SEBA / SMEBA Class 10 Geography (Social Sciences) Chapter 1 Economic Geography : Subject Matters & Resources in Bangla সেবা (আসাম) দশম শ্রেণী ভূগোল (সমাজবিজ্ঞান) প্রথম অধ্যায়: অর্থনৈতিক ভূগোল: বিষয়বস্তু ও সম্পদ বাংলায় সংক্ষিপ্তসার / সারাংশ





SEBA / SMEBA Class 10 Geography (Social Sciences) Chapter 1 Economic Geography : Subject Matters & Resources in Bangla

সেবা (আসাম) দশম শ্রেণী ভূগোল (সমাজবিজ্ঞান)
প্রথম অধ্যায়:  অর্থনৈতিক ভূগোল: বিষয়বস্তু সম্পদ 
বাংলায় সংক্ষিপ্তসার / সারাংশ
PART - II

26. সম্পদ সামগ্রী পার্থক্য:
 সকল সম্পদই  সামগ্রী কিন্তু একটি সামগ্রী সম্পদ নাও হতে পারে
27. সম্পদ সম্পত্তির পার্থক্য:
a)    যে সকল সামগ্রির বিনিময় মূল্য আছে, সেইগুলি সামগ্রীকে  সম্পত্তি বলা হয়, কিন্তু সম্পদ হতে হলে তার কার্যকারিতা উপকারিতা এই দুটি গুনও থাকতে হবে
b)    সম্পত্তির  যোগান সীমিত হস্তান্তরযোগ্য  ঘর, বাড়ি, দোকান ইত্যাদি সম্পত্তি; কিন্তু  জল, বাতাস, সূর্যের আলো সম্পত্তি নয় সম্পদ অর্থাৎ সকল সম্পত্তিই সম্পদ, কিন্তু সকল সম্পত্তি সম্পদ নাও হতে পারে
c)    সম্পদের দ্বারা মানুষের কল্যাণ হয়, কিন্তু সম্পত্তির দ্বারা মানুষের উপকার বা অপকার দুটোই ঘটতে পারে
d)    সব সম্পত্তির বাজার মূল্য আছে কিন্তু সব সম্পদের বাজার মূল্য নির্ণয় করা যায় না
28.  সম্পদের শ্রেণীবিভাগ:
A) সৃষ্টি প্রক্রিয়া অনুসারে-
i) প্রাকৃতিক সম্পদ, ii)  মানবসৃষ্ট সম্পদ এবং iii)  মানব সম্পদ
B) গঠন অনুসারে-
 i)  জৈব সম্পদ এবং ii) অজৈব সম্পদ
C)  উপলব্ধ স্থায়িত্ব অনুসারে-
i)  নবীকরণ যোগ্য সম্পদ এবং ii)   নবীকরণ যোগ্য সম্পদ 
D) মালিকের সপ্ত অনুসারে-
     i)  ব্যক্তিগত সম্পদ, ii)  জাতীয় সম্পদ এবং iii)  আন্তর্জাতিক সম্পদ
29. প্রাকৃতিক সম্পদ: প্রাকৃতিক ভাবে সৃষ্টি হয়ে প্রকৃতিতে ব্যাপ্ত হয়ে থাকা সম্পদকে প্রাকৃতিক সম্পদ বলে যেমন- গাছপালা, জীব,  বায়ু, পানি, সূর্যের আলো, খনিজ পদার্থ ইত্যাদি

30. মানবসৃষ্ট সম্পদ:  প্রাকৃতিক সম্পদ থেকে মানুষ নিজের জ্ঞান, বুদ্ধি প্রযুক্তির মাধ্যমে যেগুলো সামগ্রী প্রস্তুত করে নিজের ব্যবহারের উপযোগী করে তুলে, সেই সামগ্রী গুলোকে মানবসৃষ্ট সম্পদ বলে যেমন-  বাঁশ থেকে কাগজ,  কার্পাস থেকে কাপড়, সাবান, রং,  তৈল, খাদ্য, ঔষধ, কাঠ, অলংকার ইত্যাদি

31. মানব সম্পদ:  প্রকৃতপক্ষে মানুষেই সম্পদের সৃষ্টিকর্তামানুষের নিজের জ্ঞান, বুদ্ধি, কর্মদক্ষতা, শিক্ষা, প্রযুক্তি আগ্রহ ইত্যাদি গুণের জন্য মানুষকে মানব সম্পদ বলে প্রাকৃতিক সম্পদের অভাব থাকা সত্বেও কেবল মানব সম্পদের দ্রুত বিকাশের জন্য আজ জাপান, সুইজারল্যান্ড, সিঙ্গাপুর, তাইওয়ান, দক্ষিণ কোরিয়া প্রভৃতি দেশ পৃথিবীর এক একটি অগ্রণী সমৃদ্ধিশালী দেশে পরিণত হয়েছে

32. জৈব সম্পদ:  প্রাণ বা জীবন থাকা সম্পদকে জৈব সম্পদ বলে যেমন- উদ্ভিদ, প্রাণী, মাছ, শস্য, জীবজন্তু, কীটপতঙ্গ ইত্যাদি
33.  অজৈব সম্পদ:  প্রাণহীন নির্জীব সম্পদকে অজৈব সম্পদ বলে যেমন- মাটি, শিলা, বায়ু, জল, পাহাড়,  কয়লা, পেট্রোলিয়াম ইত্যাদি

34. উৎপত্তির দিক থেকে কয়লা, খনিজ তেল, প্রাকৃতিক গ্যাস মূলত: জৈবিক বর্তমান অবস্থায় নির্জীব হওয়ায় এসবকে অজৈব সম্পদরূপে গণ্য করা হয়
35. নবীকরণ যোগ্য সম্পদ:  যে সম্পদকে বার বার ব্যবহার করা যায় কখনো নিঃশেষ না হওয়ার মতো করে রাখতে পারা যায়, সেইগুলো সম্পদকে নবীকরণ যোগ্য সম্পদ বলে যেমন- বায়ু, পানি, সূর্যের আলো, গাছপালা,  জীবজন্তু, মানুষ ইত্যাদি




36. -নবীকরণ যোগ্য সম্পদ: যে সম্পদ একবার ব্যবহারের পর পুনর্ব্যবহার বা পুনরায় সৃষ্টি সম্ভব নয়, একেবারে নিঃশেষ হয়ে যায়, সেই সম্পদকে -নবীকরণ যোগ্য সম্পদ বলে যেমন- কয়লা, পেট্রোলিয়াম, প্রাকৃতিক গ্যাস, তামা, সোনা, রুপা, লোহা, চুনাপাথর ইত্যাদি


37.  ব্যক্তিগত সম্পদ:  মানুষের নিজের দখলে থাকা বা অধিকারভুক্ত সম্পদকে ব্যক্তিগত সম্পদ বলে যেমন- ভালো চরিত্র, শিক্ষা, কর্মদক্ষতা, কৌশল, বুদ্ধি, নিজের ঘর-বাড়ি-জমি ইত্যাদি

38.  জাতীয় সম্পদ:  একটি দেশের তত্ত্বাবধানে বা দখলে থাকা সকল সম্পদকেই জাতীয় সম্পদ বলে যেমন- রাস্তাঘাট, নদ-নদী, ভূমি, সেতু, সরকার, অভয়ারণ্য, অরণ্য, বিদ্যালয়, যোগাযোগ ব্যবস্থা ইত্যাদি

39.  আন্তর্জাতিক সম্পদ: সকল দেশ সহ সমগ্র বিশ্বের অন্তর্গত সকল সম্পদকেই আন্তর্জাতিক সম্পদ বলা হয় যেমন- সাগর-মহাসাগর, বায়ুমণ্ডল, জীবমণ্ডল, মহাদেশ গুলি, মহাকাশ ইত্যাদি

40. চির বিরাজমান সম্পদ:  যেগুলি প্রাকৃতিক সম্পদ পৃথিবীর সর্বত্র উপলব্ধ উপলভ্য সেগুলো  সম্পদকে চির বিরাজমান সম্পদ বলে যেমন- বায়ু, পানি, সূর্যের আলো ইত্যাদি


41. স্থানিক সম্পদ: যেগুলো প্রাকৃতিক সম্পদ পৃথিবীর কিছু বিশেষ স্থানে উপলভ্য অর্থাৎ সবখানে পাওয়া যায় না, সেইগুলোকে স্থানিক সম্পদ বলে যেমন কয়লা, পেট্রোলিয়াম, প্রাকৃতিক গ্যাস, উদ্ভিদ, প্রাণী জীবজন্তু ( অসমের গন্ডার) ইত্যাদি

42. সম্পদ সংরক্ষণ সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তা:
কোন ধরনের বিনাশ এবং অপব্যবহার না করে সম্পদের সম্ভাব্য পূর্ণ সঠিক ব্যবহার করা কার্য তথা ধারণাকে সম্পদ সংরক্ষণ বলা হয়
সম্পদ সংরক্ষণের মূল উদ্দেশ্য হলো প্রয়োজনীয় সম্পদ আহরণ করে বহুকাল পর্যন্ত মানব কল্যাণ সাধন উপকৃত হওয়া কারণ উন্নত দেশগুলি বিশ্বে শীর্ষ স্থান লাভ করতে গিয়ে প্রাকৃতিক সম্পদের অত্যাধিক ব্যবহার করিতেছে উন্নয়নশীল অনুন্নত দেশে জনসংখ্যা বিস্ফোরণের জন্য প্রাকৃতিক সম্পদের ব্যবহার অত্যাধিক মাত্রায় বৃদ্ধি পাইতেছে এছাড়া অনবীকরণযোগ্য সম্পদ শেষ হতে চলেছে এবং বহু নবীকরণযোগ্য সম্পদের বিলুপ্তির সংকটে দেখা দিয়েছে অরণ্য ধ্বংসের জন্য জীবঅন্তুর আবাসভূমি তথা জীববৈচিত্র্য হ্রাস এবং পারিপার্শ্বিক ভারসাম্য বিনষ্ট হয়েছে অবৈজ্ঞানিক বিবেকহীন ভাবে অতিমাত্রা প্রাকৃতিক সম্পদের ব্যবহার করে যাহাতে আমাদের উন্নয়ন প্রক্রিয়া ক্ষণস্থায়ী না হয়, তার জন্য আমাদের উচিত সম্পদের ব্যবহারের ক্ষেত্রে মিতব্যয়ী হওয়া
43.  দুর্লভ জৈবিক সম্পদ:-  বাঘ, হাতি, গন্ডার, সিংহ, ভালুক, ডলফিন, কুমির, কচ্ছপ ইত্যাদি
44. অসমের মূল্যবান দুর্লভ উদ্ভিদ:- ঘৃতকুমারী, সর্পগন্ধা, কালমেঘ, অর্জুন, অগরু, চিরতা, জাইফল,  শতমুল ইত্যাদি
45. অসমের দুর্লভ লুপ্তপ্রায় প্রাণী:-  সুনালি বান্দর, হলৌ বান্দর, বুনো মোষ, নল গাহরি (শূকর), শিশু মাছ, দেও হাস, ধনেশ পাখি, সারস, বনরৌ, সজারু ইত্যাদি
46. সম্পদের প্রধান বৈশিষ্ট্য গুলি:
a)     উপকারিতা- সম্পদের দ্বারা মানুষের উপকার সাধন হয়
b)     কার্যকারিতা- সম্পদ ছাড়া কার্য  সম্ভব নয়
c)     পরিবর্তনশীলতা- সম্পদ থেকে অন্যান্য সম্পদের সৃষ্টি হয় এবং এক সম্পদ অন্য সম্পদে রূপান্তরিত হয়
47 . সম্পদ সংরক্ষণের পদ্ধতি:
a)     বিকল্প সম্পদের সন্ধান:- গবেষণা জরিপের মাধ্যমে একটি সম্পদের বিকল্প সম্পদের আবিষ্কার উদঘাটন কার্য চালিয়ে যেতে হবে উদাহরণস্বরূপ শক্তির উৎস কয়লা, পেট্রোলিয়াম ইত্যাদির বদলে সৌরশক্তি, জৈব শক্তি, বাতাস শক্তি, জলবিদ্যুৎ আদি আহরণ করা
b)    পুনরাবর্তন:- ব্যবহারের উপযোগী বর্জিত দ্রব্যকে পুনরাবর্তন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে  পুনরায় ব্যবহার করা যেমন পুরনো পলিব্যাগ, প্লাস্টিক, কাগজ, লোহা টিনের সামগ্রী ইত্যাদিকে নূতন অন্য সামগ্রী প্রস্তুত করে ব্যবহার করা
c)    অভিযোজন বা নব-প্রচলন:- সম্পদের প্রয়োগের ফলে উৎপন্ন ঋণাত্নক বা ক্ষতিকারক প্রভাব রোধ করতে নতুন উপায় গ্রহণ করা বা প্রচলন করা যেমন রাসায়নিক সারের প্রয়োগে মাটি যদি নষ্ট হয় তাহলে জৈব সার ব্যবহার করা যায়
d)     বর্জিত দ্রব্যের পরিমাণ হ্রাস:- বর্জিত দ্রব্যের উৎপাদন সীমিতকরণ এবং পুনরাবর্তনের মাধ্যমে বর্জিত দ্রব্যের পরিমাণ হ্রাস করা যায় যেমন কাগজ কলে উৎপাদিত বর্জিত বাশ কুটির শিল্পে ব্যবহার করা, ব্যবহৃত পুরনো কাপড় দিয়ে পুতুল তৈরি করা ইত্যাদি
e)    জ্ঞান শিক্ষার সম্প্রসারণ:- সম্পদের ভাণ্ডার, বিতরণ, উদঘাটন প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে গণসচেতনতা বৃদ্ধি করা প্রয়োজন
f)     সংরক্ষণ সম্পর্কীয় আইনের কার্যত রূপায়ন করা
g)    কোন সম্পদের সঞ্চিত পরিমাণের সঠিক মূল্যায়ন করা
h)    সম্পদ সমূহের ভবিষ্যৎ প্রয়োজন নির্ধারণ করা ইত্যাদি
48. আন্ত:রাষ্ট্রীয় পরিবেশ সংরক্ষণ সংস্থা (IUCN):
1948 সালে  UNESCO এর  প্রথম সঞ্চালক প্রধান ব্রিটিশ জীববিজ্ঞানীজুলিয়ান হাক্সলে প্রচেষ্টায় ফ্রান্সে IUCN প্রতিষ্ঠিত হয় এই সংস্থার মূল উদ্দেশ্য হচ্ছেসমগ্র বিশ্বের  প্রাকৃতিক পরিবেশ এবং প্রাকৃতিক সম্পদের সংরক্ষণ তথা জীববৈচিত্র্য সম্পর্কে অধ্যয়ন, গবেষণা এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা”,  IUCN  নেতৃত্বে WWF এবং WCMC স্থাপিত হয়েছে
49.  সম্পূর্ণ নাম:
a)    IUCN = International Union for Conservation of Nature

b)    WWF = World Wide Fund for Nature

c)    WCMC = World Conservation Monitoring Centre

50. প্রাকৃতিক সম্পদের সংরক্ষণ পরিবেশ সুরক্ষার জন্য স্থাপিত ভারতীয় সংস্থা বা অনুষ্ঠানগুলো:-
সর্বভারতীয় সংস্থা:
a)    পরিবেশ, বন, জলবায়ু মন্ত্রণালয় (MEFCC = Ministry of Environment, Forests and Climate Change) এর কাজ প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ পরিবেশ সুরক্ষা সম্পর্কীয় আইন প্রণয়ন করা
b)    1986 সালে স্থাপিত ভারতীয় বন গবেষণা শিক্ষা সংস্থা (ICFRE = Indian Council of Forestry Research and Education)
c)    বিজ্ঞান পরিবেশ কেন্দ্র (CSE = Centre for Science & Environment)
d)    গ্রীনপিস ইন্ডিয়া (Greenpeace India)

e)    ভারতের বন্যপ্রাণী ন্যাস বা ওয়াইল্ডলাইফ ট্রাস্ট অফ ইন্ডিয়া (WTI = Wildlife Trust of India)
 অসমের সংস্থাগুলো:
a)    অসম বিজ্ঞান সমিতি (ASS = Assam Science Society)

b)    আসাম বিজ্ঞান প্রযুক্তি পরিবেশ পরিষদ (ASTEC = Assam Science Technology & Enviromental Council)

c)    আরণ্যক ইত্যাদি

51. প্রতি বছর 5 জুন তারিখে বিশ্ব পরিবেশ দিবস (World Environment Day)  পালন করা হয়

 *****************************
WAIT FOR CHAPTER II (পরিবেশ এবং পরিবেশের সমস্যা)


Post a Comment

0 Comments