমঝে দিয়ে প্রাণ ভিক্ষে চাইল। এ ব্যাপারে
ব্যতিক্রম দেখা গেল অরুণিমার ক্ষেত্রে। ডাকাত সর্দার যখন তার গলার চেনটি চাইল সে
প্রতিবাদ করে চেন দেওয়া থেকে বিরত থাকল। এর ফল স্বরূপ ডাকাত দল চলন্ত ট্রেনের
দরজা খুলে তাকে বাইরে ছুঁড়ে ফেলে দিল। ইঞ্জিনের শব্দে অরুণিমার কণ্ঠ চাপা পড়ে
যায় রাতের অন্ধকারে। ভোরবেলা লোকের নজরে পড়ায় প্রথমে তাকে বেরিলি হাসপাতালে এবং
পরে অল ইণ্ডিয়্য ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল সাইন্স-এ ভর্তি করা হয়। হাসপাতালের
শয্যায় থাকাকালীন তার এই সাহসী পদক্ষেপে কেউ বাহবা দেয়নি, উপরন্তু
করেছে বিরূপ মন্তব্য। সে সকল মন্তব্যকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়ে নূতন করে বাঁচার
জন্য বুক বাঁধে।
এ ঘটনায় অরুণিমা প্রাণে বাঁচল ঠিকই কিন্তু
একটি পা চিরদিনের জন্য হারালে। তাসত্ত্বেও মেয়েটি দমে যায়নি। তার এক পায়ে নকল
পা বসানো হল, অন্যপায়ে লোহার রড নিয়ে সে যা সিদ্ধান্ত নিল তা রীতিমত
অবাক করার মতো। সে খোঁড়া
হয়েও হিমালয় জয়ের স্বপ্নে মশগুল হয়ে বাচেন্দ্র পাল যিনি এভারেষ্ট বিজয়ী তার
সঙ্গে যোগাযোগ করে। বাচেন্দ্র পাল তার পঙ্গুত্বের জন্য প্রথমে নিরুৎসাহ করলেও
মেয়েটির আত্মপ্রত্যয়ের কাছে হার মেনে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন এবং তার
তত্ত্বাবধানে বছর খানেক পাহাড় আরোহণের প্রশিক্ষণ দেন। অবশেষে লাদাখে অবস্থিত
শামসের কাংরির ২১৭১৮ ফুট উচ্চতায় আরোহণ করতে সে সক্ষম হয়। পরবর্তী শিখরের মাত্র
৬৯০ ফট অতিক্রম করতে বাকি থাকতেই তাকে নীচে নামতে বাধ্য করা হয়।
মাউন্ট শামসের কাংরির উচ্চতম শিখরে না ওঠার
বেদনা অরুণিমার মনোবল দমাতে পারেনি, বরং ২১১০৮ ফুট ওপরে যাবার মনোবল তাকে আরও
দৃঢ় করে তুলল। প্রচণ্ড পরিশ্রম, অদম্য মনোবল এবং কষ্ট সহিষ্ণুতার ফল অবশেষে মিলল। কাঠমন্ডু
থেকে সে রওয়ানা হয়ে ৫২ দিন পর রাত ৮ টায় ৮৮৪৮ মিটার উচ্চতায় অবস্থিত মাউন্ট
এভারেষ্টের শিখরে পা ফেলতে সক্ষম হয়। ভারতের জাতীয় পতাকা হাতে দণ্ডায়মান
অরুণিমার ছবি তুলে সঙ্গী শেরপা। সে প্রায় দেড়ঘণ্টার মতো সেখানে ছিল। তারিখটি ছিল
২১মে ২০১৩ খ্রিঃ। তার এই মৃত্যুঞ্জয়ী সাফল্যে সে লাভ করেছে ভারত সরকারের শ্রেষ্ঠ
সম্মান ‘পদ্মশ্রী’(২০১৫)। তাছাড়াও ‘তেনজিং নোরগে’ সম্মান, ‘অ্যামেজিং
ইণ্ডিয়ান অ্যাওয়ার্ড’ ইত্যাদি সাম্মানিকও সে লাভ করে। অরুণিমার মতো
লক্ষ লক্ষ নারী ভারতের বুকে রয়েছেন, কেবল তাদের মধ্যে লুকিয়ে থাকা আত্মার
বিকাশের ক্ষেত্রে সামান্য আশ্বাস, সহমর্মিতা আর সহযোগিতার প্রয়োজন।
Q.6 “অরুণিমা সিনহা : অনিশ্বাস ও সাহসের অন্য এক নাম” পাঠটির নামকরণের সার্থকতা বিচার করো।
ANS:- যে কোন সাহিত্যকর্মে নামকরণ বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। গুরুত্বপূর্ণ এই কারণে যে, নামকরণ
যেমন কোন রচনার ভিতরে প্রবেশের চাবিকাঠি, তেমনি নামকরণের মধ্য দিয়ে বিষয়বস্তুর একটা
আভাস মিলে। নামকরণ বিভিন্নভাবে হয়। কখনো চরিত্রকেন্দ্রিক যেমন - রবীন্দ্রনাথের
বলাই, বঙ্কিমচন্দ্রের কপালকুণ্ডলা। কখনো ব্যঞ্জনাধর্মী- যেমন তুলসী লাহিড়ির ছেড়াতার। আবার কখনো বা
ঘটনা প্রধান বা বিষয়কেন্দ্রিক। আমাদের আলোচ্য অরুণিমা সিনহা : আত্মবিশ্বাস ও সাহসের অন্য
এক নাম পাঠটিতে চরিত্রকেন্দ্রিক নামকরণ করা হয়েছে। “অরুণিমা সিনহা : আত্মবিশ্বাস ও সাহসের অন্য
এক নাম” শীর্ষক রচনায় অরুণিমা কীরূপে তার মৃত্যুঞ্জয়ী সাহসিকতার
পরিচয় দিয়েছে সে কাহিনি বর্ণিত হয়েছে। ছাব্বিশ বছরে অরুণিমা ট্রেনের যে কামরায়
উঠে, ট্রেনটি লখনউ থেকে দিল্লি আসছিল। সে কামরায় হঠাৎ একদল ডাকাতের আবির্ভাব ঘটে। ডাকাত দলের
ভয়ে চলন্ত কামরায় যাত্রীরা বিনা প্রতিবাদে নিজেদের প্রাণের মায়ায় সঙ্গে থাকা
টাকা পয়সা, অলংকারাদি ডাকাত দলের হাতে তুলে দিল। ব্যতিক্রমী ছিল
অরুণিমা। সে কোনো অবস্থায় তার গলার চেন ডাকাতদের হাতে তুলে না দিয়ে প্রতিবাদ
করল। এর ফলস্বরূপ ডাকাত দল তাকে চ্যাংদোলা করে তুলে নিয়ে চলন্ত ট্রেন থেকে দরজা
খুলে বাইরে অন্ধকারে ছুঁড়ে দিল।
পরদিন ভোরবেলা লোকজন তাকে প্রথমে বেরেলি
হাসপাতালে ও পরে দিল্লির অল ইণ্ডিয়া ইনস্টিটিউট অব মেডিক্যাল সায়েন্স এ চিকিৎসার
ব্যবস্থা করে। সে সময়ে তার এই দুর্ঘটনার কারণ নিয়ে নানা কুমন্তব্য তাকে রোগীর
বিছানায় শুয়ে শুনতে হল। তার আত্মসম্মানে লাগল আঘাত। সকল কথাকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে
নিয়ে নৃতন করে, বাঁচার জন্য সে তখন চক বাঁধল।।
সে প্রাণে বাঁচল ঠিকই কিন্তু একটি পা
চিরদিনের জন্য হারাল। অন্য একটি পায়ে লোহার রড ঢুকিয়ে তার সাহায্যে চলাফেরা করতে
সক্ষম হল। হাসপাতালে থাকার সময় তার মনে হিমালয়ের শিখরে উঠবার স্বপ্ন এত তীব্র
হয়েছিল যে এই স্বপ্নের জন্যই সে শরীরের সকল যন্ত্রণা ভুলেছিল। সে স্বপ্ন সাকার
করবার জন্য সে এভারেষ্ট বিজয়ী বাচেন্দ্র পালের সাহায্য চাইল।
মেয়েটির চোখের স্বপ্ন আর আত্মপ্রত্যয় দেখে
বাচেন্দ্র পাল তাকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিলেন। অরুণিমা উত্তর কাশীতে থাকা ইকো
এভাবেষ্ট এক্সিপিডিশন গ্রুপে যোগ দিল। সেখানে বাচেন্দ্র পালের তত্ত্বাবধানে তার
অনুশীলন চলল। বছর খানেক অধ্যবসায়ের পর লাদাখে অবস্থিত শামসের কাংরির ২১৭১৮ ফুট উচ্চতায়
আরোহণ করতে সে সক্ষম হল। কিন্তু কাংরির উচ্চতম শিখরের মাত্র ৬৯০ ফুট অতিক্রমের
বাকী থাকতেই সে নীচে নেমে আসতে বাধ্য হয়। মাউন্ট শামসের কাংরির শিখরে না ওঠার
বেদনা কিন্তু অরুণিমার মনোবল কমাতে পারেনি। সে তার মনের মধ্যে মাউন্ট এভারেষ্টে
যাওয়া যে সম্ভবপর সেটি আরও দৃঢ় করে তুলল। অবশেষে অদম্য সাহস এবং উৎসাহ নিয়ে সে
এগিয়ে চলল। প্রচণ্ড পরিশ্রম, অদম্য, মনােবল এবং কষ্ট সহিষ্ণুতার ফলে সে কাঠমাণ্ডু থেকে যাত্রা
শুরু করবার ৫২ দিন পর মাউন্ট এভারেষ্টের শিখরে পদার্পণ করতে সক্ষম হয়। সঙ্গী
শেরপা ভারতীয় পতাকা হাতে দণ্ডায়মান অরুণিমার ছবি তুলে দিয়েছিল। সে সেখানে ছিল
দেড় ঘণ্টার মতো সময়। এরপর সে লাভ করে বিভিন্ন প্রকার সাম্মানিক।
রচনাটিতে অরুণিমার আত্মবিশ্বাস ও সাহসের উপর
নির্ভর করে এভাবে অসাধ্য সাধন করলো। সমগ্র রচনাটিতে মূলভাব এই নামকরণের মধ্যেই প্রকাশ পেয়েছে
বলে নামকরণ সার্থক ও সংগতিপূর্ণ হয়েছে।
Q.7 “ভিন্ন ভিন্ন সময় এবং পরিবেশে এধরনের এক একজন ব্যক্তি নিজ
প্রতিভায় জাতীয় জীবনে উজ্জ্বল হয়ে ওঠেন, অন্য সহস্রজনের জন্য আশা এবং প্রেরণার উৎস হয়ে
ওঠেন।” -ব্যাখ্যা করো।
ANS:- আলোচ্য ব্যাখ্যানীয় অংশটুকু ড° জয়শ্রী গোস্বামী মহস্তের লেখা ‘অরুণিমা
সিনহা : আত্মবিশ্বাস ও সাহসের অন্য এক নাম’ নামক রচনা
থেকে নেওয়া হয়েছে।
এখানে খোঁড়া পর্বত আরোহী অরুণিমার দুঃসাহসী
অভিযান যে অন্যের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস, সে কথাই আলোচিত হয়েছে।
ডাকাতদের খপরে পড়ে এক পা হারালেও অরুণিমা
তার সংকল্প থেকে সরে যায়নি। বরং আরও জেদি হয়ে পড়ে। সে এভারেষ্ট জয়ের স্বপ্নে
বিভোর। এভারেষ্ট বিজয়ী বাচেন্দ্রী পালের নিকট থেকে নেওয়া প্রশিক্ষণ আর তার
আশীর্বাদ মাথায় নিয়ে সে প্রথমে লাদাখের শামসের কাংরির উচ্চতম শিখরে উঠতে যায়।
কিন্তু মাত্র ৬১০ ফুট বাকি থাকতেই সামান্য ভুলের জন্য তাকে ফিরে আসতে হয়। এসময়ে
ভারতীয় ক্রিকেটারের মারণব্যাধি ক্যান্সার জয়ের কাহিনি শুনে আবার দ্বিগুণ উৎসাহে
সে এগিয়ে যায়। চার নং ক্যাম্পে পৌছার পর তার পা ভয়ঙ্কর
রক্তাক্ত হয়ে যায়। কিন্তু তা সত্ত্বেও এবার আর আগের ভুল করল না। সে শেষ দেখেই
ছাড়ল। প্রচণ্ড পরিশ্রম ও অদম্য মনোবলের দ্বারা অরুণিমা কাঠমাণ্ডু থেকে যাত্রা
করার ৫২দিন পর এভারেষ্টের বুকে পা রাখল। এভাবে অরুণিমা সহস্র লোকের জন্য প্রেরণার
উৎস হয়ে উঠল।
ASSAM SEBA/SMEBA CLASS 10 BENGALI QUESTIONS & ANSWERS
সেবা দশম শ্রেনী বাংলা প্রশ্ন এবং উত্তর
অরুণিমা সিনহা : আত্মবিশ্বাস এবং সাহসের অন্য নাম
ব্যাকরণ :
Q.1 নিচের
বিশিষ্টার্থক বাক্যাংশগুলোর সাহায্যে সার্থক বাক্য রচনা করো।
রাহুর দশা, আক্কেল-সেলামি, বালির বাঁধ, গোড়ায় গলদ, চাঁদের হাট। ANS:-
(ক)রাহুর
দশা - (দুঃসময়) রামুর এখন রাহুর দশা চলছে। তার চাকরিটি গেল আর মায়ের ক্যান্সারও
ধরা পড়ল।
(খ)আক্কেল
সেলামি - (বোকামির দণ্ড) বিনা টিকিটে রেল চড়ে বিশু ৫০০ টাকা আকেল সেলামি দিল।
(গ)বালির
বাঁধ - (ক্ষণস্থায়ী)বালির বাঁধের মতো সংকল্প নিয়ে এভারেষ্ট জয় করা অসম্ভব।
(ঘ)গোড়ায়
গলদ - (মূলে ত্রুটি) গোড়ায় গলদ রেখে ওপরের ক্লাসের অঙ্ক কষতে চাইলে ফল ভাল করা
যায় না।
(ঙ)চাঁদের
হাট - (আনন্দের বা রূপের সমাবেশ) ছেলে-মেয়ে-নাতি-নাতনিদের
কলরবে তার ঘরে চাঁদের হাট বসে গেছে।
Q.2 নিচের
প্রবচনগুলোর অর্থ উল্লেখ করে বাক্যে প্রয়োগ করো।
ঘুটে পোড়ে গোবর হাসে; বানরের গলায়
মুক্তার মালা; পেটে খেলে পিঠে সয়; দশচক্রে ভগবান ভূত; ভাগের মা গঙ্গা পায় না।
ANS:-
(ক)ঘুটে পোড়ে
গোবর হাসে - (নিজের আসন্ন বিপদের কথা ভুলে গিয়ে অন্যকে বিপন্ন দেখে মজা পাওয়া) -
প্রতিবেশীর বিপদে উল্লসিত হচ্ছে। এ যে দেখছি ঘুটে পোড়ে গোবর হাসে, জান না এ
বিপদে তুমিও পড়তে পার। (খ)বানরের
গলায় মুক্তার মালা - (অপাত্রে দান) - মুখকে উপদেশ দিলে বানরের গলার মুক্তার মালার
মতো ব্যর্থ হয়।
(ঘ)দশচক্রে
ভগবান ভূত - (অবস্থা বিপাকে ক্ষমতাশীল মানি লোকও বিপদে পড়ে) - পাড়ার কিছু লোকের
চক্রান্তে মহেশবাবুর মতো মানি লোককেও দোষী সাব্যস্ত করা হলো, একেই বলে
দশচক্রে ভগবান ভূত।
(ঙ)ভাগের
মা গঙ্গা পায় না - (শরিকি ব্যবস্থায় চরম দুর্ভোগ) - দত্তবাড়ির একান্নবর্তী
পরিবার এমনই যে সব কাজই পণ্ড হয়ে যায়, ভাগের মা গঙ্গা পায় না আর কী?
Q.3 নিচের
অনুচ্ছেদে উপযুক্ত বিরাম চিহ্ন ব্যবহার করো।
হে ভারত ভুলিও না নীচ জাতি মুখ দরিদ্র অজ্ঞ
মুচি মেথর তোমার রক্ত তোমার ভাই হে বীর সাহস অবলম্বন কর সদর্পে বল আমি ভারতবাসী
ভারতবাসী আমার ভাই বল মুর্খ ভারতবাসী দরিদ্র ভারতবাসী ব্রাহ্মণ ভারতবাসী চণ্ডাল
ভারতবাসী আমার ভাই ভারতবাসী আমার প্রাণ ভারতের সমাজ আমার শিশুশয্যা যৌবনের উপবন
বার্ধক্যের বারাণসী বল ভাই ভারতের মৃত্তিকা আমার স্বর্গ ভারতের কল্যাণ আমার কল্যাণ
আর বল দিন রাত মা আমার দুর্বলতা কাপুরুষতা দূর কর আমায় মানুষ কর।
ANS:- “হে ভারত, ভুলিও না
নীচ-জাতি, মুখ-দরিদ্র, অজ্ঞ, মুচি, মেথর, তোমার রক্ত, তোমার ভাই। হে বীর, সাহস
অবলম্বন কর, সদর্পে বল - আমি ভারতবাসী, ভারতবাসী আমার ভাই, বল - মুর্খ
ভারতবাসী, দরিদ্র ভারতবাসী, বাহ্মণ ভারতবাসী, চণ্ডাল ভারতবাসী, আমার ভাই। ভারতবাসী আমার প্রাণ, ভারতের সমাজ
আমার শিশুশয্যা, যৌবনের উপবন, বার্ধক্যের বারাণসী, বল ভাই - ভারতের মৃত্তিকা আমার স্বর্গ, ভারতের
কল্যাণ আমার কল্যাণ, আর বল - দিন
রাত মা আমার দুর্বলতা, কাপুরুষতা, দূর
কর আমায় মানুষ কর।
ASSAM SEBA/SMEBA CLASS 10 BENGALI QUESTIONS & ANSWERS
সেবা দশম শ্রেনী বাংলা প্রশ্ন এবং উত্তর
অরুণিমা সিনহা : আত্মবিশ্বাস এবং সাহসের অন্য নাম
অরুনিমা
সিনহা,
মাউন্ট এভারেস্ট জয়ী এক প্রতিবন্ধী নারী
অরুনিমা
সিনহা প্রথম ভারতীয় এবং ব্রিটেনের ট্ম হুইটেকার এর পরে একমাত্র শারীরিক প্রতিবন্ধী
ব্যাক্তি যিনি পা হারানোর পরেও, শুধুমাত্র
নিজের মানুষিক শক্তির জোরে পৃথিবীর সর্বোচ্চ পর্বত শৃঙ্গ মাউন্ট এভারেস্ট জয় করেন।
অরুনিমা
সিনহার জন্ম হয় ২০ জুলাই ১৯৮৮ সালে ভারতের উত্তর প্রদেশের লক্ষ্ণৌতে। তার বাবা
ছিলেন ইন্ডিয়ান আর্মির একজন সদস্য এবং মা হেলথ ডিপার্টমেন্ট এ চাকরি করতেন।
সাইক্লিং, ফুটবলের পাশাপাশি তিনি ভিষন ভলিবল খেলতে
পছন্দ করতেন এবং ইন্ডিয়ার জাতীয় স্তরের ভলিবল খেলোয়াড় হিসেবে বিশেষ খাতিও ছিল তার।
এভাবে সব
ঠিকঠাক মতই চলছিল, কিন্তু ২০১১ সালে এ সব কিছুর ছন্দ পতন ঘটে।
ট্রেনে লক্ষ্ণৌ যাওয়ার পথে একদল ডাকাত হামলা করে বসে। এ সময় অরুনিমার জিনিস পত্র
ছিনতাই করার সময় তিনি বাঁধা দিলে, তাকে
ডাকাতরা ধাক্কা দিয়ে ট্রেন থেকে নিচে ফেলে দেয়, তিনি অন্য একটি ট্রেন ট্র্যাকে গিয়ে পরেন, কিছু বুঝে ওঠার আগেই আর একটি দ্রুতগতির ট্রেন তার পায়ের উপর
দিয়ে চলে যায়।
হাস্পাতালে
জেগে ওঠার পরে তিনি আবিস্কার করেন যে, তিনি একটি পা হারিয়েছেন। মানুষিক ভাবে বিপর্যস্ত অরুণিমা
তখন ভেবে পাচ্ছিলেন না, তিনি এখন কি করবেন। একদিকে তার জীবনটা
বিপর্যস্ত হয়ে গেছে, অন্য দিকে তার ভলিবল ক্যারিয়ার শেষ হয়ে গেল, এভাবে প্রচন্ড হতাশায় একেবারেই ভেঙে হয়ে পরেছিলেন। চার মাস
চিকিৎসা নেয়ার পরে একটি বেসরকারি সংস্থার সহায়তায় তিনি একটি কৃত্রিম পা সংজোযন
করেন।
অরুনিমার অর্জনঃ
চিকিৎসা
চলাকালিন সময়ে যখন অরুনিমা একদমই মানুষিকভাবে বিপর্যস্ত, তখন একজন মানুষ অনেক দূরে থেকেই তাকে অনুপ্রেরনা
জুগিয়েছিলেন। আপনারা অনেকেই তাকে চিনবেন হয়তো।
এ
বাক্তিটির নাম যুবরাজ সিং, যিনি আরুনিমার এক্সিডেন্টের কিছুদিন আগেই
ক্যান্সার থেকে ফিরে এসে ভারত কে ২য় বারের মতো বিশ্বকাপ ক্রিকেটে চ্যাম্পিয়ন করতে
সবচেয়ে বড় ভুমিকা পালন করেছেন।
অরুণিমা
ভেবেছিলেন যুবরাজ সিং যদি ক্যান্সার থেকে ফিরে এসে বিশ্বকাপ জেতাতে পারে তবে তিনিও
ভিন্ন দিক দিয়ে বিশ্ব জয় করতে পারবেন। হাসপাতালে থাকা কালিন সময়েই তিনি
সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তিনি পর্বত আরোহন করবেন।
কৃত্তিম
পা নিয়েই তিনি উত্তর প্রদেশের নেহেরু ইন্সটিটিউট অব মাউন্টেনিয়ারিং-এর প্রাথমিক কোর্সে ভর্তি হন এবং ভালো
রেজাল্ট করেন। এর পর তিনি আর থেমে থাকেন নি। কৃত্তিম পা নিয়েই বিভিন্ন পর্বত আরোহন করতে থাকেন।
তিনি
আফ্রিকার কিলিমাঞ্জেরো, ইউরোপের আল্পস, অস্ট্রেলিয়ার মাউন্ট কসচুস্ক, দক্ষিন আমেরিকার আকঙ্কাগুয়া পর্বত মালা জয় করেন। অরুণিমার
ভিশন একাগ্রতা ছিল যে তিনি এভারেস্ট জয় করবেন।
এ লক্ষে
তিনি বাচেন্দ্রী পালের সাথে যোগাযোগ করেন এবং তার তত্ত্বাবধানে উত্তরকাশীতে ২০১২
সালে টাটা ষ্টীল এডভেঞ্চার ফাউন্ডেশনে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন।
বাচেন্দ্রি
পাল ছিলেন প্রথম ভারতীয় মহিলা যিনি এভারেস্ট পর্বতশৃঙ্গ জয় করেছিলেন। ২১ মে ২০১৩
সাল, সকাল ১০.৫৫ মিনিট বিশ্বের প্রথম প্রতিবন্ধী
মহিলা হিসেবে এভারেস্টের চুড়ায় উঠেন।
অনেক সুস্থ
মানুষ যেখানে উঠতে গিয়ে নিজের জীবনটাই হারিয়েছিলেন, সেখনে কৃত্তিম একটি পা নিয়ে ৫২ দিনের পরিশ্রমের ফসল হিসেবে তিনি এ খ্যাতি
অর্জন করেন। পা হারানোর ২ বছরের মাথায় এমন অর্জন স্বাভাবিকভাবেই বিশ্বে বিরল। এ
কৃতিত্ব স্বরূপ ২০১৫ সালে অরুনিমা সিনহা কে
ভারতের চতুর্থ সর্বোচ্চ বেসামরিক সন্মান, পদ্মশ্রী পুরষ্কার প্রদান করা হয়।
তিনি শুধু
এখানেই থেমে থাকেন নি, ২০১৯ সালে এন্টার্কটিকা মহাদেশের সর্বচ্চ
পর্বত শৃঙ্গ ভিনসেন্ট পর্বত জয় করেছেন।
জীবন কখনো থেমে থাকে না, আমরা জীবনকে থামিয়ে রাখার চেস্টা করি মাত্র। ভয়কে জয় করে
সামনে এগোলে আলোর দেখা পাওয়া যাবেই।
সেবা দশম শ্রেনী বাংলা প্রশ্ন এবং উত্তর
অরুণিমা সিনহা : আত্মবিশ্বাস এবং সাহসের অন্য নাম
**********



0 Comments
HELLO VIEWERS, PLEASE SEND YOUR COMMENTS AND SUGGESTION ON THE POST AND SHARE THE POST TO YOUR FRIEND CIRCLE.