SEBA / SMEBA Class 10 History
(Social Sciences) Chapter 4 in Bangla
সেবা (আসাম) দশম শ্রেণী ইতিহাস (সমাজবিজ্ঞান)
চতুর্থ অধ্যায়: স্বাধীনতা আন্দোলন ও অসমে জাতীয় জাগরণ
বাংলায় সংক্ষিপ্তসার / সারাংশ
চতুর্থ অধ্যায়: স্বাধীনতা আন্দোলন ও অসমে জাতীয় জাগরণ
1. অসমীয়া জাতীয়তাবাদী চেতনার উত্থান:
ইয়াণ্ডাবু সন্ধির (1826) ফলে অসম ইংরেজদের দখলে যায়। ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসন 1858 সালের ইংল্যান্ডের রানীর ঘোষণা মর্মে ব্রিটিশ শাসনাধীন হয়। রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিবর্তন, আধুনিক ও পাশ্চাত্য শিক্ষার প্রভাব অসমীয়া জাতীয় চেতনা জাগরণে সাহায্য করে। সমাজের লেখকরা নিজের লেখা প্রকাশ করে অসমে জাতীয় চেতনা বৃদ্ধি করে। দেশ প্রেম ও জাতীয়তাবাদের উন্মেষ ঘটে। উনিশ শতকের শেষের দিকে জনগণ উপনিবেশ ও শোষণের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ শুরু করে। সাথে সাথে বেশ কয়েকটি সংস্থাও জন্মগ্রহণ করে।
2. 1857 সালে আনন্দরাম ঢেকিয়াল ফুকন এবং গুনাভিরাম বরুয়ার নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠিত হয় “জ্ঞান প্রদায়িনী সভা”।
3. 1837 সাল থেকে অসমের বিদ্যালয়, কার্যালয় ও আদালতে বাংলা ভাষা প্রচলনের সরকারি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। আনন্দরাম ঢেকিয়াল ফুকনের চেষ্টায় 1873 সালে পুনরায় অসমীয়া ভাষাকে সরকারি ভাষা করা হয়। এই আন্দোলন অসমে ভাষা ভিত্তিক জাতীয় চেতনার সৃষ্টি করে।
4. 1872 সালে দেবীচরণ বরুয়া এবং গুনগোবিন্দ ফুকনের নেতৃত্বে কলকাতায় প্রতিষ্ঠিত হয় “অসমীয়া লিটারেরি সোসাইটি”। সংগঠনের প্রাণপুরুষ জগন্নাথ বরুয়া ও মানিকচন্দ্র বরুয়া ভাইসরয় লর্ড নর্থব্রুককে স্মারক পত্রের মাধ্যমে বঙ্গদেশ ও অসমের মধ্যে রেল যোগাযোগ এবং অসমের প্রাকৃতিক সম্পদের উন্নয়নের দাবি জানিয়েছিলেন।
5. 1888 সালে হেমচন্দ্র গোস্বামী, লক্ষ্মীনাথ বেজবরুয়া, কনকলাল বরুয়া, চন্দ্রকুমার আগরওয়ালা এবং রমাকান্ত বরকাকতির নেতৃত্বে কলকাতায় প্রতিষ্ঠিত হয় “অসমীয়া ভাষা উন্নতি সাধিনী সভা”।
![]() |
| LAKSHMINATH |
![]() |
| CHANDRA KUMAR AGARWALA |
6. “হেমকোষ”
গ্রন্থের রচয়িতা হেমচন্দ্র গোস্বামী।
7. “অরুণোদয়” অসমের সর্বপ্রথম প্রকাশিত পত্রিকা।
8. “জোনাকি” পত্রিকাটি প্রকাশিত হয় অসমীয়া ভাষা উন্নতি সাধিনী সভা কর্তিক, হেমচন্দ্র গোস্বামী, লক্ষ্মীনাথ বেজবরুয়া এবং চন্দ্রকুমার আগরওয়ালর চেষ্টায়। প্রথম সম্পাদক ছিলেন চন্দ্রকুমার আগরওয়ালা। অসমীয়া সাহিত্যের উন্নতি, আর্থসামাজিক সচেতনতা, জাতীয়তাবাদী চিন্তার প্রতিফলন “জোনাকি” পত্রিকা দ্বারা অভূতপূর্ব ভাবে ঘটেছিল বলে এই যুগকে “জোনাকী যুগ”ও বলা হয়।
9. মোর দেশ, অসম সংগীত, বীর বরাগী লক্ষ্মীনাথ বেজবরুয়া দ্বারা কৃত।
10. 1916 সালে “অসম ছাত্র সন্মিলন” গঠন হয়। প্রথম সভাপতি ছিলেন লক্ষ্মীনাথ বেজবরুয়া। ইহার মুখপাত্র ছিল “মিলন”।
11. রায়ত সভা:
উনিশ শতকের শেষের দিকে তেজপুর রায়ত সভা ও নগাঁও রায়ত সভার গঠন হয়। রায়ত সভা গঠনের মুখ্য ভূমিকা পালন করেন লক্ষীকান্ত বরকাকতি, হরিবিলাস আগরওয়ালা, লম্বোদর বড়া, ও ভবানীচরণ ভট্টাচার্য্য।
রায়ত সভার উদ্দেশ্য: ব্রিটিশ সরকার কর্তৃক প্রবর্তিত নতুন ভূমি নীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থার বিরোধিতা করা তার মধ্যে-
a. গ্রেজিং কর বন্ধ করা,
b. জমির খাজনা হ্রাস করা
c. পূর্ববঙ্গ থেকে হওয়া প্রব্রজন রোধ করা
12. 1933 সালে “সদৌ অসম রায়ত সভা” গঠন করা হয়। নবীনচন্দ্র বরদলৈর সভাপতিত্বে প্রথম অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয় 1933 সালের 8 এপ্রিল জোরহাট এর টিলিকিআম এ এবং দ্বিতীয় অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয় 1934 সালে দেড়গাঁও এ এবং সভাপতি ছিলেন ডক্টর হরেকৃষ্ণ দাস।
13 . 1893 সালে পদ্মনাথ গোহাই বরুয়ার নেতৃত্বে “আহোম সভা” প্রতিষ্ঠিত হয়। তিনি 40 বছর ধরে এই সভার সম্পাদকও ছিলেন। 1910 সালে এই সভার নাম বদলে “সদৌ অসম আহোম অ্যাসোসিয়েশন” করা হয়।
14. “সদৌ অসম আহোম অ্যাসোসিয়েশন” এর দাবি ছিল- “আহোম দের সরকারিভাবে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মর্যাদা প্রদান করে তাদের জন্য বিধানসভার আসন সংরক্ষণ করা এবং পৃথক সমষ্টি গঠন করা”।
15. 1884 সালে জগন্নাথ বরুয়াব নেতৃত্বে “যোরহাট সর্বজনিন সভা” গঠিত হয়। এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি রাজা নরনারায়ণ সিংহ বা মাজুমেলিয়া রজা ও প্রতিস্থাপক সম্পাদক জগন্নাথ বরুয়া। এই সভাই হলো অসমের সর্বপ্রথম সর্বজনীন রাজনৈতিক অনুষ্ঠান।
16. যোরহাট সর্বজনীন সভার উদ্দেশ্য গুলি:
a. জনগণের আশা-আকাঙক্ষার কথা সরকারকে অবগত করা
b. সরকারের উদ্দেশ্য ও নীতি জনগণকে অবগত করা এবং
c. জনগণের অবস্থার উন্নতি সাধন করা
17. যোরহাট সর্বজনীন সভার উল্লেখযোগ্য কাজ বা অবদান:
a. সহকারী ভূমি রাজস্ব ব্যবস্থার বিরুদ্ধে 1886 সালে প্রতিবাদ সাব্যস্ত করা
b. 1892-93 সালে কৃষক সমাজের সাথে একত্রে বর্ধিত কর এর বিরোধিতা করা
c. 1893 সালে মাদক নিবারণের প্রস্তাবের বিরোধিতা করা
d. 1905 সালের বঙ্গ বিভাজনের বিরোধিতা করা
18. 1921 সাল পর্যন্ত যোরহাট সার্বজনীন সভার অস্তিত্ব ছিল।
19. বঙ্গ বিভাজন এর সময় অসমের মুখ্য আয়ুক্ত ব্যামফিল্ড ফুলার 1905 সালের 1 নভেম্বরে গৌহাটিতে এসেছিলেন।
20. 1903 সালে মানিক চন্দ্র বরুয়ার নেতৃত্বে “আসাম অ্যাসোসিয়েশনের” জন্ম হয়। 1905 সালে ডিব্রুগড় এ অনুষ্ঠিত প্রথম অধিবেশনের সভাপতি ছিলেন গৌরীপুরের রাজা প্রভাত চন্দ্র বরুয়া, উপ-সভাপতি ছিলেন জগন্নাথ বরুয়া এবং সম্পাদক ছিলেন মানিক চন্দ্র বরুয়া।
21.অসম অ্যাসোসিয়েশনের কাজ/অবদান:
a.
পৌরসভায় সরকারি কর্মচারী এবং লোকেল বোর্ডে চা-চাষীদের আধিপত্যের বিরোধিতা করা
b.
অ্যাসোসিয়েশনের স্থানীয় সমিটি গুলিকে গণতান্ত্রিক করার দাবি উত্থাপন করা
c.
বর্ধিত কর, শুল্ক ব্যবস্থা ও মদ্য প্রচলন এর বিরোধিতা করা
d.
কটন কলেজে অসমীয়া শিক্ষকের নিযুক্তির দাবি ও অসমে কারিগরি শিক্ষানুষ্ঠান স্থাপনের দাবি করা।
e.
বঙ্গ বিভাজনের বিরোধিতা করে স্মারক পত্র প্রেরণ করা
f.
বিধানসভায় প্রতিনিধিত্বের দাবি উত্থাপন করা
g.
1918 সালের মন্টেগু চেমসফোর্ড রিপোর্টের আধারে প্রস্তাবিত শাসন সংস্কারে অসমকেও জড়িত করা
h.
1920 সালে অসমে বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের দাবী করা
i.
1916 সালে জাতীয় কংগ্রেসের অধিবেশনে নিজের প্রতিনিধি প্রেরণ করা।
j.
1921 সালে অসহযোগ আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ এবং অসমের প্রাদেশিক কমিটির সঙ্গে সামিলকরন করা।
22. 1921 সালের 18 এপ্রিল জোরহাট এ ছবিলাল উপাধ্যায়ের পৌরহিত্যে এক সভা অনুষ্ঠিত হয় এবং জুন মাসে ছবিলাল উপাধ্যায়, নবীনচন্দ্র বরদলৈ, ও কৃষ্ণকান্ত ভট্টাচার্যের উদ্যোগে আনুষ্ঠানিকভাবে “অসম প্রদেশ কংগ্রেস কমিটি” গঠন করা হয়। প্রথম সভাপতি ছিলেন গুণধর চলিহা ও সম্পাদক নবীনচন্দ্র বরদলৈ। আনুষ্ঠানিকভাবে প্রথম সভাপতি ছিলেন বিষ্ণুরাম মেধি।
23. 1921 সালের আগস্ট মাসে মহাত্মা গান্ধী অসম ভ্রমণ করেন।
24. 1926 সালে গুয়াহাটির পান্ডুতে জাতীয় কংগ্রেসের 41 তম বার্ষিক অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়।
25. 1946 সালের সাধারণ নির্বাচনে জয় হাসিল করে গোপীনাথ বরদলৈ অসম প্রদেশের প্রথম মুখ্যমন্ত্রী (তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী) হন।
26. স্বদেশী আন্দোলন ও অসম:
1905 সালের 16 ই অক্টোবর “পূর্ববঙ্গ ও অসম” প্রদেশের জন্ম হয়। রাজধানী শিলং থেকে ঢাকায় হস্তান্তরিত করা হয়। যোরহাট সার্বজনীন সভা এবং অসম এসোসিয়েশন এর বিরোধিতা করে। বঙ্গভঙ্গ ও নুতন অসম প্রদেশের উৎপত্তি অসমের অস্তিত্বের প্রশ্ন তুলে, ফলে পদ্মনাথ গুহাই বরুয়া, আম্বিকাগীরি রাইচৌধুরি, তৃগুনা বরুয়া, রক্তিম বরা প্রভৃতি স্বদেশী আন্দোলনের সূত্রপাত করান। ধুবরী, গৌরীপুর, গোয়ালপাড়া, গোয়াহাটি, তেজপুর ও ডিব্রুগড়ে এই আন্দোলন বিস্তার লাভ করে। লবণের পরিবর্তে খার, বিদেশি চিনির পরিবর্তে বেনারসের চিনি, বিদেশি বস্ত্রের বদলে এরি-মুগা ও পাটের ব্যবহার শুরু হয়। স্বদেশী পুঁজি গঠন করা হয়। আম্বিকাগীরি রাইচৌধুরি “বন্দিনী ভারত” নাটক রচনা করেন এবং “সেবা সংঘ” নামে এক বিপ্লবী সংগঠন গড়ে তুলেন। বরাক উপত্যকায় “সুরমা ভেলী এসোসিয়েশনের” নেতৃত্বে শ্রীহট্ট, হবিগঞ্জ, শ্রীমঙ্গল, লখাই, বানিয়াংচাঙ, করিমগঞ্জ, শিলচর ইত্যাদি স্থানে বহু জাতীয় বিদ্যালয় স্থাপন করা হয়। ব্রিটিশ সরকার স্বদেশী আন্দোলন রোধ করার জন্য বেশ কয়েকটি জনহিতকর কাজ হাতে নিতে বাধ্য হয়েছিল।
27. অসমে স্বদেশী আন্দোলনের প্রভাব বা স্বদেশী আন্দোলনের সময় ব্রিটিশ সরকার গ্রহণ করা জনহিতকর কাজ সমূহ:
a. কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের এন্ট্রান্স পরীক্ষায় অসমীয়া ভাষা সাহিত্যের অন্তর্ভুক্তি
b. কটন কলেজে স্নাতক শ্রেণী খুলে দেওয়া
c. ব্রহ্মপুত্র উপত্যকায় পুনরায় মৌজাদারী ব্যবস্থা গ্রহণ করা
d. জমিতে কুড়ি দফার বন্দোবস্তির প্রবর্তন করা
28. আম্বিকাগীরি রায়চৌধুরীকে “অসমকেশরী” নামে জানা যায়।
29. অম্বিকাগিরির নাটক “বন্দিনী ভারত” 1906 সালের 31 জুলাই কটন কলেজিয়েট হাইস্কুলে মঞ্চস্থ করা হয়।
30. 1907 সালের 7 সেপ্টেম্বরে ব্যামফিল্ড ফুলারকে হত্যা করার চেষ্টা করা হয়।
31. অসহযোগ আন্দোলন ও অসম:
1920 সালের ডিসেম্বরে তেজপুরে অনুষ্ঠিত অসম এসোসিয়েশনের অধিবেশনে অসহযোগ আন্দোলনে অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। 1921 সালের জুন মাসে অসম প্রদেশ কংগ্রেস কমিটি গঠন করা হয়। সভাপতি ছিলেন কুলধর চলিহা ও সম্পাদক ছিলেন নবীনচন্দ্র বরদলৈ। মহাত্মা গান্ধীর আগমন আন্দোলনকে আরোও তীব্র করে তুলে। বিদেশী বস্তু বর্জন ও ছাত্ররা সরকারি শিক্ষানুষ্ঠান ত্যাগ করে। সরকারী অফিসার, শিক্ষক ও উকিলগান তাদের চাকরি ত্যাগ করেন। গোয়াহাটি, নলবাড়ি, যোরহাট, তেজপুর, নগাও, শিবসাগর, করিমগঞ্জ ও মৌলভীবাজারে জাতীয় বিদ্যালয় স্থাপন করা হয়। চা-বাগানের শ্রমিকরাও আন্দোলনে অংশগ্রহণ করে শ্রমিকরা কর্মবিরত ছিল।
32. অসমে অসহযোগ আন্দোলনের প্রভাব:
a. মদ ও কানির প্রচলন বন্ধ করা হয় ফলে সরকারি রাজস্ব কমে যায়
b. বিদেশি বস্ত্রের প্রতি অনীহা এবং খাদীর জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পায়
c. অসমের ছোট ছোট সমস্যা জাতীয় পর্যায়ে উপস্থাপন করা হয় এবং সহযোগিতা বৃদ্ধি পায়
d. জাতীয় বিদ্যালয় এর আবির্ভাব ঘটে
e. সকল শ্রেণীর লোকের মধ্যে উপনিবেশের প্রতি সচেতনতা বৃদ্ধি ও ঐক্যকরণ হয়।
33. 1921 সালের ফেব্রুয়ারি মাসে গুয়াহাটিতে প্রথম জাতীয় বিদ্যালয়- “তিলক সোঅরণী স্কুল” প্রতিষ্ঠা করা হয়।
33. আইন অমান্য আন্দোলন ও অসম:
অসমে হেমচন্দ্র বরুয়া, মুহাম্মদ তৈয়বুল্লাহ, বিষ্ণুরাম মেধি এবং আম্বিকাগীরি রায় চৌধুরীর নেতৃত্বে 1930 সালের আইন অমান্য আন্দোলন তীব্রতর করা হয়। পুঁজি বৃদ্ধি করা, সুশাসন ও দমনমূলক আইন তথা অধ্যাদেশের বিরোধিতা করা, সূরা বা মদের ব্যবহারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করাই ছিল প্রধান কর্মসূচি। 1930 সালের 6 ও 14 মে তারিখে ছাত্ররা নেহেরু ও গান্ধীর গ্রেপ্তারের প্রতিবাদ সাব্যস্ত করে। সরকার কানিংহাম সার্কুলারের মাধ্যমে ছাত্রদেরকে আন্দোলন থেকে বিরত রাখার চেষ্টা করে। ফলস্বরূপ 1930 সালের জুলাই ও আগস্ট মাসে 3117 জন ছাত্র শিক্ষানুষ্ঠান ছেড়ে দেয়, কৃষকরাও আন্দোলনে যোগদান করে স্থানে স্থানে বন আইনও উলংঘন করা হয়।
34. ভারত ত্যাগ আন্দোলন ও কসম:
1942 সালের 8 আগস্ট এ বোম্বাইতে ভারত ত্যাগ আন্দোলন গান্ধীজী “করব কিংবা মরবো” শ্লোগানের মাধ্যমে শুরু করেন, অসমেও এই আন্দোলন হরতাল, শুভযাত্রা, সমারোহ ও পিকেটিং এর মাধ্যমে শুরু হয়। অসম প্রদেশ কংগ্রেস কমিটি, জেলা কংগ্রেস কমিটি ও অন্যান্য ঐক্যমঞ্চকে সরকার অবৈধ ঘোষণা করে। জেল বন্দি নেতাদের উপর করা অত্যাচার আন্দোলনকে হিংসাত্মক করে তুলে। সরকারি ঘর-দুয়ার আক্রমণ, রেলপথ ও সামরিক পথ আক্রমণ করা হয়। হবিগঞ্জের সাহেব বাজার, গোলাঘাটের বরদুয়ার, কামরূপের পানবাড়ি, রঙিয়া ও শিবসাগরের সাফ্রাইতে রেলপথ ধ্বংস করা হয়। বরপথারের রেল দুর্ঘটনার দায়ে কুশল কোওরকে ফাঁসি দেওয়া হয়। গহপুরের কনকলতা সহ 27 জন লোক শহীদ, শ শ লোক আহত ও কারাবরণ করেন। সরকার কঠোর হাতে এই আন্দোলন দমন করার চেষ্টা করে। অসমের জনগণের অসামরিক অধিকার, বাক স্বাধীনতা এবং সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা খর্ব হয়। প্রধান নেতারা যখন জেলে তখন শংকরচন্দ্র বরুয়া, মহেন্দ্রনাথ হাজারিকা, জ্যোতিপ্রসাদ আগারওয়ালা, লক্ষীপ্রসাদ গোস্বামী, ব্রজনাথ শর্মা এবং গহনচন্দ্র গোস্বামী আত্নগোপন করে এই গণআন্দোলনকে চালিয়ে যান। তাসত্ত্বেও এই আন্দোলন বিফল হয় কিন্তু ব্রিটিশের সমান্তরালভাবে সরকারও পঞ্চায়েত গঠন করতে সক্ষম হয়।
35. 1942 সালের 8 আগস্ট এ বোম্বাইর “গোয়ালিয়া ট্যাঙ্ক” থেকে গৃহীত ভারত ত্যাগ প্রস্তাবের স্থানকে “আগস্ট ক্রান্তি ময়দান” নামে নামাঙ্কিত করা হয়েছে।
36. গোপীনাথ বরদলৈ মন্ত্রিসভা:
1946 সালের সাধারণ নির্বাচনে অসমে কংগ্রেস দল 108 টি বিধানসভা আসনের মধ্যে 58 টি আসন জয়লাভ করে। প্রধানমন্ত্রী (পরে মুখ্যমন্ত্রী) গোপীনাথ বরদলৈর নেতৃত্বে 1946 সালের 11 ফেব্রুয়ারিতে সরকার গঠন করা হয়। মন্ত্রিসভার অন্যান্য সদস্যদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন বসন্তকুমার দাস, বিষ্ণুরাম মেথি, জে. নিকলস রয়, রামনাথ দাস, বৈদনাথ মুখার্জি, আব্দুল মতলিব মজুমদার ইত্যাদি।
37. গোপীনাথ বরদলৈর নেতৃত্বে গড়ে ওঠা অসমের অনুষ্ঠানসমূহ:-
a. 1948 সালে নগাঁও এ অসম পশু মহাবিদ্যালয়
b. 1948 সালে জোরহাটে অসম কৃষি মহাবিদ্যালয়
c. 1948 সালের 26 জানুয়ারি গৌহাটি বিশ্ববিদ্যালয়
d. 1947 সালের 3 নভেম্বর ডিব্রুগড় অসম চিকিৎসা মহাবিদ্যালয়
38. 1913 সালে করিমগঞ্জে কৃষি গবেষণা কেন্দ্র প্রতিষ্ঠিত হয়।
39. 1923 সালের তিতাবরে কৃষি গবেষণা কেন্দ্র প্রতিষ্ঠিত হয়।
40. 1948 সালে স্থাপিত অসম পশু মহাবিদ্যালয় ও অসম কৃষি মহাবিদ্যালয়কে একসঙ্গে 1969 সালে অসম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় করা হয়।
41. গৌহাটি বিশ্ববিদ্যালয়কে 1955- 56 সালে জালুকবারীতে স্থানান্তর করা হয়।
42. অসম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় এর উদ্দেশ্য গুলো হলো:
a. কৃষি খন্ডে মানবসম্পদের বিকাশ
b. উৎপাদন বিকাশের জন্য নিরন্তর গবেষণা করা
c. প্রযুক্তি বিদ্যার উন্নতি ও সর্বজনীন প্রসার
d. কৃষি খন্ডে প্রযুক্তিবিদ্যার প্রসার
e. খাদ্যের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা সৃষ্টি করা
43. 1900 সালে ডিব্রুগড় এ ড. জন বেরি হোয়াইটের 50000 টাকা অনুদান পুঁজির সাহায্যে “বেরি হোয়াইট মেডিকেল স্কুল” স্থাপিত হয়। 1947 সালের 3 নভেম্বর তারিখে আনুষ্ঠানিকভাবে এই বিদ্যালয়কে অসম চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় নামে নামকরণ করা হয়।
44. 1960 সালের 20 সেপ্টেম্বর গৌহাটি চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় এর আনুষ্ঠানিক শুভারম্ভ হয়।
45. 1968 সালে শিলচর চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় স্থাপিত হয়।
HELLO
VIEWERS, PLEASE SEND YOUR COMMENTS AND SUGGESTION ON THE POST IN THE COMMENT
SECTION AND SHARE THE POST TO YOUR
FRIEND CIRCLE.












0 Comments
HELLO VIEWERS, PLEASE SEND YOUR COMMENTS AND SUGGESTION ON THE POST AND SHARE THE POST TO YOUR FRIEND CIRCLE.