SEBA/ASSAM CLASS 10 SOCIAL SCIENCES আসামের আঞ্চলিক ভূগোল সম্পর্কীয় প্রশ্ন উত্তর Questions and Answers on Regional Geography of Assam

 সেবা/অসম দশম শ্রেণী সমাজ বিজ্ঞান

আসামের আঞ্চলিক ভূগোল সম্পর্কীয় প্রশ্ন উত্তর

SEBA/ASSAM CLASS 10 SOCIAL SCIENCES

Visit – www.smartlearningservice.com



আসামের আঞ্চলিক ভূগোল

প্রশ্ন ১। নিম্নলিখিত বাক্যগুলির শূন্যস্থান যথাযথ উর দ্বারা পূর্ণ করো :

(ক) আসামের মোট কালি বর্গ কিলোমিটার।

উত্তর:- ৭৮,৪৩৮।

(খ) ব্ৰহ্মপুত্ৰ উপত্যকার মোট কালি বর্গ কিলোমিটার।

উত্তর:- ৫৫, ০০০।

(গ) বরাক উপত্যকার মোট কালি বর্গ কিলোমিটার।

উত্তর:- ৭০০০।

(ঘ) পার্বত্য অঞ্চলের মোট কালি বর্গ কিলোমিটার

উত্তর:- ১৫, ৩২২।

(ঙ) ব্ৰহ্মপুত্ৰ উপত্যকায় খানি জেলা আছে।

উত্তর:- ৩৪টি।

(চ) আসামের সর্বোচ্চ শৃঙ্গটির নাম ___

উত্তর:- লাইকেই।

(ছ) কার্বি পাহাড়ের সর্বোচ্চ শৃঙ্গটির নাম ___

উত্তর:- দাম্বুলাসো।

(জ) ব্ৰহ্মপুত্ৰ উপত্যকায় ব্রহ্মপুত্রের টি বড় উপনদী আছে।

উত্তর:- ৪০।

(ঝ) হিমালয়ের পাদদেশের সেমেকা মাটির বনাঞ্চলকে বলে।

উত্তর:- তরাই অঞ্চল।

(ঞ) মাজুলীর বর্তমান কালির পরিমাণ বর্গ কিলোমিটার।

উত্তর:- ৮০০।

প্রশ্ন ২। পর্ণপাতী বা পর্ণমোচী উদ্ভিদ কাহাকে বলে ? কি প্রকার প্রাকৃতিক অবস্থায় ইহাকে পাওয়া যায় ? চারিবিধ পর্ণপাতী বা পর্ণমোচী উদ্ভিদের নাম লিখ।

উত্তর:- যে সকল উদ্ভিদের বছরের একটি নির্দিষ্ট সময়ে অর্থাৎ অক্টোবর মাস হইতে মার্চ মাস পর্যন্ত সমুদয় বা অধিকাংশ পাতা ঝরিয়া পড়ে ইহাকে পর্ণপাতী উদ্ভিদ বলে।

বার্ষিক ১০০ সেন্টিমিটার হইতে ২০০ সেন্টিমিটার বৃষ্টিপাতের স্থানে যেখানে তাপমাত্রা গড়ে প্রায় ২৭০° সেলসিয়াস সেইসব অঞ্চলে এই ধরনের উদ্ভিদ দেখা যায়। মৌসুমী অঞ্চলে এই সকল উদ্ভিদ দেখা যায়।

চারিবিধ পর্ণপাতী উদ্ভিদ হইল—(ক) শাল, (খ) সেগুন, (গ) বনসোম, (ঘ) গামারি।

প্রশ্ন ৩। নিম্নোক্ত উদ্ভিদসমূহকে পর্ণপাতী এবং চিরহরিৎ দুইভাগে ভাগ

উত্তর:- : শিমুল, আম, শিলিখা, হলং, নাক্স, গামারি, তিতাচাপা, অগরু, উরিয়াম এবং মাকরি শাল।

পর্ণপাতী

চিরহরিৎ

শিমুল, শিলিখা, গামারি, উরিয়াম

আম, হলং, নাহর, তিতাচাপা, অগরু, মাকরিশাল

 

প্রশ্ন ৪। আসামের কয়েকটি রাষ্ট্রীয় উদ্যানের নাম লিখ এবং এইগুলিতে পাওয়া যায় এমন বন্যপ্রাণীদের নাম লিখ।

উত্তর:-  

রাষ্ট্রীয় উদ্যান

বন্যপ্রাণী

(১) কাজিরাঙ্গা।

একখড়া গণ্ডার, হাতী, হলৌ বানর, বুনোমহিষ, বাঘ।

(২) ওরাং

একখড়া গণ্ডার, বাঘ,পরিচারি পক্ষী এবং হরিণ।

(৩) মানস

রয়েল বেঙ্গল বাঘ, হরিণ, সোনালী বানর, পিগমীহগ।

(৪) ডিব্ৰু-সইখোয়া

হাতী, বাঘ, হরিণ।

(৫) নামেরি

বাঘ, হাতী, ভালুক, সাদা হরিণী, হনুমান বানর, চড়াই পাখী।

 

প্রশ্ন ৫। আসামের কয়েকটি সংরক্ষিত বনাঞ্চলের নাম লিখ এবং এইগুলিতে পাওয়া প্রধান বন্যপ্রাণীদের নাম লিখ।

উত্তর:-

সংরক্ষিত বনাঞ্চল

বন্যপ্রাণী

(১) হেলোঙ্গাপার

হুলো বানর

(২) কচুগাঁওগোমা

বাঘ, হরিণ, বানর, বিভিন্নপ্রকার পাখী।

 

প্রশ্ন ৬। নিন্মোক্ত বনাঞ্চলসমূহের কোনটিতে কি কি বন্যপ্রাণী পাওয়া যায় পরিষ্কারভাবে উল্লেখ কর ?

(১) কাজিরাঙ্গা। (২) ডিব্ৰু-সৈখোয়া (৩)হোলোপার (৪) সোনাই-রূপাই (৫) মানস (৬) নামেরী এবং (৭)ওরাং

উত্তর:-

বনাঞ্চল

বন্যপ্রাণী

কাজিরাঙ্গা

একশৃঙ্গ গণ্ডার, হাতী, হলৌ বানর, বুনন

মহিষ ও বাঘ।

ডিব্ৰু-সৈখোয়া

হাতী, বাঘ, বুনো ঘোড়া।

হেলোঙ্গাপার

গিবন, হাতী, বাঘ।

সোনাই রূপাই,

সোনালী বানর, মেথোন, বুনো মহিষ, ভালুক।

মানস

রয়েল বেঙ্গল বাঘ, হরিণ, সোনালী বানর,

পিগমী হগ, ধনেশ পাখী ও ময়ূর।।

নামেরি

বাঘ, হাতী, ভালুক, হনুমান বানর ও শ্বেতহরিণ।

ওরাং

একশৃঙ্গ গণ্ডার, বাঘ, হরিণ ও পরিচারি পাখী

 

সেবা/অসম দশম শ্রেণী সমাজ বিজ্ঞান

আসামের আঞ্চলিক ভূগোল সম্পর্কীয় প্রশ্ন উত্তর

SEBA/ASSAM CLASS 10 SOCIAL SCIENCES

Visit – www.smartlearningservice.com

 

প্রশ্ন ৭। ব্রহ্মপুত্র উপত্যকার যাতায়াত ও পরিবহণের একটি বিবরণ দাও।

উত্তর:- উত্তর পূর্বাঞ্চলের অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় ব্রহ্মপুত্র উপত্যকার যাতায়াত ও পরিবহণ ব্যবস্থা অপেক্ষাকৃত উন্নত। স্বাধীনতার পর ব্রহ্মপুত্র তথা সমগ্র আসামের যাতায়াত ও পরিবহণ ব্যবস্থার যথেষ্ট উন্নতি হয়।

(১) সড়ক : ব্রহ্মপুত্র উপত্যকার বর্তমান ৩১ নং জাতীয় সড়ক পশ্চিমে শ্রীরামপুর হইতে আমিনগাওঁ পর্যন্ত বিস্তৃত। অন্যদিকে ৫২ নং রাষ্ট্রীয় সড়ক বাই হাটা চারিয়ালি হইতে পূর্বে মঙ্গলদৈ, তেজপুর, লখিমপুর ও ধেমাজি হইয়া জোনাই পর্যন্ত বিস্তৃত। ব্রহ্মপুত্রের দক্ষিণতীরে ৩৭ নং জাতীয় সড়ক পঞ্চরত্ন হইতে গুয়াহাটী, নগাঁও হইয়া যোড়হাট, শিবসাগর ও ডিব্ৰুগড় পর্যন্ত বিস্তৃত। ইহা ছাড়া গুয়াহাটি-শিলচর ৪০ নং জাতীয় সড়ক, নগাওঁ-ডিমাপুর ৩৬ নং জাতীয় সড়ক, নুমলিগড়-ইম্ফল ৩৯ নং জাতীয় সড়ক, তিনসুকিয়া-বড়গোলাই ৩৮ নং জাতীয় সড়কসমূহ প্রধান। ব্রহ্মপুত্র উপত্যকায় বর্তমানে ১৭০০ কিঃ মিঃ , জাতীয় সড়ক এবং ২৪,০০০ কিঃ মিঃ রাজ্যিক পূর্ত বিভাগীয় সড়ক আছে।

(২) রেল : ব্রহ্মপুত্র উপত্যকায় ১৮৮৪ সাল হইতে রেল পরিসেবা আরম্ভ হয়। বর্তমানে এই উপত্যকায় ২০০০ কিঃ মিঃ দৈর্ঘ্য রেলপথ আছে। শ্রীরামপুর সীমান্ত হইতে গুয়াহাটি হইয়া ব্রহ্মপুত্রের দক্ষিণ তীরে লিড়-বড়গোলাই এবং উত্তর তীরে রঙ্গিয়া হইয়া পূর্বে অরুণাচল প্রদেশ সীমান্ত মুর্কংচেলেখ পর্যন্ত রেলপথ বিস্তৃত। নিউ বঙ্গাইগাঁও হইতে নরনারায়ণ সেতুর (যোগীঘোপা পঞ্চরত্ন) উপর দিয়া দক্ষিণ গোয়ালপাড়া ও দক্ষিণ কামরূপ হইয়া গুয়াহাটী পর্যন্ত একটি নূতন রেলপথ আছে। গুয়াহাটী-তিনসুকিয়া রেলপথ হইতে চাপারমুখ জংশন হইয়া নগাওঁ পর্যন্ত এবং লামডিং জংশন হইতে উত্তর কাছাড় পার্বত্য জিলার মধ্য দিয়া বরাক উপত্যকা এবং গোলাঘাট জিলার ফরমাটিং জংশন হইতে যোড়হাট হইয়া মরিয়ানি ও শিবসাগর জিলার শিমূলগুড়ি জংশন হইতে উত্তরে খােয়াং এবং দক্ষিণে বিহুব পর্যন্ত রেলপথ বিস্তৃত।

(৩) জল : ব্রহ্মপুত্র উপত্যকায় ব্রহ্মপুত্র নদ ব্যতীত অনেকগুলি বড় বড় উপনদী আছে। অতীতে এই সকল নদীপথে মানুষ যাতায়াত ও ব্যবসা বাণিজ্য করিত। ১৮৪৯ সালে কলিকাতা হইতে ব্রহ্মপুত্র দিয়া প্রথম জাহাজ আসামে আসে। ঐ সময়ে নদীপথে চা ও অন্যান্য সামগ্রী আমদানী রপ্তানী চলিত। ১৯৪৭ সালে দেশ বিভাগের পর নদীপথের গুরুত্ব হ্রাস পায়। বর্তমানে উপত্যকায় অন্তর্দেশীয় জল-পরিবহণ বিভাগ নৌ-পরিবহণ সেবা উন্নত করিয়াছে। ব্রহ্মপুত্রের উত্তর ও দক্ষিণ তীর সংযোগকারী মোট ৩০টি স্থানে ঘাট আছে। এই স্থানগুলিতে যন্ত্রচালিত জাহাজ ও নৌকা দ্বারা যাত্রী ও দ্রব্যসামগ্রী পরিবহণ করা হয়। মোট ১৭০ খানা যন্ত্রচালিত জাহাজ ও নৌকা জল-পরিবহণে নিয়োজিত।

(৪) বিমান : ব্রহ্মপুত্র উপত্যকায় দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় হইতে বিমান পরিবহণ আরম্ভ হয়। উপত্যকাতে বর্তমানে ঝরঝর (গুয়াহাটি), সালনিবারী (তেজপুর), লীলাবাড়ী (লখিমপুর), রবৈয়া (যোড়হাট) ও মোহনবাড়ী (ডিব্ৰুগড়) এই পাঁচটি বিমান বন্দর হইতে ভারতের বিভিন্ন স্থানে যাতায়াত করা যায়। গুয়াহাটি বিমান বন্দরটি লোকপ্রিয় গোপীনাথ বরদলৈ নামে আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে উন্নীত করা হইয়াছে। বিমান সেবা এই অঞ্চলের যাতায়াত ও পরিবহণ ব্যবস্থার যথেষ্ট উন্নতি করিয়াছে।

প্রশ্ন ৮। কি কি প্রাকৃতিক কারক আসামের যাতায়াত ও পরিবহণ উন্নয়নে বাধা দিতেছে? বিস্তারিত আলোচনা কর।

অথবা, আসামের যাতায়াত ও পরিবহণ ব্যবস্থা উন্নত না হওয়ার কারণগুলি উল্লেখ কর।

উত্তর:- বিভিন্ন প্রাকৃতিক কারক আসামের যাতায়াত ও পরিবহণ উন্নয়নে বাধা দিতেছে। প্রধান কারকগুলি নিম্নরূপ :-

(১) ব্রহ্মপুত্র উপত্যকার চতুর্দিক পাহাড়বেষ্টিত। বর্ষাকালে উপত্যকায় প্রচুর বৃষ্টিপাত হওয়ার ফলে বন্যার প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়। ফলে রাস্তাঘাট জলমগ্ন হয় এবং যাতায়াত ব্যবস্থায় প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি করে।

(২) বর্ষাকালে অবিশ্রান্ত বৃষ্টিপাতের ফলে কখনও কখনও সড়ক বা রেলপথ বা সেতু ভাঙ্গিয়া পরিবহণ ও যাতায়াতে প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি করে।

(৩) সমগ্র ব্রহ্মপুত্র উপত্যকা ভারতের মূল ভূখণ্ড হইতে প্রায় বিছিন্ন এবং দূরবর্তী হওয়ার ফলে কেন্দ্রীয় সরকার যথোপযুক্ত মনোযোগ আকর্ষণ করিতে পারে না।

(৪) সমগ্ৰ অঞ্চলটি শিল্পোদ্যোগ, কৃষি ও ব্যবসা-বাণিজ্যে অনুন্নত হওয়ার ফলে ইহার যাতায়াত ও পরিবহণ ব্যবস্থার যথাযথ বিকাশ হয় নাই।

প্রশ্ন ৯। আসামের পাঁচটি তৈলক্ষেত্রের নাম উল্লেখ করিয়া এইগুলি কোন কোন জিলাতে অবস্থিত বল।

উত্তর:-

(১)তৈলক্ষেত্রের নাম ডিগবয়, জিলার নাম তিনসুকীয়া

(২)তৈলক্ষেত্রের নাম দুলিয়াজান, জিলার নাম তিনসুকীয়া

(৩)তৈলক্ষেত্রের নাম নাহারকাটিয়া, জিলার নাম তিনসুকীয়া

(৪)তৈলক্ষেত্রের নাম মরান, জিলার নাম ডিব্ৰুগড়

(৫)তৈলক্ষেত্রের নাম রুদ্রসাগর, জিলার নাম শিবসাগর

প্রশ্ন ১০। পার্বত্য অঞ্চলের যাতায়াত এবং পরিবহণের বিষয়ে আলোচনা কর।

উত্তর:- আসামের পার্বত্য অঞ্চল কাৰ্বি আংলং ও উত্তর কাছাড় পার্বত্য জেলা লইয়া ঘটিত। এই অঞ্চল পাহাড়-প্রধান হওয়ার কারণে যাতায়াত এবং পরিবহণ ব্যবস্থা বিশেষ উন্নত নহে। স্বাধীনতার পর এই অঞ্চলের যাতায়াত ও পরিবহণ ব্যবস্থার উন্নতিকল্পে গুরুত্ব আরোপ করা হয়। বর্তমানে এই অঞ্চলে পর্ত বিভাগের মোট ৪,৮৬১ কিলোমিটার দৈর্ঘ্য সড়ক আছে। ইহার ১৭০২ কিলোমিটার পাকা রাস্তা এবং অবশিষ্ট ৩,১৫৯ কিলোমিটার কাঁচা রাস্তা। কার্বি আংলং-এর মধ্য দিয়া নগাঁও হইতে ডকমকা, মাঞ্জা প্রভৃতি স্থানের মধ্য দিয়া ৩৬ নং রাষ্ট্রীয় সড়ক ডিমাপুর পর্যন্ত গিয়াছে। পূর্বদিকে নুমালীগড় হইতে ৩৯ নং রাষ্টীয় সড়ক ডিমাপুর পর্যন্ত গিয়াছে। লামডিং হইতে উত্তর কাহাড় পার্বত্য জিলার মধ্য দিয়া ৫৪ নং রাষ্ট্রীয় সড়ক মাইবং ও মাহুর হইয়া দক্ষিণদিকে বরাক উপত্যকায় গিয়াছে। এই রাষ্ট্রীয়পথ ও পূর্তবিভাগের সড়কগুলি ছাড়াও স্বশাসিত জেলা পরিষদের অনেক সরু রাস্তা আছে। পূর্তবিভাগের রাস্তার মধ্যে প্রধান হইল

(১) আমসই হইয়া বৈগেলাংশু ও থামরেণ,

(২) থোগাই হইতে উনকামোকাম

(৩) লঙ্কা হইতে উমরাংশু হইয়া হাফনাং

(৪) ডিফু হইতে লামডিং।

বরাক উপত্যকার বদরপুর হইতে উত্তর কাছাড় পার্বত্য জিলার লামডিং পর্যন্ত ৩৭টি সুড়ঙ্গবিশিষ্ট রেলপথ ১৯০৩ সনে স্থাপিত হইয়াছিল। অঞ্চলটি পাহাড়ি হওয়ায় এখানে জল পরিবহণ ও বিমান পরিবহণ ব্যবস্থা গড়িয়া উঠে নাই।

প্রশ্ন ১১। বরাক উপত্যকার কৃষির বিষয়ে একটি ভৌগোলিক বর্ণনা দাও।

উত্তর:- ব্রহ্মপুত্র উপত্যকার মত বরাক উপত্যকার মানুষেরও প্রধান জীবিকা হইল কৃষিকার্য। বরাক উপত্যকার ৩০ শতাংশ জমি কৃষি উপযোগী। এই অঞ্চলে প্রধান প্রধান শস্য হইলধান, মকৈ, কুশিয়ার, সরিষা এবং চা। উপত্যকায় কিছু পরিমাণ পাটও উৎপন্ন হয়। ফলমূলের মধ্যে কমলা, আনারস, লিচু, আম, কাঁঠাল প্রধান। অর্থ-শস্যের মধ্যে চা প্রধান।

আসামের আঞ্চলিক ভূগোল ধান বরাক উপত্যকার প্রধান শস্য। প্রায় ২ লক্ষ ৪০ হাজার হেক্টর জমিতে ধান চাষ হয়। বর্ষাকালে কালি, আমন, বোরো প্রভৃতি নানাপ্রকার ধান চাষ করা হয়।

ধানের পর মটর ও সরিষা হইল এই অঞ্চলের প্রধান শস্য। প্রায় ২০০০ হেক্টর জমিতে সরিষার চাষ হয়। সরিষা ছাড়াও নানাপ্রকার শাকসজীও উৎপাদিত হয়। | অর্থ-শস্যের মধ্যে পাট, কুশিয়ার ও চা প্রধান। মোট একহাজার হেক্টর জমিতে পাট উৎপন্ন হয়। কুশিয়ার চাষ প্রধানত কাছাড় জিলার পশ্চিমাংশ, হাইলাকান্দি জিলা এবং করিমগঞ্জ জিলার কিয়দংশে করা হয়। প্রায় ৪৫০০, হেক্টর জমিতে কুশিয়ার চাষ করা হয়। চা এই অঞ্চলের প্রধান অর্থ শস্য। বরাক উপত্যকায় মোট ১১৫ খানা চা বাগান আছে। প্রায় ৩০ হাজার হেক্টর জমিতে চা উৎপন্ন হয়। বার্ষিক উৎপাদন প্রায় ৪ কোটি কিলোগ্রাম। পাহাড়ি এলাকায় চা ছাড়া কমলা ও আনারস উৎপাদিত হয়।

প্রশ্ন ১২। আসাম নগরীকণে অনুন্নত কেন বিস্তারিত আলোচনা কর।

উত্তর:- আসামে নগরের সংখ্যা ভারতের অন্যান্য রাজ্যের তুলনায় যথেষ্ট কম। সেইজন্য রাজ্যে নগরের জনসংখ্যাও অপেক্ষাকৃত কম। ২০০১ সালের আদমসুমারি অনুযায়ী আসামে ১০৩টি নগর ও ২৬,২৪৭টি গ্রাম আছে। রাজ্যের মোট জনসংখ্যার শতকরা ১২x৭২ জন লোক নগরে এবং বাকী ৮৭×২৮ জন লোক গ্রামে বাস করে। ইহার তুলনায় সমগ্র ভারতের নগরবাসীর, অনুপাত শতকরা ২৭x৭৪ জন। এই তথ্য হইতে ইহা স্পষ্ট যে আসাম নগরীকরণে অত্যন্ত অনগ্রসর। আসাম কৃষি, শিল্প, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং পরিবহণ ও যাতায়াত ব্যবস্থায় উন্নত নয়। এইজন্যই আসাম নগরীকরণে অনুন্নত।

 

সেবা/অসম দশম শ্রেণী সমাজ বিজ্ঞান

আসামের আঞ্চলিক ভূগোল সম্পর্কীয় প্রশ্ন উত্তর

SEBA/ASSAM CLASS 10 SOCIAL SCIENCES

Visit – www.smartlearningservice.com

 

প্রশ্ন ১৩। আসামে কি কি ভিত্তিতে নগরসমূহ গড়িয়া উঠিয়াছে?

উত্তর:- আমামে নগরসমূহ বিভিন্ন বিষয়ের উপর ভিত্তি করিয়া গড়িয়া উঠিয়াছে:-

(১) প্রশাসনের কেন্দ্র হিসাবে অর্থাৎ জিলার বা মহকুমার সদর হিসাবে অনেক শহর গড়িয়া উঠিয়াছে। যেমনগুয়াহাটী, নগাওঁ, শিলচর, করিমগঞ্জ, হাইলাকান্দি প্রভৃতি।

(2) চা শিল্পের উপর ভিত্তি করিয়া কয়েকটি শহর গড়িয়া উঠিয়াছে। যেমনদুমদুমা, চাবুয়া, নাজিরা, দেড়গাও, উদালগুড়ি প্রভৃতি।

(৩) স্থানীয় কুটীরশিল্পের উপর ভিত্তি করিয়া কোন কোন শহর গড়িয়া উঠিয়াছে। যেমনসার্থেবাড়ী, শুয়ালকুচি, বঙ্গাইগাওঁ প্রভৃতি।

(4) যাতায়াত-পরিবহণ, বিশেষত রেল জংশন হিসাবে কোন কোন শহর গড়িয়া উঠিয়াছে। যেমনলামডিং, মরিয়ানি, তিনসুকিয়া, বদরপুর প্রভৃতি।

(৫) তৈলক্ষেত্র ও তৈল উদ্যোগের উপর ভিত্তি করিয়া কোন কোন শহর গড়িয়া উঠিয়াছে। যেমনডিগবয়, দুলিয়াজান, নাহারকাটিয়া, দুলিজান, বঙ্গাইগাওঁ প্রভৃতি।

প্রশ্ন ১৪। ব্রহ্মপুত্র উপত্যকার একটি সংক্ষিপ্ত ভূ-প্রাকৃতিক বিবরণ দাও।

উত্তর:- ব্ৰহ্মপুত্ৰ উপত্যকা আসামের উত্তরাংশে ভুটান ও অরুণাচল হিমালয়ের পাদদেশে অবস্থিত। পূর্বে তিনসুকীয়া জিলার শদিয়া মহকুমা হইতে পশ্চিমে ধুবড়ী মহকুমা পর্যন্ত এই উপত্যকা বিস্তৃত। উপত্যকায় মোট ১৮টি জিলা আছে। উপত্যকার আয়তন প্রায় ৫৪,৪০০ বর্গ কিলোমিটার। এই অঞ্চল আসামের শতকরা ৬৯x৫ অংশ বিস্তৃত। পূর্ব-পশ্চিমে এই উপত্যকার দৈর্ঘ্য প্রায় ৭২০ কিঃ মিঃ এবং উত্তর-দক্ষিণে ইহার প্রস্থ প্রায় ৯০ কিঃ মিঃ। এই উপত্যকায় প্রায় ৪০টি উপনদী ব্রহ্মপুত্রে পতিত হইয়াছে। প্রধান প্রধান উপনদীগুলি হইলসবর্ণশিরি, ডিক্রং, বুরৈ, বরগাং, গাভারু, ধনশিরি, পাগলাদিয়া, মানস প্রভৃতি।

ব্ৰহ্মপুত্ৰ উপত্যকার ভূ-প্রকৃতির একটি প্রধান বৈশিষ্ট্য হইল বর্ষাকালে অতিবৃষ্টির ফলে ব্রহ্মপুত্র ও উপনদীগুলির জল সমগ্র উপত্যকায় প্রলয়াকার বন্যার সৃষ্টি করে। ফলে জীবন হানি ও নানাপ্রকারের ক্ষয়ক্ষতি হয়।

ব্রহ্মপুত্র নদীর উজান ভাগে যোড়হাট জিলার উত্তরাংশে মাজুলী নামে একটি নদী-দ্বীপ আছে। ইহা পৃথিবীর বৃহত্তম নদী-দ্বীপ। মাজুলীর আয়তন প্রায় ৮০০ বর্গ কিলোমিটার।

ব্রহ্মপুত্রের প্রধান প্রধান উপনদীগুলি পাহাড়ের মধ্য দিয়া প্রবাহিত হইয়া আঁকিয়া বাঁকিয়া যায়। ফলে সমতলে ভূমিক্ষয় সংগঠিত হয়। ভূমিক্ষয়ের ফলে গড়িয়া উঠা একটি ভূ-অবয়ব হইল ব্রহ্মপুত্রের তীরের টিলাসমূহ। পূর্বে বিশ্বনাথ হইতে পশ্চিমে মান কাছাড় পর্যন্ত ব্রহ্মপুত্রের দুই তীরে প্রাচীন শিলাঘটিত টিলা ও পাহাড় আছে।

ব্ৰহ্মপুত্ৰ উপত্যকার আর একটি প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য হইল ইহার উত্তর অংশে হিমালয়ের পাদদেশ সংলগ্ন অঞ্চলে ঘন অরণ্য দেখা যায়। এই অঞ্চলে দক্ষিণাংশের ঘন অরণ্যকে তরাই অঞ্চল বলা হয়। উপত্যকার দক্ষিণদিকে নাগা পাহাড়, কাঠিপাহাড় ও মেঘালয় পাহাড়ের পাদদেশে অরণ্য এবং মধ্যে মধ্যে জলাভূমিও দেখা যায়।

প্রশ্ন ১৫। বরাক উপত্যকার একটি সংক্ষিপ্ত ভূ-প্রাকৃতিক বিবরণ দাও।

উত্তর:- আসামের দক্ষিণ অংশে বরাক উপত্যকা অবস্থিত। ইহা পূর্ব-পশ্চিমে প্রায় ৮৫ কিঃ মিঃ দীর্ঘ এবং উত্তর-দক্ষিণে গড়ে প্রায় ৭০ কিঃ মিঃ বিস্তৃত। বরাক উপত্যকার আয়তন ৬৯৬২ বর্গ কিলোমিটার। এই অঞ্চল প্রধানত সমতল। উপত্যকায় কাছাড়, করিমগঞ্জ ও হাইলাকান্দি এই তিনটি জিলা আছে। উপত্যকার উত্তরে উত্তর কাছাড় পাহাড়, পূর্বে মণিপুরের পাহাড় এবং দক্ষিণে মিজোরামের পাহাড় অবস্থিত। পশ্চিমাংশ বাংলাদেশের সুরমা উপত্যকা সংলগ্ন।

তিনদিকে পাহাড়ঘেরা বরাক উপত্যকা প্রধানত নিম্নভূমি। উপত্যকার পূর্বাংশ সমুদ্রপৃষ্ঠ হইতে ৭৫ মিটার এবং পশ্চিমে করিমগঞ্জের উপর ইহার উচ্চতা ৫১ মিটার। এই উপত্যকার মধ্য দিয়া পূর্ব-পশ্চিমে বরাক নদী আঁকিয়া বাঁকিয়া প্রবাহিত হইয়াছে। উত্তরে মণিপুর ও উত্তর কাছাড় পার্বত্য অঞ্চল হইতে জিরি, মথুরা, লাবাক, ডলু, জাটিঙ্গা প্রভৃতি উপনদী বরাকে আসিয়া মিলিত হইয়াছে। দক্ষিণে মিজোরাম হইতে সোনাই, কাটাখাল, ধলেশ্বরী, সিংলা ও লঙ্গাই আসিয়া বরাকে মিলিত হইয়াছে। এই উপত্যকায় হাওর বিল, ঝিল প্রভৃতি আছে। শানবিল হইল এশিয়ার সর্ববৃহৎ বিল। ইহা ছাড়া বরাক উপত্যকার উত্তর-দক্ষিণ দিকে অনেক টিলা, পাহাড় প্রভৃতি আছে। পাহাড়ের পাদদেশ ঘন অরণ্যে পরিপূর্ণ।

প্রশ্ন ১৬। পার্বত্য অঞ্চলের একটি সংক্ষিপ্ত ভূপ্রাকৃতিক বিবরণ দাও।

উত্তর:- আসামের পার্বত্য অঞ্চল ব্ৰহ্মপুত্র ও বরাক উপত্যকার মধ্যে অবস্থিত। এই পার্বত্য ভূমির উত্তরাংশ হইল কাঠি মালভূমি এবং দক্ষিণাংশ হইল উত্তর কাছাড় পার্বত্য অঞ্চল।

কার্বি মালভূমি মেঘালয় মালভূমির অন্তর্গত। এই অংশ বহু প্রাচীনকাল হইতে ছিল। কালক্রমে ইহার উপরের অংশ অবক্ষয়, নগ্নীভবন প্রভৃতি ক্ষয়কার্যের ফলে ধ্বংসপ্রাপ্ত হইয়া অবশিষ্ট অংশ পাহাড় হিসাবে বিদ্যমান। কার্বি মালভূমির পশ্চিমাংশের নাম হামরেন।

ইহা জয়ন্তিয়া মালভূমির অংশবিশেষ। এই পাহাড়ের উচ্চতা ১০০ মিটার হইতে ৫০০ মিটার পর্যন্ত। মালভূমির মধ্যভাগের উচ্চ পাহাড়শ্রেণিকে বেংমা পাহাড়শ্রেণি বলে। ইহাতে কার্বি মালভূমির উচ্চতম শৃঙ্গদ্বয় সিংহাসন ও দাম্বকাছে অবস্থিত। এই মধ্যাংশ ইহতে উত্তর এবং পূর্বে নামবর, বালিয়ানী, দৈগুরুং, ডিফলু প্রভৃতি নদী এবং পশ্চিমদিক হইতে মিছা, ডিজু, চাপানালা, ননৈ, যমুনা প্রভৃতি নদী প্রবাহিত হইয়াছে। মূল কার্বি মালভূমির দক্ষিণ-পূর্ব ও পূর্বে ধনশিরি নদী এবং দক্ষিণ-পশ্চিম দিক হইতে কপিলী ও ইহার উপনদী দিয়ুং প্রবাহিত হইয়াছে।

উত্তর কাছাড় পার্বত্য জিলার পাহাড়-পর্বতসমূহ হিমালয় পর্বতশ্রেণীর অন্তর্গত। ইহা ৫ হইতে ১০ নিযুত বছরের মধ্যে সৃষ্টি হয়। জিলার মধ্যভাগে দক্ষিণ-পশ্চিম হইতে উত্তর-পূর্ব পর্যন্ত বড়াইল নামে একটি পর্বতশ্রেণি আছে। ইহা ১০০০ মিটার হইতে ১৯০০ মিটার উঁচু। আসামের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ বড়াইল পাহাড় এখানে অবস্থিত। পর্বতশৃঙ্গের মধ্যে মেই, পিরুং, হেমপ্লেপেট, হেমেওলয়া, মহাদেব প্রভৃতি প্রধান পার্বত্য অঞ্চলের উত্তরদিকের উপনদীগুলি ব্রহ্মপুত্রে এবং দক্ষিণ দিকের উপনদীগুলি বরাকে পতিত হইয়াছে।

প্রশ্ন ১৭। পার্বত্য অঞ্চলের কৃষিকার্যের বিষয়ে আলোচনা কর।

উত্তর:- ভূ-প্রাকৃতিক অসুবিধার জন্য আসামের পার্বত্য অঞ্চল কৃষিকার্যে উন্নত নহেএখানে কৃষিকার্য প্রধানত জুম চাষের মাধ্যমেই করা হয়। এই অঞ্চলের উপজাতি কৃষকগণের কৃষিপদ্ধতি অতি প্রাচীন। ফলে এখানে শস্য উৎপাদন কম হয়। পাহাড়ি মানুষ বন জঙ্গল কাটিয়া অথবা আগুনে পুড়াইয়া পাহাড়ের বুকে কৃষিকার্য করে। ইহাকে জুম চাষ বলে। সাধারণত আউস জাতীয় ধান, মটক, আলু, মিষ্টিআলু, কচু, আদা, তিল, সরিষা প্রভৃতি শস্য জুম চাষের মাধ্যমে করা হয়। উল্লেখ্য যে উভয় পাহাড়ের মধ্যে মধ্যে কিছু পরিমাণ সমতল

আসামের আঞ্চলিক ভূগোল। ভুমিও আছে। এই সকল অঞ্চলে কিছু বোরো ধান হয়। বকুলীয়া ঘাটে যমুনা নদীতে বাঁধ দিয়া শালিধান চাষের ব্যবস্থা করা হইয়াছে। বর্তমানে কাৰ্বি আংলং এর প্রায় ১,২২,৩৫১ হেক্টর এবং উত্তর কাছাড় পার্বত্য জিলার ১৪,৯০৮ হেক্টর জমিতে শালিধান চাষ করা হয়। ভাতই এই অঞ্চলের মানুষের প্রধান খাদ্য। কাৰ্বি আংলং-এর কৃষিভূমির প্রায় ৭০ শতাংশে এবং উত্তর কাছাড় জিলার প্রায় ৪৫ শতাংশে ধান চাষ করা হয়। এই অঞ্চলের প্রায় ২০০০ হেক্টর জমিতে কার্পাস চাষ হয়। সরিষাও এই অঞ্চলের একটি প্রধান শস্য।

অর্থ-শস্যের মধ্যে চা প্রধান। কাৰ্বি আংলং-এর পূর্বে পাহাড়ের পাদদেশে প্রায় ১৫ টি চা বাগান আছে। চা-এর পর রবার একটি প্রধান অর্থ-শস্য। কার্বি। আংলং- এ ৭টি এবং উত্তর কাছাড়ে ৪টি রবার বাগান আছে। পার্বত্য অঞ্চলে কিছু পরিমাণে কফি চাষও হয়। কাৰ্বি আংলং-এ ৫টি এবং উত্তর কাছাড়ে ৪টি কফি বাগান আছে। বছরে প্রায় ১২০ টন কফি উৎপাদন হয়। পার্বত্য অঞ্চলে যথেষ্ট পরিমাণে উৎকৃষ্ট কমলা ও আনারস উৎপাদন হয়।

প্রশ্ন ১৮। ব্রহ্মপুত্র উপত্যকার কৃষির বিষয়ে একটি ভৌগোলিক বর্ণনা দাও।

উত্তর:- আসাম একটি কৃষিপ্রধান রাজ্য। আসামের ভূ-প্রকৃতি ও জলবায়ু কৃষি-উপযোগী। ব্রহ্মপুত্র উপত্যকায় ধান, পাট, সরিষা, মটক, কুশিয়ার বিভিন্ন প্রকার শাসজী ও চা উৎপাদন হয়। উপত্যকায় কলা নারিকেল, কমলা, লিচু, আম, কাঠাল, আনারস প্রভৃতি বিভিন্ন প্রকার ফল উৎপাদিত হয়।।

ব্ৰহ্মপুত্ৰ উপত্যকায় প্রায় ৩০ হাজার বর্গ কিলোমিটার জমিতে কৃষিকার্য করা হয়। ধান আসামের প্রধান শস্য। প্রায় ২১ লক্ষ হেক্টর জমিতে ধান চাষ হয়। ব্ৰহ্মপুত্ৰ উপত্যকায় বার্ষিক প্রায় ২৬ লক্ষ টন ধান উৎপাদিত হয়।

ধানের পর পাট হইল প্রধান শস্য। উপত্যকার মধ্য ও নিম্নভাগে বর্ষাকালে জল জমিয়া থাকে এমন স্থানে পাট চাষ করা হয়। নগাঁও, মরিণাঁও, দরং, নলবাড়ী, বরপেটা, গোয়ালপাড়া, বঙ্গাইগাওঁ ও ধুবড়ী জিলাতে প্রচুর পরিমাণে পাট উৎপন্ন হয়। মোট ৭০ হাজার হেক্টর জমিতে পাট চাষ হয়।

কুশিয়ার ব্রহ্মপুত্র উপত্যকার একটি প্রধান শস্যগোলাঘাট, নগাঁও, শোনিতপুর, কামরূপ ও বরপেটা জিলায় কিছু পরিমাণ কুশিয়ার চাষ হয়। ব্ৰহ্মপুত্ৰ উপত্যকার প্রায় ৩০ হাজার হেক্টর জমিতে কুশিয়ার চাষ হয়।

ব্রহ্মপুত্র উপত্যকায় ভুট্টা বা মকাইও কিছু পরিমাণে উৎপাদিত হয়। প্রধানত উপজাতি, নেপালী ও চা-জনজাতির মানুষ মকাই চাষ করে। প্রায় ১২ হাজার হেক্টর জমিতে ভুট্টা চাষ হয়। উপত্যকায় কিছু পরিমাণ গমও উৎপাদিত হয়। প্রায় ৭০ হাজার হেক্টর জমিতে গম চাষ হয়।

ব্ৰহ্মপুত্ৰ উপত্যকায় কলা, আনারস, কমলা ও নারিকেল যথেষ্ট পরিমাণে হয়। তিনসুকীয়া জিলা, গোলাঘাট জিলা, কামরূপ জিলার দক্ষিণাংশ ও গোয়ালপাড়া জিলার দক্ষিণাংশে আনারস ভাল হয়। দক্ষিণ কামরূপ ও দক্ষিণ গোয়ালপাড়ার বকো, ধূপধরা, দুধনৈ অঞ্চল কলার জন্য ভারত বিখ্যাত। নারিকেল প্রধানত মরিগাওঁ, কামরূপ, দরং ও নলবাড়ী জিলায় প্রচুর পরিমাণে উৎপাদিত হয়।

প্রশ্ন ১৯। ব্রহ্মপুত্র উপত্যকার খনিজভিত্তিক শিল্প উদ্যোগের বিষয়ে আলোচনা কর।

উত্তর:- ব্রহ্মপুত্র উপত্যকার পূর্বদিকে ডিগবয়, টোখাট, দুলিয়াজান, নাহারকাটিয়া, মরান, রুদ্রসাগর, আমগুড়ি, লংচাই প্রভৃতি স্থানে খনিজ তেল পাওয়া যায়। নাহারকাটিয়া, মরান, রুদ্রসাগর, লাকুবা প্রভৃতি স্থানে তেল ছাড়াও প্রাকৃতিক গ্যাস পাওয়া যায়। এই তৈলক্ষেত্রগুলি হইতে উত্তোলন করা তেল, বিহারের বারাউনি শোধনাগারে পাইপ লাইনের মাধ্যমে প্রেরণ করা হয়। ইহা ছাড়া আসামের ডিগবয়, নুমলীগড়, নুনমাটি ও বঙ্গাইগাওঁ শোধনাগারে তেল পরিশোধিত করিয়া কেরোসিন, ডিজেল, পেট্রল, মোমবাতি প্রভৃতি তৈরী করা হয়। ডিগবয় শোধনাগার এশিয়ার প্রথম তৈল শোধনাগার। এখানে বছরে প্রায় ৩ লক্ষ টন পেট্রল, ডিজেল ও কেরোসিন উৎপাদিত হয়। নুনমাটি শোধনাগার হইতে বছরে প্রায় ১ নিযুত টন তৈলজ দ্রব্য সংগ্রহ করা হয়।

ইহা ব্যতীত ডিব্ৰুগড় জিলার নামরূপে আসাম সরকার খনিজ তেলের ভিত্তিতে আসাম পেট্রোকেমিকেলস লিমিটেডনামে একটি রাসায়নিক দ্রব্য প্রস্তুত করা কারখানা স্থাপন করিয়াছে। এখানে মেথানল, ফর্মোনিল, পেট্রোলাইট

আসামের আঞ্চলিক ভূগোল প্রভূতি তৈয়ার করা হয়। নামরূপে ভারতীয় সার নিগমের একটি সার কারখানা আছে। এই কারখানায় প্রাকৃতিক গ্যাসকে কাঁচামাল হিসাবে ব্যবহার করিয়া রাসায়নিক সার তৈরী করা হয়। কামরূপ, নলবাড়ী ও বঙ্গাইগাওঁ জিলায় পেট্রোপণ্য হইতে উৎপাদিত সূতা দ্বারা কাপড় তৈরীর কারখানা প্রতিষ্ঠিত হইয়াছে। দুলিয়াযান ও উত্তর গুয়াহাটীতে রান্নাগ্যাসের সিলিণ্ডার ভর্তি করার কারখানা আছে।

প্রশ্ন ২০। ব্ৰহ্মপুত্ৰ উপত্যকার বনজ সম্পদ সম্পর্কে আলোচনা কর।

উত্তর:- কোন অঞ্চলের বনজ সম্পদ সেই অঞ্চলের অবস্থান, ভূ-প্রকৃতি ও জলবায়ুর উপর নির্ভর করে। আসাম ক্রান্তীয়-মৌসুমী অঞ্চলের অন্তর্গত। এখানে বর্ষাকালে প্রচুর বৃষ্টিপাত হয়।

ব্ৰহ্মপুত্ৰ উপত্যকা তথা সমগ্র আসামে পর্ণপাতী ও চিরহরিৎ উভয় প্রকার উদ্ভিদ দেখা যায়। পর্ণপাতী উদ্ভিদের মধ্যে শাল, সেগুন, বনসোম, গামারি,

সমাজ বিজ্ঞান সহায়িকা শিমুল, শিরিষ, কাঠাল, বাদাম প্রভৃতি প্রধান। চিরহরিৎ উদ্ভিদের মধ্যে হলং, নাহর, হলক, শিশু, তিতাচাপা, আম, গর্জন, অগরু প্রধান।

ব্ৰহ্মপুত্ৰ উপত্যকায় প্রচুর পরিমাণে বাঁশ ও শন উৎপাদিত হয়। তরাই অঞ্চলে উলু, বেত, খড়, শন প্রভৃতি পাওয়া যায়। এই সামগ্রীগুলি ঘর প্রস্তুত অন্যান্য কাজে ব্যবহৃত হয়। ব্ৰহ্মপুত্ৰ উপত্যকায় বর্তমান ১২,৫১২ বর্গ কিঃ মিঃ পরিমাণ এলাকায় সংরক্ষিত বন আছে।

ব্ৰহ্মপুত্ৰ উপত্যকার আর্থিকভাবে মূল্যবান গাছপালার মধ্যে শাল, সেগুন, গামারি, শিশু, চম্পা, তিতাচাপা, বনসোম, বাঁশ, বেত প্রভৃতি প্রধান। এই বৃক্ষগুলি ঘর-বাড়ী ও নানাপ্রকার আসবাবপত্র তৈয়ার করিতে ব্যবহার করা হয়। শিমুল, হলং, হলফ প্রভৃতি কোমল উদ্ভিদ প্লাইউড ও দেশলাই তৈরীর কাজে ব্যবহৃত হয়। ইহা ছাড়া নিম, তুলসী, দ্রোণ, গন্ধসবৈ, অপরাজিতা, নয়নতারা, অশোক, অর্জুন প্রভৃতি নানাবিধ বনৌষধি উদ্ভিদও আসামে পাওয়া যায়।

ব্ৰহ্মপুত্ৰ উপত্যকার বনে জঙ্গলে নানাপ্রকার বন্যপ্রাণী পাওয়া যায়। কাজিরাঙ্গায় একশৃঙ্গী গণ্ডার, উজানি আসামে হুলো বানর, হাতী, বাঘ, ভল্লুক, প্রভৃতি প্রধান। উপত্যকায় নদী, উপনদী, বিল ও নানাবিধ জলাশয়ে নানাপ্রকার মাছ পাওয়া যায়।

 

সেবা/অসম দশম শ্রেণী সমাজ বিজ্ঞান

আসামের আঞ্চলিক ভূগোল সম্পর্কীয় প্রশ্ন উত্তর

SEBA/ASSAM CLASS 10 SOCIAL SCIENCES

Visit – www.smartlearningservice.com

 

 

অতিরিক্ত প্রশ্নোত্তর

প্রশ্ন ১। ব্রহ্মপুত্র উপত্যকার প্রধান উপনদীগুলির নাম লিখ।

উত্তর:- ব্রহ্মপুত্রের উত্তর তীরের প্রধান উপনদীগুলি হইলমুকাশিরি, বঙ্গানি, ডিক্রং, বড়গা, জীয়া ভরলু, গাজরু, জীয়া ধনশিরি, পাগলাদিয়া, মানস, চম্পামতী, সরলভাগা, গদাধর প্রভৃতি। দক্ষিণ তীরের প্রধান উপনদীগুলি হইলডিব্ৰু, বুঢ়ীদিহিং, ডিসাং, দিসৌ, ভোগদৈ, বাকডােঙ্গা, ধনশিরি, কলং, কাপিলী, ডিগারু, কুলসী প্রভৃতি।

প্রশ্ন ২। তরাই অঞ্চল কাহাকে বলে?

উত্তর:- ব্ৰহ্মপুত্ৰ উপত্যকার উত্তর অংশের হিমালয় পাদদেশ সংলগ্ন অঞ্চলে গভীর অরণ্য দেখা যায়। এই অরণ্যের দক্ষিণ সংলগ্ন অঞ্চলে সেমেকা মাটিতে বড় বড় গাঢ় বন দেখা যায়। এই অঞ্চলকে তরাই অঞ্চল বলে।

প্রশ্ন ৩ আসামের বনজ সম্পদের একটি সংক্ষিপ্ত বিবরণ দাও।

উত্তর:- কোন অঞ্চলের বনজ সম্পদ সেই অঞ্চলের অবস্থান, ভূ-প্রকৃতি ও জলবায়ুর উপর নির্ভর করে। আসাম ক্রান্তীয়-মৌসুমী অঞ্চলের অন্তর্গত। এখানে বর্ষাকালে প্রচুর বৃষ্টিপাত হয়।

ব্ৰহ্মপুত্ৰ উপত্যকা তথা সমগ্র আসামে পর্ণপাতী ও চিরহরিৎ উভয় প্রকার উদ্ভিদ দেখা যায়। পর্ণপাতী উদ্ভিদের মধ্যে শাল, সেগুন, বনসোম, গামারি,

সমাজ বিজ্ঞান সহায়িকা শিমুল, শিরিষ, কাঠাল, বাদাম প্রভৃতি প্রধান। চিরহরিৎ উদ্ভিদের মধ্যে হলং, নাহর, হলক, শিশু, তিতাচাপা, আম, গর্জন, অগরু প্রধান।

ব্ৰহ্মপুত্ৰ উপত্যকায় প্রচুর পরিমাণে বাঁশ ও শন উৎপাদিত হয়। তরাই অঞ্চলে উলু, বেত, খড়, শন প্রভৃতি পাওয়া যায়। এই সামগ্রীগুলি ঘর প্রস্তুত অন্যান্য কাজে ব্যবহৃত হয়। ব্ৰহ্মপুত্ৰ উপত্যকায় বর্তমান ১২,৫১২ বর্গ কিঃ মিঃ পরিমাণ এলাকায় সংরক্ষিত বন আছে।

ব্ৰহ্মপুত্ৰ উপত্যকার আর্থিকভাবে মূল্যবান গাছপালার মধ্যে শাল, সেগুন, গামারি, শিশু, চম্পা, তিতাচাপা, বনসোম, বাঁশ, বেত প্রভৃতি প্রধান। এই বৃক্ষগুলি ঘর-বাড়ী ও নানাপ্রকার আসবাবপত্র তৈয়ার করিতে ব্যবহার করা হয়। শিমুল, হলং, হলফ প্রভৃতি কোমল উদ্ভিদ প্লাইউড ও দেশলাই তৈরীর কাজে ব্যবহৃত হয়। ইহা ছাড়া নিম, তুলসী, দ্রোণ, গন্ধসবৈ, অপরাজিতা, নয়নতারা, অশোক, অর্জুন প্রভৃতি নানাবিধ বনৌষধি উদ্ভিদও আসামে পাওয়া যায়।

ব্ৰহ্মপুত্ৰ উপত্যকার বনে জঙ্গলে নানাপ্রকার বন্যপ্রাণী পাওয়া যায়। কাজিরাঙ্গায় একশৃঙ্গী গণ্ডার, উজানি আসামে হুলো বানর, হাতী, বাঘ, ভল্লুক, প্রভৃতি প্রধান। উপত্যকায় নদী, উপনদী, বিল ও নানাবিধ জলাশয়ে নানাপ্রকার মাছ পাওয়া যায়।

প্রশ্ন ৪। আসামের শিল্পোদ্যোগ সম্পর্কে একটি সংক্ষিপ্ত বিবরণ দাও।

উত্তর:- শিল্পোদ্যোগে আসাম তথা সমগ্র উত্তর-পূর্বাঞ্চল ভারতের অন্যান্য অঞ্চল হইতে পশ্চাৎপদ। আসামে শিল্পোদ্যোগের প্রয়োজনীয় কাঁচামাল পাওয়া গেলেও নানাকারণে আসাম শিল্প উদ্যোগে অনগ্রসর।

আসামে গড়িয়া ওঠা শিল্প উদ্যোগসমূহকে কুটীর শিল্প এবং কারখানা বা ফেক্টরী শিল্পএই দুইভাগে ভাগ করা যায়। এই অঞ্চলে প্রধান কুটীরশিল্প হইল হস্ত-তাঁত। বর্তমানে ব্রহ্মপুত্র উপত্যকায় প্রায় আড়াই লক্ষ হস্ত-তঁত আছে। এইগুলিতে সুতি, এড়ি, মূগা ও পাটের কাপড় তৈরী হয়। এড়ি ও মূগা উৎপাদনে আসাম পৃথিবী বিখ্যাত।

তাঁতশিল্পের পর উল্লেখযোগ্য কুটীরশিল্প হইল কাঁসা ও পিতলের বাসন শিল্প। বড়পেটা জিলার সার্থেবাড়ী ও কামরূপ জিলার হাজোয় কঁসা ও পিতলের মন-পত্র তৈরী হয়। ইহা ছাড়া কুটীরশিল্পের মধ্যে সোনা রূপার অলঙ্কার কবী, বাঁশবেতের সামগ্রী, কাঠের সামগ্রী, মাটির বাসন অন্যতম। কারখানা ভত্তিক উদ্যোগের মধ্যে প্লাইউড উৎপাদন এই অঞ্চলের একটি প্রধান উদ্যোগ। সপত্র উপত্যকায় বছরে প্রায় ১ কোটি ২০ লক্ষ বর্গমিটার প্লাইউড প্রস্তুত হয়। মরিগাওঁ জিলার জাগিরোডে এবং হাইলাকান্দি জিলার পাঁচগ্রামে কাগজ কল আছে। কামরূপ জিলার হাইলাকান্দিতে একটি হাডবোর্ড তৈরীর কারখানা আছে। শোনিতপুর জিলার চারিদুয়ারে কার্পাস-সূতা তৈরীর কারখানা আছে। শিলঘাটে একটি পাটকল আছে। হোজাই ও চেরাগিতে চিনি কল আছে।

আসামে কয়েকটি তৈল উদ্যোগ আছে। ডিগবয় শোধনাগার এশিয়ার প্রথম স্থাপিত শোধনাগার। নূনমাটি, বঙ্গাইগাওঁ, নুমলীগড়ে তৈল শোধনাগার আছে। এইগুলিতে নানাপ্রকার পেট্রোপণ্য উৎপাদিত হয়। আসামে ছোট খাটো বস্ত্রশিল্পও আছে। রঙ্গিয়ার নিকট তুলসিবাড়ীতে এপলোবস্ত্র কারখানা আছে। দুলিয়াজান ও উত্তর গুয়াহাটীতে গ্যাস সিলিণ্ডার ভর্তির কারখানা আছে।

ইহা ছাড়া আসামের প্রায় সর্বত্র প্লাষ্টিক, বস্তা, ব্যাগ ও বিভিন্ন প্রকার সামগ্রীর কারখানা আছে। রাজ্যে কয়েকটি সিমেন্ট কারখানাও আছে। বঙ্গাইগাওঁ ও অন্যান্য কয়েকটি স্থানে এলুমিনিয়েম কারখানাও আছে।

প্রশ্ন ৫। বরাক উপত্যকার বনজ সম্পদ সম্পর্কে একটি সংক্ষিপ্ত বিবরণ দাও।

উত্তর:- ব্রহ্মপুত্র উপত্যকার মত বরাক উপত্যকাও ক্রান্তীয়-মৌসুমী জলবায়ুর অন্তর্গত। সুতরাং ক্রান্তীয়-মৌসুমীর চিরহরিৎ ও পর্ণপাতী অরণ্য এই উপত্যকায় দেখা যায়। উপত্যকার প্রায় ৩৫ শতাংশ অঞ্চল পাহাড়, টিলা ও জলাভূমি ঘেরা। ইহার উত্তরে উত্তর কাছাড় পাহাড়ের পাদদেশ এবং উত্তর কাছাড় ও বড়াইল নামে দুইটি সংরক্ষিত বনাঞ্চল আছে। উপত্যকার পূর্বদিকে মণিপুর পাহাড়ের পাদদেশে উজান জিরি, নিম্নজিরি ও বরাক নামে তিনটি সংরক্ষিত বন আছে। এইগুলি ছাড়াও দক্ষিণ মিজোরামের পাহাড়ের পাদদেশে আছে বৃহৎ ইনারলাইন, সোনাই, সিংলা ও লঙ্গাই সংরক্ষিত বন। উপত্যকার পাশ্চম অংশে আছে বাদশাহ টিলা, দোহালীয়া ও তিলভূম পাহাড় নামে তিনটি সংরক্ষিত বনাঞ্চল। এই সকল সংরক্ষিত বনাঞ্চলগুলি ক্রান্তীয় মৌসুমীয় উদ্ভিদে ভরা। এই সকল অরণ্যের ফাকে ফাকে চা বাগান দেখা যায়। বরাক উপত্যকায় আম, সুন্দি, সেগুন, গামারি, জাম, শিমুল প্রভৃতি গাছ প্রধান। ইহা ছাড়া পাহাড় ও পাহাড়ের পাদদেশে নানা প্রকার বাঁশ পাওয়া যায়। উপত্যকার নিম্নভূমিতে বেত, ইকড়, সূর্তা, শন প্রভৃতি পাওয়া যায়।

বরাক উপত্যকার বন্য প্রাণীর মধ্যে হাতী, বাঘ, হরিণ, বনরৌ, বানর প্রধান। নদী, বিল, খাল, জলাশয় প্রভৃতিতে নানা প্রকার মাছ পাওয়া যায়। মা েমধ্যে রুই, কাতলা, বোয়াল, শউল, মাগুর, মৃগেল, শিঙ্গি, কই প্রভৃতি প্রধান।

প্রশ্ন ৬ বরাক উপত্যকার শিল্পোদ্যোগ সম্পর্কে সংক্ষেপে আলোচনা কর।

উত্তর:- উত্তর পূর্বাঞ্চলের অন্যান্য অঞ্চলের মত বরাক উপত্যকা শিল্পোদ্যোগে উন্নত নহে। এখানে কৃষিভিত্তিক উদ্যোগের মধ্যে চা-শিল্পই প্রধান। ইহা ছাড়া হাইলাকান্দি জিলার পাঁচগ্রামে একটি কাগজ কল আছে। করিমগঞ্জ জিলার চরগোলাতে একটি চিনি কল আছে। অরণ্যকুশিয়ারের নিয়মিত যোগান না থাকায় মধ্যে মধ্যে উৎপাদন বন্ধ থাকে।

উপত্যকায় অন্য কোন উল্লেখযোগ্য শিল্প গডিয়া উঠে নাই। উপত্যকার তিন জিলাতে পূঞ্জীভূত মোট ২৪০০ টি ক্ষুদ্র উদ্যোগ আছে। ইহার মধ্যে বিস্কুট ও পাউরুটির কারখানা প্রধান। বাঁশ-বেত ও কাঠেরও আসবারপত্র তৈরীর কারখানাও বরাক উপত্যকায় আছে। প্লাষ্টিক ব্যাগ তৈরীর কয়েকটি ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র কারখানাও এই উপত্যকায় আছে। সোনা রূপার অলঙ্কার তৈরীর অনেকগুলি কারখানা আছে। কুটিরশিল্প হিসাবে মাটির বাসনও তৈরী হয়। বর্তমানে বদরপুরে একটি সিমেন্ট কারখানা প্রতিষ্ঠিত হইয়াছে। কাছাড় জিলার বড়খলায় গ্যাস সিলিণ্ডার ভর্তি করার একটি কারখানা আছে।

প্রশ্ন ৭। বরাক উপত্যকার যাতায়াত ও পরিবহণ ব্যবস্থার একটি সংক্ষিপ্ত বিবরণ দাও।

উত্তর:- বরাক উপত্যকার পরিবহণ ও যাতায়াত ব্যবস্থা বিশেষ উন্নত নহে। উপত্যকার তিনদিক পাহাড়বেষ্টিত এবং একদিকে বাংলাদেশ থাকার ফলে পরিবহণ ব্যবস্থায় নানাপ্রকার প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি হয়।

আসামের আঞ্চলিক ভূগোল সড়ক পরিবহণ ও বরাক উপত্যকার মোট ২,১৬০ কিঃ মিঃ দীর্ঘ জাতীয় সড়ক এবং রাজ্যিক পূর্তবিভাগীয় সড়ক পথ আছে। ইহা ব্যতীত পঞ্চায়েত জিলা পরিষদ ও পৌরসভার কিছু সরু সরু রাস্তা আছে। করিমগঞ্জ জিলার মধ্য দিয়া ৪ নং জাতীয় সড়ক শিলং হইতে বদরপুর করিমগঞ্জ, পাথরকান্দি হইয়া ত্রিপুরা গিয়াছে। ৫৪ নং জাতীয় সড়ক এই উপত্যকার মধ্য দিয়া শিলচর হইয়া মিজোরাম গিয়াছে। ৫৩ নং জাতীয় সড়ক বদরপুর হইতে শিলচর, বাশকান্দি ও লখিমপুর হইয়া মণিপুর গিয়াছে। ১৫৪ নং জাতীয় সড়ক হাইলাকান্দি জিলার ধলেশ্বরী হইতে হাইলাকান্দি, লাল ও কাটলিচাড়া হইয়া মিজোরামের জমিরা পর্যন্ত গিয়াছে। পূর্তবিভাগের প্রধান প্রধান রাস্তাগুলি হইল করিমগঞ্জ হইতে রাতাবাড়ী হইয়া রামকৃষ্ণ নগর। হাইলাকান্দি হইতে ধোয়ারবন্দ ও দরগাকোনা হইয়া শিলচর প্রভৃতি।      রেল পরিবহণ ও বরাক উপত্যকায় ১৮৯৬ সালে সর্বপ্রথম পূর্ববঙ্গ (বর্তমান বাংলাদেশ) হইতে বদরপুর পর্যন্ত একটি রেলপথ স্থাপন করা হয়। ইহার পর ১৯০৩ সালে বরাক ও ব্রহ্মপুত্র সংযোগকারী বদরপুর লামডিং রেলপথ স্থাপিত হয়। বর্তমানে বরাক উপত্যকায় প্রায় ৪০০ কিলোমিটার লম্বা রেলপথ আছে। বদরপুর হইতে শিলচর হইয়া মণিপুরের জিরিবাম পর্যন্ত প্রায় ৭০ কিঃ মিঃ দীর্ঘ একটি রেলপথ আছে। বদরপুর হইতে অন্য একটি রেলপথ করিমগঞ্জ হইয়া ত্রিপুরার কুমারঘাট পর্যন্ত গিয়াছে। বদরপুর হইতে আরেকটি রেলপথ কাটাখাল ও হাইলাকান্দি হইয়া মিজোরামের ভৈরবী পর্যন্ত গিয়াছে।

জল পরিবহণ ও বরাক উপত্যকায় ১৮৫০ সালে কলিকাতা হইতে সুরমা বরাক জলপথ উন্মুক্ত হয়। ১৯৪৭ সালে দেশভাগের পর হইতে এইপথে পরিবহণ ব্যবহৃত হয়। উপত্যকার অন্যান্য নদীতে সাধারণ নৌকা চলাচল করে। বরাক ও ধলেশ্বরী নদী দিয়া মণিপুর ও মিজোরামের সঙ্গে সীমিত সংযোগ সম্ভব হইয়াছে

বিমান পরিবহণ ও বরাক উপত্যকার সঙ্গে দেশের অন্যান্য শহর ও নগরের মধ্যে বিমান পরিসেবাও বিদ্যমান। শিলচর শহর হইতে প্রায় ২০ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে কুম্ভীরগ্রাম বিমান বন্দর অবস্থিত। এখান হইতে কলকাতা, দিল্লী, ওয়াহাটী, ইম্ফল ও আগরতলার সঙ্গে নিয়মিত বিমান পরিসেবা চালু আছে।

প্রশ্ন ৮। বরাক উপত্যকার নগরীকরণের একটি সংক্ষিপ্ত বিবরণ দাও।

উত্তর:- আসামের অন্যান্য অঞ্চলের মত বরাক উপত্যকায়ও শহরনগরের সংখ্যা এবং শহর নগরের বাসিন্দার অনুপাত কম। ২০০১ সালের আদমসুমারি অনুযায়ী অঞ্চলটির শহরের জনসংখ্যার অনুপাত ১০.৭ শতাংশ।

বরাক উপত্যকায় মোট ৭টি শহর আছে। ইহাদের মধ্যে শিলচর হইল বৃহত্তম শহর। শহরের বর্তমান জনসংখ্যা ১,৮৪,২৮৫ (২০০১)। ১৯৯১ সাল হইতে ২০০১ সালের মধ্যে এই শহরের জনসংখ্যা ৩০x৩০ শতাংশ বৃদ্ধি পাইয়াছে। ইহার কারণ হইল শিলচর-মণিপুর, মিজোরাম ও ত্রিপুরাএই তিন রাজ্যের যাতায়াত ও পরিবহণের কেন্দ্রবিন্দু। তদুপরি ইহা উপত্যকার চা শিল্পের প্রধান কেন্দ্র। বিগত দশকে এখানে বিশ্ববিদ্যালয় সহ উচ্চশিক্ষার প্রসার লাভ করিয়াছে এবং ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়িয়া উঠিয়াছে।

বরাক উপত্যকার দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর হইল করিমগঞ্জ। ইহা বাংলাদেশ সীমান্ত জেলা শহর এবং জিলার সদর। এই শহরের সঙ্গে বাংলাদেশের প্রত্যক্ষ ব্যবসা বাণিজ্য সম্পর্ক আছে। ফলে ইহা প্রধানত একটি বাণিজ্যিক শহর। করিমগঞ্জ শহরের মোট জনসংখ্যা ৫২,৩১৬ (২০০১)।

বরাক উপত্যকার তৃতীয় বৃহত্তম শহর হইল হাইলাকান্দি। হাইলাকান্দি জিলার সদর হইল হাইলাকান্দি। ইহার জনসংখ্যা ২৯,৬৩৪ (২০০১)। বদরপুর একটি পুরাতন রেল জংশন। ইহার জনসংখ্যা ২১,১৩১। হাইলাকান্দি জিলার দক্ষিণে অবস্থিত গালা একটি ছোট শহর। ইহার জনসংখ্যা ১০,৩৪৫। কাছাড় জিলার উত্তরাংশে অবস্থিত লক্ষীপুর একটি ছোটশহর। ইহার জনসংখ্যা ৯৭০৮। হাইলাকান্দি জিলার শিল্পনগরী পাঁচগ্রাম একটি ছোট শহর। ইহার জনসংখ্যা ৫,৫৭৮। এই সাতটি শহর ছাড়াও বাশকান্দি, উধারবন্দ, নিলামবাজার, পাথারকান্দি, রামকৃষ্ণনগর, দুর্লভছড়া প্রভৃতি কয়েকটি স্থান শহর সম।

প্রশ্ন ৯। বরাক উপত্যকার প্রধান চারটি শহরের নাম উল্লেখ কর।

উত্তর:- বরাক উপত্যকার প্রধান চারটি শহর হইল—(ক) শিলচর (খ) করিমগঞ্জ (গ) হাইলাকান্দি ও (ঘ) বদরপুর।।

প্রশ্ন ১০। বরাক উপত্যকার প্রধান নদীগুলির নাম লিখ।

উত্তর:- বরাক উপত্যকার প্রধান প্রধান নদী হইল

(ক) বরাক (খ) কুশিয়ারা, (গ) লঙ্গাই, (ঘ) সিংলা, (ঙ) ধলেশ্বরী, (চ) কাটাখাল ও (ছ) সোনাই।।

প্রশ্ন ১১। আসামের পার্বত্য অঞ্চলের বনজ সম্পদ সম্পর্কে সংক্ষেপে লিখ।

অথবা, উত্তর কাছাড় জিলা ও কাৰ্বি আংলং জিলার বনজ সম্পদের একটি সংক্ষিপ্ত বিবরণ দাও।

উত্তর:- আসামের পার্বত্য অঞ্চল বনজ সম্পদে ভরপুর ছিল। কিন্তু জনসংখ্যা বৃদ্ধি, জুমচাষ এবং অন্যান্য কারণে বনজ সম্পদ ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়। বর্তমানে কাৰ্বি আংলং-এর ৬৭ শতাংশ জমি এবং উত্তর কাছাড় পার্বত্য জিলার ৮৫ শতাংশ জমি ঘন অরণ্যাবৃত।

উত্তর কাছাড় পার্বত্য জিলায় অধিক বৃষ্টিপাতের ফলে এই অঞ্চলে চিরহরিৎ ও পর্ণপাতী উভয় প্রকার উদ্ভিদ জন্মে। প্রধান প্রধান উদ্ভিদ হইল চাম, সুন্দি, সেগুন, গামারি প্রভৃতি। ইহা ছাড়া বাঁশ, বেত, শন প্রভৃতি প্রচুর পরিমাণে এই অঞ্চলে জন্মে।

পার্বত্য অঞ্চলের প্রধান প্রধান বন্যপ্রাণী হইল হাতী, বাঘ, ভল্লুক, হরিণ, বনরৌ প্রভৃতি। ইহা ছাড়া নানাপ্রকার পাখীও এই অঞ্চলে দেখা যায়। কার্বি আংলং-এর পূর্ব অংশে নামবর , গরমপানী ও পূর্ব কাৰ্বি আংলং-এতে অভয়ারণ্য আছে।

প্রশ্ন ১২। কাৰ্বি আংলং জিলার প্রধান প্রধান শিল্পোদ্যোগের নাম লিখ।

উত্তর:- কাৰ্বি আংলং জিলার প্রধান প্রধান শিল্পোদ্যোগ হইল— (ক) জলবিদ্যুৎ উৎপদানকেন্দ্রউমরাংশু। (খ) সিমেন্ট কারখানাবোকাজান। (গ) কয়লা শিল্পশিলভেটা, ডিসামা ও কালিয়নী। (ঘ) চুনাপাথরশিলভেটা ও কৈলাজন।

প্রশ্ন ১৩। আসামের পার্বত্য অঞ্চলের প্রধান প্রধান শস্ত্রগুলির নাম লিখ।

উত্তর:- পার্বত্য অঞ্চলের প্রধান প্রধান শহর হইল

(ক) হাফলং, (খ) হামরেন, (গ) ডিফু, (ঘ) উমাংশু, (ঙ) বোকাজান, (চ) হাওড়াঘাট ও (ছ) দকমকা।

প্রশ্ন ১৪। বরাক উপত্যকার প্রধান প্রধান জাতীয় সড়কগুলির নাম উল্লেখ কর।

উত্তর:- বরাক উপত্যকার প্রধান প্রধান জাতীয় সড়কগুলি হইল— (ক) ৪৪ নং জাতীয় সড়ক - শিলংবদরপুর-ত্রিপুরা। (খ) ৫৪ নং জাতীয় সড়ক শিলচর-আইজল। (গ) ৫৩ নং জাতীয় সড়ক - বদরপুর-মণিপুর। (ঘ) ১৫৪ নং জাতীয় সড়ক - ধলেশ্বরী-ভৈরবী (মিজোরাম)।

প্রশ্ন ১৫। ব্ৰহ্মপুত্ৰ উপত্যকার প্রধান প্রধান জাতীয় সড়কগুলির নাম লিখ।

উত্তর:- ব্রহ্মপুত্র উপত্যকার প্রধান প্রধান জাতীয় সড়কগুলি হইল— (ক) ৩১ নং জাতীয় সড়ক শ্রীরামপুর-আমিনগাওঁ।। (খ) ৫২ নং জাতীয় সড়ক বাইহাটী চারিয়ালি-জোনাই। (গ) ৩৭ নং জাতীয় সড়ক পঞ্চরত্ন-ডিব্ৰুগড়। (ঘ) ৪৪ নং জাতীয় সড়ক শিলং বদরপুর।। (চ) ৩৬ নং জাতীয় সড়ক নুমলীগড়-ইম্ফল।

 

সেবা/অসম দশম শ্রেণী সমাজ বিজ্ঞান

আসামের আঞ্চলিক ভূগোল সম্পর্কীয় প্রশ্ন উত্তর

SEBA/ASSAM CLASS 10 SOCIAL SCIENCES

Visit – www.smartlearningservice.com

 

 

অতি সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর নিম্নলিখিত প্রশ্নগুলির উত্তর দাও :

প্রশ্ন ১। আসামের মোট আয়তন কত?

উত্তর:- ৭৮,৪৩৮ বর্গ কিঃ মিঃ।

প্রশ্ন ২। ব্ৰহ্মপুত্ৰ উপত্যকার মোট আয়তন কত?

উত্তর:- ৫৪,৪০০ বর্গ কিঃ মিঃ।

প্রশ্ন ৩। বরাক উপত্যকার মোট আয়তন কত?

উত্তর:- ৬৯৬২ বর্গ কিঃ মিঃ।

প্রশ্ন ৪। আসামের সর্বোচ্চ শৃঙ্গটির নাম কি?

উত্তর:- লেইকেই।

প্রশ্ন ৫। ব্রহ্মপুত্র উপত্যকায় ব্রহ্মপুত্রের মোট কয়টি উপনদী আছে?

উত্তর:- ৪০টি।

প্রশ্ন ৬ মাজুলী দ্বীপের বর্তমান আয়তন কত?

উত্তর:- প্রায় ৮০০ বর্গ কিলোমিটার।

প্রশ্ন ৭। ব্রহ্মপুত্র উপত্যকার কয়টি প্রশাসনিক জিলা আছে ?

উত্তর:- ১৮ টি জিলা।

প্রশ্ন ৮। ব্ৰহ্মপুত্ৰ উপত্যকা আসামের মোট কত শতাংশ ভূমি ব্যাপিয়া বিস্তৃত?

উত্তর:- শতকরা ৬৯৫ ভাগ।

প্রশ্ন ৯। ব্ৰহ্মপুত্ৰ উপত্যকায় দৈর্ঘ্য কত?

উত্তর:- প্রায় ৭২০ কিঃ মিঃ।

প্রশ্ন ১০। ব্রহ্মপুত্র উপত্যকার প্রস্থ কত?

উত্তর:- গড়ে ৯০ কিঃ মিঃ।

প্রশ্ন ১১। ব্রহ্মপুত্রের উত্তর তীরের একটি উপনদীর নাম লিখ।

উত্তর:- সুবর্ণসিরি।

প্রশ্ন ১২। ব্রহ্মপুত্রের দক্ষিণতীরের একটি উপনদীর নাম লিখ।

উত্তর:- বুড়িডিহিং।

প্রশ্ন ১৩ মাজুলী কোন জিলায় অবস্থিত ?

উত্তর:- যোড়হাট জিলায়।

প্রশ্ন ১৪। কোন সালের ভূমিকম্পে মাজুলীর আয়তন হ্রাস পায় ?

উত্তর:- ১৯৫০ সালের ভূমিকম্পে।

প্রশ্ন ১। ডরাই অল কোথায় অবস্থিত?

উত্তর:- হিমালয়ের পাদদেশে।

প্রশ্ন ১৬। আসাম কোন প্রকার জলবায়ুর অন্তর্গত?

উত্তর:- ক্রান্তীয় মৌসুমী জলবায়ুর অন্তর্গত।

প্রশ্ন ১৭। ব্রহ্মপুত্র উপত্যকায় কি পরিমাণ সংরক্ষিত বনাঞ্চল আছে?

উত্তর:- ১২, ৫১২ বর্গ কিঃ মিঃ।

প্রশ্ন ১৮। ব্রহ্মপুত্র উপত্যকার কতভাগ সংরক্ষিত বনাঞ্চল ?

উত্তর:- ২২ শতাংশ।

প্রশ্ন ১৯। একশৃঙ্গী গণ্ডার আসামের কোথায় পাওয়া যায়?

উত্তর:- কাজিরাঙ্গায়।

প্রশ্ন ২০। কাজিরাঙা জাতীয় উদ্যান কোন জিলায় অবস্থিত?

উত্তর:- গোলাঘাট জিলায়।

প্রশ্ন ২১। আসামে কতটি জাতীয় উদ্যান আছে?

উত্তর:- পাঁচটি।

প্রশ্ন ২২। দীপর বিল কিসের জন্য বিখ্যাত?

উত্তর:- পক্ষীর জন্য।

প্রশ্ন ২৩। আসামের প্রধান কৃষিপণ্য কি?

উত্তর:- ধান।।

প্রশ্ন ২৪। আসামের প্রধান অর্থশস্য কি?

উত্তর:- চা।

প্রশ্ন ২৫। আসামের একটি কাগজ কলের নাম লিখ।

উত্তর:- হিন্দুস্থান পেপার কর্পোরেশন, পাঁচগ্রাম।

প্রশ্ন ২৬। এশিয়ার প্রথম তেল শোধনাগার কোথায় অবস্থিত ?

উত্তর:- ডিগবয়-এ।

প্রশ্ন ২৭। আসামের কোথায় রাসায়নিক সার কারখানা আছে?

উত্তর:- নামরূপে।

প্রশ্ন ২৮। আসামে কখন ব্রিটিশ শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়?

উত্তর:- ১৮২৬ সালে।

প্রশ্ন ২৯। আসামে কখন রেলসেবা আরম্ভ হয় ?

উত্তর:- ১৮৮৪ সালে।

প্রশ্ন ৩০। ব্ৰহ্মপুত্ৰ উপত্যকায় কত কিঃ মিঃ জাতীয় সড়ক আছে?

উত্তর:- ১৭০০ কিঃ মিঃ।

প্রশ্ন ৩১। আসামে কখন কলিকাতা হইতে জাহাজ আসে?

উত্তর:- ১৮৪৯ সালে।

প্রশ্ন ৩২। আসামে কতটি বিমান বন্দর আছে?

উত্তর:- ৫টি।।

প্রশ্ন ৩৩। আসামে বর্তমানে কয়টি শহর আছে?

উত্তর:- ১০৩টি।

প্রশ্ন ৩৪। ব্রহ্মপুত্র উপত্যকায় কতটি শহর আছে?

উত্তর:- ৮৫টি।

প্রশ্ন ৩৫। আসামের কতটি গ্রাম আছে?

উত্তর:- ২৬,২৪৭ গ্রাম।

প্রশ্ন ৩৬। আসামের মোট জনসংখ্যার কত শতাংশ শহরে বাস করে?

উত্তর:- ১২.৭২ শতাংশ।

প্রশ্ন ৩৭। আসামের মোট কত শতাংশ লোক গ্রামে বাস করে?

উত্তর:- ৮৭.২৮ শতাংশ।

প্রশ্ন ৩৮। ভারতে মোট কত শতাংশ লোক শহরে বাস করে?

উত্তর:- ২৭.৭৪ শতাংশ।

প্রশ্ন ৩৯। আসামের প্রধান নগর কোনটি ?

উত্তর:- গুয়াহাটী।

প্রশ্ন ৪০। গুয়াহাটীর বর্তমান জনসংখ্যা কত?

উত্তর:-,০৪,৫৭৫ জন।

প্রশ্ন ৪১। বরাক উপত্যকার প্রধান শহর কোনটি ?

উত্তর:- শিলচর।

প্রশ্ন ৪২। বরাক উপত্যকার প্রধান কৃষিপণ্য কি?

উত্তর:- ধান।

প্রশ্ন ৪৩ ব্ৰহ্মপুত্ৰ উপত্যকায় কতটি চা বাগান আছে?

উত্তর:- প্রায় ৭০০টি।

প্রশ্ন ৪৪। বরাক উপত্যকায় কতটি চা বাগান আছে?

উত্তর:- ১১৫টি।

প্রশ্ন ৪৫। পূর্ববঙ্গ হইতে বদরপুর পর্যন্ত রেলপথ কখন স্থাপিত হয়?

উত্তর:- ১৮৯৬ সালে।

প্রশ্ন ৪৬। কলিকাতা হইতে কখন শিলচরে প্রথম জাহাজ আসে?

উত্তর:- ১৮৫০ সালে।

প্রশ্ন ৪৭। বরাক উপত্যকার কোথায় বিমান বন্দর আছে?

উত্তর:- কুম্ভীর গ্রামে।

প্রশ্ন ৪৮। পার্বত্য অঞ্চলে কি প্রকার কৃষিকার্য করা হয়?

উত্তর:- জুমচাষ পদ্ধতিতে।

প্রশ্ন ৪৯। আসামের কোথায় বেশি রবার চাষ হয় ?

উত্তর:- কাৰ্বি আংলং-এ।

প্রশ্ন ৫০। বড়াইল পাহাড় কোথায় অবস্থিত ?

উত্তর:- উত্তর কাছাড় পার্বত্য জিলায়।

 

সেবা/অসম দশম শ্রেণী সমাজ বিজ্ঞান

আসামের আঞ্চলিক ভূগোল সম্পর্কীয় প্রশ্ন উত্তর

SEBA/ASSAM CLASS 10 SOCIAL SCIENCES

Visit – www.smartlearningservice.com

 

 

সঠিক উত্তর বেছে বের কর:

প্রশ্ন ১। আসামের মোট আয়তন বর্গ কিঃ মিঃ।

(ক) ৮৯,৪৩৪  (খ) ৭৮,৪৩৮  (গ) ৯৮,৪৩৮ (ঘ) ১০,২০৭ 

উত্তর:- (খ) ৭৮,৪৩৮

প্রশ্ন ২। ব্ৰহ্মপুত্ৰ উপত্যকার মোট আয়তন বর্গ কিঃ মিঃ।

(ক) ৫৪,৪০০  (খ) ৫৫,৪০০  (গ) ৫৬,৪০০   (ঘ) ৫৭,৪০০  

উত্তর:- (ক) ৫৪,৪০০

প্রশ্ন ৩ বরাক উপত্যকার মোট আয়তন বর্গ কিঃ মিঃ।

(ক) ৬৯৬২ (খ) ৭৯৬২  (গ) ৮৯৬২ (ঘ) ৯৯৬২ 

উত্তর:- (ক) ৬৯৬২

প্রশ্ন ৪। ব্রহ্মপুত্র উপত্যকার মোট উপনদীর সংখ্যা

(ক) ৪০টি  (খ) ৪২টি (গ) ৫৩টি  (ঘ) ৬১টি

উত্তর:- (ক) ৪০টি

প্রশ্ন ৫ বরাক উপত্যকার প্রধান নদী।

(ক) ব্ৰহ্মপুত্র  (খ) বরাক (গ) কুশিয়ারা   (ঘ) লঙ্গাই।

উত্তর:- (খ) বরাক

প্রশ্ন ৬। ব্রহ্মপুত্র উপত্যকায় মোটটি প্রশাসনিক জিলা আছে।

(ক) ২৪টি (খ) ২০টি  (গ) ২৮টি  (ঘ) ২৩টি  

উত্তর:- (গ) ২৮টি

(বর্তমানে অসমের ব্রহ্মপুত্র উপত্যকায় ২৮টি, বরাক উপত্যকায় ৩টি এবং পার্বত্য অঞ্চলে ৩টি = মোট ৩৪টি জিলা আছে।)

প্রশ্ন ৭৷ ব্ৰহ্মপুত্ৰ উপত্যকার দৈর্ঘ্য

(ক) ৭০০ কিঃমিঃ  (খ) ৭২০ কিঃমিঃ (খ) ৯০০ কিঃমিঃ (গ) ৮২০ কিঃমিঃ 

উত্তর:- (খ) ৭২০ কিঃ মিঃ

প্রশ্ন ৮। ব্ৰহ্মপুত্ৰ উপত্যকার প্রস্থ গড়ে।

(ক) ৭০০ কিঃমিঃ  (খ) ৯০ কিঃমিঃ  (গ) ১২০ কিঃমিঃ  (ঘ) ৫০ কিঃমিঃ 

উত্তর:- (খ) ৯০ কিঃ মিঃ

প্রশ্ন ৯। আসামে টি জাতীয় উদ্যান আছে।

(ক) ৫টি  (খ) ৭টি (গ) ১০টি (ঘ) ১২টি

উত্তর:- (ঘ) ১২টি

প্রশ্ন ১০। আসামের প্রধান কৃষিপণ্য।

(ক) চা  (খ) ধান (খ) পাট  (ঘ) গম

উত্তর:- (খ) ধান

প্রশ্ন ১১। আসামের প্রধান অর্থশস্য।

(ক) চা (খ) ধান (গ) পাট (ঘ) গম

উত্তর:- (ক) চা।

প্রশ্ন ১২। এশিয়ার প্রথম তেল শোধনাগারঅবস্থিত।

(ক) ডিগবয়ে  (খ) নাহারকাটিয়ায়  (খ) দুলিয়াথানে (ঘ) নুমলীগড়ে  

উত্তর:- (ক) ডিগবয়ে

প্রশ্ন ১৩। আসামে প্রথম রেল সেবাচালু হয়।

(ক) ৮২টি (খ) ৯০টি (গ) ১০৩টি  (ঘ) ১১০টি

উত্তর:- (গ) ১০৩টি

প্রশ্ন ১৪। আসামে বিমান বন্দরের সংখ্যা

(ক) ৪টি (খ) ৫টি (গ) ৬টি (ঘ) ৭টি

উত্তর:- (খ) ৫টি

প্রশ্ন ১৫। আসামে মোট শস্ত্র ও নগরের সংখ্যা।

(ক) ৪টি  (খ) ৫টি (গ) ৬টি (ঘ) ৭টি

উত্তর:- (গ) ৬টি

প্রশ্ন ১৬। আসামে মোট গ্রামের সংখ্যা।

(ক) ২৬,২৪৭টি  (খ) ২৭,২৪৭টি  (গ) ২৮,২৪৭টি  (ঘ) ২৯,২৪৭টি  

উত্তর:- (ক) ২৬,২৪৭টি

প্রশ্ন ১৭। আসামে ___ শতাংশ লোক নগরে বাস করে।

(ক) ২৭.৭০% (খ) ১২.৭২% (গ) ১১.১৩%  (ঘ) ১৩.৭২% 

উত্তর:- (ঘ) ১৩.৭২%

প্রশ্ন ১৮। ভারতে ___ শতাংশ লোক নগরে বাস করে।

(ক) ২৭.৭০% (খ) ১২.৭২% (গ) ১৩.৭২%  (ঘ) ১১.১৩% 

উত্তর:- (ক) ২৭.৭০%

প্রশ্ন ১৯। আসামে মোট ___ শতাংশ লোক গ্রামে বাস করে।

(ক) ৮৫.২৮%   (খ) ৮৭.২৮%  (গ) ৮৮.২০%  (ঘ) ৮৯.৭০% 

উত্তর:- (ক) ৮৫.২৮%

প্রশ্ন ২০। ব্ৰহ্মপুত্ৰ উপত্যকায়টি চা বাগান আছে।

(ক) ১১৫  (খ) ৭০০  (গ) ৮০০  (ঘ) ৮৯৭০  

উত্তর:- (খ) ৭০০

 

সেবা/অসম দশম শ্রেণী সমাজ বিজ্ঞান

আসামের আঞ্চলিক ভূগোল সম্পর্কীয় প্রশ্ন উত্তর

SEBA/ASSAM CLASS 10 SOCIAL SCIENCES

Visit – www.smartlearningservice.com

 

 

*********

Post a Comment

0 Comments