SEBA Class 10 History (Social Sciences) Chapter 3 QUESTIONS & ANSWERS


SEBA Class 10 History (Social Sciences) Chapter 3
সেবা (আসাম) দশম  শ্রেণী ইতিহাস  (সমাজবিজ্ঞান)
তৃতীয় অধ্যায় : অসমে ব্রিটিশ বিরোধী জাগরণ এবং কৃষক বিদ্রোহ




তৃতীয় অধ্যায় : অসমে ব্রিটিশ বিরোধী জাগরণ এবং কৃষক বিদ্রোহ
QUESTIONS & ANSWERS
প্রশ্ন এবং উত্তর


সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন এবং উত্তর

Q.1. কোন সালে কামেশ্বর সিংহের মৃত্যু হয়?
Ans:- 1851 সালে কামেশ্বর সিংহের মৃত্যু হয়
Q.2. পুরন্দর সিংহের পিতার নাম কি ছিল?
Ans:- কামেশ্বর সিংহ
Q.3. কামেশ্বর সিংহের পিতার নাম কি ছিল?
Ans:- কন্দর্পেশ্বর সিংহ
Q.4. প্রথম অসমীয়া চায়ের কৃষক কে ছিলেন?
Ans:- মনিরাম দেওয়ান প্রথম অসমীয়া যিনি জুরহাটে 1844 সালে চায়ের বাগান খুলেন
Q.5. কে কোন সালে মনিরাম দেওয়ানের সকল সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে?
Ans:- 1851 সালে ক্যাপ্টেন হলরয়দ মনিরাম দেওয়ানের সকল সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করেন

ছোট প্রশ্ন এবং উত্তর

Q.1. ব্রিটিশ আমলের অসমের নতুন ভূমি রাজস্ব নীতি সম্পর্কে সংক্ষেপে লেখ
Ans:- অসমের নতুন ভূমি রাজস্ব নীতি:
ব্রিটিশ সরকার অসমের নুতন ভূমি রাজস্ব নীতি প্রবর্তন করেছিল ইংরেজ প্রবর্তিত টাকার মাধ্যমে কর দিতে হইতআত্ননির্ভরশীল গ্রামগুলো হাটবাজারের অভাবে নিজের উৎপাদিত সামগ্রী বিক্রি করতে না পারায় টাকা সঞ্চয় ছিলনা সুদখোর মহাজন সৃষ্টি হয়, কুটির শিল্পের অবসান ঘটে ফলে অসমীয়া প্রজা সাধারণ দারিদ্রতা ও জর্জরতায় ভুগেছিলএছাড়াও লাখেরাজ ভূমিও হাতছাড়া হয় চা-বাগানের শ্রমিকদেরকে কর থেকে মুক্ত করায় আম জনতার উপর অতিরিক্ত করের বোঝা বৃদ্ধি হয় এভাবে অভিজাত থেকে দরিদ্র সভাই নতুন রাজস্ব নীতির মাধ্যমে জর্জরিত হয়েছিল
Q.2. অসমে কৃষক বিদ্রোহের উত্থান কিভাবে হয়েছিল সংক্ষেপে লেখ
Ans:- অসমে কৃষক বিদ্রোহের উত্থান:
1857 সালের বিদ্রোহ ব্রিটিশ সরকারের অর্থনৈতিক অবস্থা শোচনীয় করে অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নতি করতে গিয়ে 1858 সালে টিকিট কর, 1860 সালে আয় কর,  আমদানি  কর,  বনের বাঁশ-কাঠ ইত্যাদি ব্যবহারের অনুজ্ঞা কর,  গ্রেজিং কর (গরু - মহিষ চরানোর কর),  এবং আবকারি কর আরোপিত করে অতিরিক্ত বোজা আরোপ করা হয় এছাড়াও নদীতে সোনা সন্ধান ও মাছ ধরার ডাক (নিলাম) দেওয়া হলো কৃষকের কর সংগ্রহ করলেও প্রাকৃতিক দুর্যোগ, মহামারী বা দুর্ভিক্ষের সময়ও কোন রেহাই ছিল না ও কোন সংস্কারমূলক কৃষি নীতিও ছিল না অসমের কৃষক ব্রিটিশের প্রতি বীতশ্রদ্ধ হয়ে 1861 সালে কৃষক বিদ্রোহের সূচনা করে
Q.3. রাইজ মেল বলতে কি বোঝ?
Ans:- রাইজ মেল (People’s Assemly):
কৃষক বিদ্রোহের নেতৃত্ব গ্রহন করেছিল রাইজ মেল বা গণসভা মেল গুলি গাওঁবুঢ়া, দলৈ, গোসাই ইত্যাদি মাতব্বর লোক দ্বারা পরিচালিত হয়েছিল ও জনসাধারণকে রাজনৈতিক সচেতনতা প্রদান করিয়াছিল জাত-পাত নির্বিশেষে সবাই অংশগ্রহণ করিত “ রাইজেই রজা, জ্ঞাতিয়েই গঙ্গা”  এই মত পোষণ এর মাধ্যমে জনতা একত্র হয়ে সামগ্রিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও সরকারের নিকট দাবী জানানোর গণতান্ত্রিক পদ্ধতি রাইজ মেলগুলির প্রধান বৈশিষ্ট্য ছিল যদিও ইহা কোন রাজনৈতিক সংগঠন ছিল না 
Q.4. উত্তর কাছাড়ের বিদ্রোহের কারণ কি ছিল?
Ans:- উত্তর কাছাড়ের বিদ্রোহ:
1881- 82 সাল জুড়ে সম্বোধন কছারির নেতৃত্বে মাইবংকে কেন্দ্রস্থল করে উত্তর কাছারে কৃষক বিদ্রোহ হয়েছিল ইহার কারণ ছিল:
a.  1880 সালে ব্রিটিশ সরকার উত্তর কাছাড়ের উপর আংগামী নাগাদের আক্রমণ প্রতিহত করতে 100 জন কুকি লোককে দিয়ে একটি কুকি বাহিনী গঠন করেছিল
b.  জনজাতিদেরকে বশীভূত করে রাখার জন্য একজন ইংরেজ অফিসার নিয়োগ করা হয়েছিল
Q.5. নাগা জনগোষ্ঠীর বিদ্রোহের তিনটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা উল্লেখ কর
Ans:- নাগা জনগোষ্ঠীর বিদ্রোহ:
a.  1878 সালে নাগারা ব্রিটিশ কর্মচারী দামান্ট কে তার নিরাপত্তারক্ষী সহ হত্যা করে
b.  নাগারা কোহিমা অবরোধ করে
c.  কর্নেল জণস্টন কঠোর হাতে এই বিদ্রোহ দমন করেন
Q.6. মনিপুরের বিদ্রোহ সম্পর্কে আলোচনা কর
Ans:- মনিপুরের বিদ্রোহ:
1890 সালের 21 সেপ্টেম্বর অসমের চিফ কমিশনারের অনাহক হস্তক্ষেপে যুবরাজ কুলচন্দ্র মহারাজ সুরচন্দ্রকে ক্ষমতাচ্যুত করে নিজে রাজা বনেন সুরচন্দ্রের অন্তর্বর্তী এই বিদ্রোহ সেনাপতি টিকেন্দ্রজিত সম্পূর্ণ রূপ দেন টিকেন্দ্রজিতকে ধরতে অসমের চিফ কমিশনার জে. ডব্লিউ. কুইন্টন 4 জন কর্মচারী নিয়ে মণিপুরে উপস্থিত হলে, মণিপুরীরা তাদেরকে হত্যা করে পরে শক্তিশালী ব্রিটিশ সেনাবাহিনী নিয়ে টিকেন্দ্রজিতকে ধরা হয় ও বিচারে ফাঁসি দেওয়া হয় রাজা কুলচন্দ্রকে সরিয়ে 1891 সালের সেপ্টেম্বরে নাবালক চূড়চন্দ্রকে রাজা ঘোষণা করা হয় বিদ্রোহের ক্ষতিপূরণ হিসাবে মনিপুর আড়াই লাখ টাকা জরিমানা সহ বাৎসরিক 50 হাজার টাকা পরিশোধ করতে বাধ্য হয়
Q.7. ফুলগুরির কৃষক বিদ্রোহের অপরাধে কোন তিনজন লোককে ফাঁসি দেওয়া হয়?
Ans:- ফুলগুরির কৃষক বিদ্রোহের অপরাধে  লক্ষণ ডেকা, সংবর লালুং, ও রংবর ডেকাকে নগাঁও জেলে ফাঁসি দেওয়া হয়


বড় প্রশ্ন এবং উত্তর

Q.1. অসমে ব্রিটিশবিরোধী জাগরণের  কারণগুলো উল্লেখ কর 
Ans:- অসমে ব্রিটিশবিরোধী জাগরণের  কারণ:-
a.  নতুন রাজস্ব নীতির মাধ্যমে অধিক পরিমাণে খাজনা ও কর সংগ্রহের ফলে অসমীয়া প্রজার আর্থিক অবস্থা শোচনীয় হয়েছিল
b.  মুদ্রার মাধ্যমে বিনিময় ব্যবস্থা সুদখোর বহিরাগত মহাজন' শ্রেণীর সৃষ্টি করেছিল
c.  হাটবাজারের সীমাবদ্ধতা আত্ননির্ভরশীল গ্রামগুলোর প্রজাসাধারণ দারিদ্র্য ও জর্জর হয়েছিল
d.   দুর্ভিক্ষ-মহামারী কয়েকটি গ্রাম ধ্বংস করা সত্ত্বেও কোন বিহিত ব্যাবস্থা ব্রিটিশ সরকার না নেওয়া
e.  অসমের পাট মুগা ও অন্যান্য কুটির শিল্পের অবসান ঘটেছিল ও বিদেশী বস্ত্রের আবির্ভাব হয়েছিল
f.   প্রশাসনে বঙ্গদেশ থেকে আমদানিকৃত বাঙালি বাবুদের প্রাধান্যতা স্থানীয় লোকের কর্মসংস্থানহীন করেছিল
g.   দাস প্রথার বিলোপ সাধনে (1843 সাল) অভিজাত শ্রেণীর আ কাজের লোকের অভাবে অপমানিত হয়েছিল
h.  পূর্ব কাল থেকে ব্রাহ্মণ, পুরোহিত ও বহু অভিজাত শ্রেণী ভোগ করে আসা লাখেরাজ ভূমি বাজেয়াপ্ত হয় ও হাতে থাকা অবশিষ্ট ভূমিতেও কর দিতে হয়েছিল
Q.2. 1857 সালে সিপাহী বিদ্রোহে অসম ও মনিরাম দেওয়ানের ভুমিকা আলোচনা কর
Ans:- 1857 সালে সিপাহী বিদ্রোহে অসম ও মনিরাম দেওয়ান:
1857 সালের বিদ্রোহে অসমের ব্রাহ্মণ পুরোহিত যারা লাখেরাজ ভূমির সত্ত হারিয়েছিল, তারা ইংরেজ শাসনের বিরুদ্ধাচরণ করেছিল এই সালের 10 মে যখন ভারতের সিপাহীরা  বিদ্রোহ শুরু করে, তখন বাহাদুর শাহ, তাতিয়া টোপি, ঝাসি রানি লক্ষীবাই প্রভৃতি নেতারাও যখন নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন, তখন অসমেও প্রতিক্রিয়া স্বরূপ বিদ্রোহ  হয় ইংরেজকে তাড়িয়ে আহোম রাজ পরিবারের একজন সদস্যকে রাজা প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করা হয় অসমের প্রথম ও দ্বিতীয় আসাম লাইট ইনফ্যান্ট্রি নামের দুইটি রেজিমেন্টে অসন্তুষ্টি দেখা দিয়েছিল অসম বাংলাদেশ সীমান্তে করিমগঞ্জের “লাতু” তে অবস্থিত সৈন্যবাহিনী প্রকাশ্যেই বিদ্রোহে যোগ দেন  পুরন্দর সিংহের নাতি কন্দর্পেশ্বর সিংহকে রাজা বানানোর স্বপ্নের নায়ক ছিলেন মনিরাম দেওয়ান কলকাতা থেকে তিনি ইংরেজকে বিতাড়িত করার ষড়যন্ত্র করেন বাহাদুর গাওঁবুঢ়া, ফর্মুদ  আলী, পিয়লী বড়ুয়া, দুটিরাম বড়ুয়া, মায়ারাম নাজির, মহাবীর মুক্তিয়ার প্রভৃতি বিদ্রোহে সারা দেন ষড়যন্ত্রের  খবর পেয়ে 1857 সালের 7 সেপ্টেম্বরে কন্দর্পেশ্বর সিংহকে আটক করে আলিপুরের জেলে রাখা হয় পরে মনিরাম ও বাকি সবাইকে গ্রেপ্তার করা হয় মনিরাম ও পিয়লিকে মূল দোষী সাব্যস্ত করে 1858 সালের 26 ফেব্রুয়ারিতে জুরহাট জেলে ফাঁসি দেওয়া হয় বাকিরা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড লাভ করে বিদ্রোহে জড়িত সিপাহিদেরকে জরিমানাসহ অব্যাহতি দেওয়া হয় বাহাদুর গাওঁবুঢ়া, শেখ ফর্মুদ আলী, দুটিরাম বড়ুয়া তাদেরকে আন্দামানের জেলে পাঠানো হয় পরে মহারানী ভিক্টোরিয়ার ঘোষণা পত্রের দ্বারা অসমে ফিরে আসার অনুমতি দেওয়া হয়1860 সাল পর্যন্ত কন্দর্পেশ্বর সিংহকে বর্ধমানের বিশেষ জেলে রাখা হয়  ও পরে অসমে  আনা হয় তিনি 1863 সাল থেকে 500 টাকা করে পেনশন লাভ করেন
Q.3. মনিরাম দেওয়ান মুফট মিলসকে কি আর্জি দিয়েছিলেন?  মনিরাম দেওয়ান সিপাহী বিদ্রোহের পরিকল্পনা কিভাবে করেছিলেন?
Ans:- মুফট মিলসকে মনিরাম দেওয়ানের আর্জি ও সিপাহী বিদ্রোহের পরিকল্পনা:
1853 সালে কলকাতার উচ্চ ন্যায়ালয় মুখ্য ন্যায়াধিশ মুফট মিলস অসমে এসেছিলেন  মনিরাম দেওয়ান তাকে 2 টি আর্জির এক প্রতিবেদন দিয়েছিলেন একটিতে তিনি কিভাবে ব্রিটিশ সরকারকে সেবা প্রদান করিতেছেন, শাসনের সুফল ও কুফল,  অসমীয়া প্রজার দুরবস্থা এবং অন্যটিতে কন্দর্পেশ্বর সিংহকে রাজ সিংহাসনে অধিষ্ঠিত করার কথা বলেছেন মিলস তার প্রতিবেদন নাকচ করে তাকে ষড়যন্ত্রকারী আখ্যা দিয়েছিলেন ক্রুদ্ধ মনিরাম 1857 সালে কলকাতায় গিয়ে বঙ্গদেশের গভর্নরকে লগ ধরার চেষ্টা করে বিফল হন  ফলে উত্তর ভারতের সিপাহী বিদ্রোহের খবর শুনে অসমের সিপাহীদেরকে বিদ্রোহ করার জন্য গোপনে চিঠি দেন  অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে আসার পরিকল্পনা ক্যাপ্টেন হলরয়েড যখন ধরে ফেলেন, তাকে গ্রেফতার করা হয় এবং 1858 সালের 26 শে ফেব্রুয়ারিতে যুরহাট এ মনিরাম ও পিওলিকে ফাঁসি দেওয়া হয়
Q.4. অসমে 1857 সালের বিদ্রোহ বিফলতার কারণগুলো উল্লেখ কর
Ans:- অসমে 1857 সালের বিদ্রোহ বিফলতার কারণ:-
a.   বিদ্রোহীর সংখ্যা নগন্য ও স্থান সীমাবদ্ধ ছিল
b.   প্রস্তুতি ও কাজ সম্পন্নের  জ্ঞান নেতাদের ছিল না
c.   বিদ্রোহীদের মধ্যে যোগাযোগ ব্যবস্থা মন্থর ছিল
d.   প্রতিপক্ষকে দুর্বল ও তার বুদ্ধিমত্তাকে মনিরাম সহ বিদ্রোহীরা হেয় জ্ঞান করেছিল
e.   সমাজের সকল শ্রেণীর লোককে জড়িত করার প্রচেষ্টাও ছিল না এবং মধ্যবিত্তরা ও বুদ্ধিজীবীদের বিদ্রোহের প্রতি সমর্থন ছিল না
f.    বিদ্রোহীরা নিজের  কার্যপন্থার গোপনীয়তা রক্ষায় ব্যর্থ হয়েছিল
g.   প্রয়োজন অনুসারে অস্ত্রশস্ত্রের  যোগান ছিল না
h.   বিদ্রোহীরা অসমের সিপাহীদের সবার সমর্থন আদায় করতে পারে নাই
Q.5.  অসমে 1857 সালের বিদ্রোহের গুরুত্ব/ ফলগুলো উল্লেখ কর
Ans:- অসমে 1857 সালের বিদ্রোহের গুরুত্ব/ ফল:
a.  আঠারোশো সাতান্ন সালে অসমের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো একটি সর্বভারতীয় ঐতিহাসিক ঘটনার সঙ্গে অসম জড়িত হয়
b.  1861 সালে আরম্ভ হওয়া কৃষক বিদ্রোহ 1857 সালের বিদ্রোহের প্রতিক্রিয়া
c.   বিদ্রোহ হিন্দু-মুসলমানের একত্রীকরণ  তথা জাতীয় চেতনা জাগ্রত করে
d.   অসমীয়া পরবর্তী সংগ্রামীরা মনিরাম ও তার সহযোগীদেরকে দেখে অনুপ্রেরণা লাভ করেছিল
 অন্যান্য ফল:
a.  ব্রিটিশ সরকার কঠোর হাতে সিপাহী বিদ্রোহ দমন করতে সক্ষম হয়েছিল
b.  মনিরাম ও পিওলিকে ফাঁসি দেওয়া ও অন্যান্য বিদ্রোহীদেরকে জেলে রাখা এবং দেশান্তরিত করা হয়েছিল
Q.6. ফুলগুরির ধাওয়া বা কৃষক বিদ্রোহ কি ছিল? আলোচনা কর
Ans:- ফুলগুরির কৃষক বিদ্রোহ:
নগাও এর তিওয়া জনজাতিপূর্ণ ফুলগুরি গ্রামের কৃষকরা আফিম চাষ (কানি, মাদক দ্রব্য প্রস্তুত করা উদ্ভিদ)  করে জীবন নির্বাহ করিত 1861 সালে ব্রিটিশ সরকার আফু চাষ সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করে দেয় সঙ্গে সঙ্গে পান-সুপারির উপর কর আরোপ করা হয় 1861 সালের 17 সেপ্টেম্বর বিক্ষুব্ধ ও অসন্তুষ্ট প্রায় 1500 কৃষক ফুলগুরিতে সমবেত হয়ে রাইজ মেল করে ও সরকারকে ইহা প্রত্যাহারের জন্য দাবি জানানো হয় নগাও এর উপায়ুক্ত হারবার্ট স্কন্সকে তিনি দাবি না মেনে কৃষকদের প্রতি দুর্ব্যবহার করেন 15 থেকে 19 অক্টোবর ফুলগুঁরিতে লাঠি-সোটা নিয়ে সজ্জিত রাইজ মেল বসে 18 অক্টোবর সহকারি উপায়ুক্ত লেফটেন্যান্ট সিংঙ্গার সভায় উপস্থিত হয়ে দাবিগুলো না মেনে উত্তেজিত কৃষকদের হাত থেকে লাঠিগুলো কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন এবং জনতাকে সেই স্থান ত্যাগ করার নির্দেশ দেন টানা হেঁচড়ার মধ্যে বাবু কৈবর্ত নামক এক মাচুয়া সিঙ্গারকে লাঠি দিয়ে মাথায় আঘাত করেন পরে জনতার আক্রমণে তার সেখানেই মৃত্যু ঘটে তার  মৃতদেহ কলং নদীতে ছুঁড়ে ফেলা হয় এই ছিল ইতিহাসখ্যাত ফুলগুরির ধাওয়া বা কৃষক বিদ্রোহফুলগুরির কৃষক বিদ্রোহের অপরাধে  লক্ষণ ডেকা, সংবর লালুং, ও রংবর ডেকাকে নগাঁও জেলে ফাঁসি দেওয়া হয়
Q.7. ফুলগুরির কৃষক বিদ্রোহের গুরুত্ব কি কি ছিল উল্লেখ কর
Ans:- ফুলগুরির কৃষক বিদ্রোহের গুরুত্ব:
a.  জনজাতীয় মাচুয়া সম্প্রদায়ের আন্তরিক যোগদানে এক গণভিত্তি প্রদান করেছিল
b.  অন্যান্য শ্রেণীর লোকেরাও কৃষকদেরকে সমর্থন দিয়েছিল
c.  সরকার পান সুপারি চাষের উপর আর কখনোও কর আরোপ করেনি
d.  এই বিদ্রোহ - ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদের কবল থেকে মুক্ত হওয়া জনগণের প্রয়াসের এক অন্যতম নিদর্শন ছিল
e.  ফুলগুরির  মানুষের কর না দেওয়ার সিদ্ধান্তকে অসহযোগ আন্দোলনের শুভারম্ভ  বলা যায়
f.   অসমের  অন্যান্য কৃষকরাও সাংগঠনিকভাবে আন্দোলনের প্রেরণা পেয়েছিল
Q.8. রঙিয়ার কৃষক বিদ্রোহ সম্পর্কে আলোচনা কর
Ans:- রঙিয়ার কৃষক বিদ্রোহ :
a.  1893 সালের 24 ডিসেম্বর রঙিয়া বাজার লুটপাটের মাধ্যমে শুরু হয় এই  বিদ্রোহ কয়েকশ কৃষক তামুলপুরের তহসিলদার রাধানাথ বরুয়াকে লাঞ্ছনা করে, মারোয়ারি সুদখোর মহাজন থেকে মাটির নথিপত্র লুট করে
b.  সরকার সশস্ত্র সেনা মোতায়ন করে 1893 সালের 30  ডিসেম্বরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে
c.  1894 সালের 8 জানুয়ারি একটি জনসভা থেকে 15 জন কৃষককে গ্রেফতার করে
d.  1894 সালের 10 ডিসেম্বরে প্রায় 3 হাজার কৃষক রঙিয়া থানায় সমবেত হন
e.  উপায়ুক্ত ছিলেন ম্যাক ক্যাব 1895 সালের 10 জানুয়ারি ঘোষণা করেন যে   উপায়ুক্ত এর অনুমতি বিনা কোন সভা অনুষ্ঠিত করতে পারবে না এই ঘোষণা সত্ত্বেও নলবারি, বরমা, বজালী প্রভৃতি স্থানে আগের মতই কৃষক সভা হয়
f.   রঙিয়ার কৃষক 90 হাজারের মধ্যে 60 হাজার খাজনার প্রথম কিস্তি প্রদান করিতে বাধ্য হয়
Q.9. লাচিমার কৃষক বিদ্রোহ সম্পর্কে আলোচনা কর
Ans:- লাচিমার কৃষক বিদ্রোহ :
রঙিয়ার কৃষক বিদ্রোহের অনুপ্রেরণা পেয়ে বরমা গণসভা লাঠিয়াল বাহিনী ও গুপ্তচর ব্যবস্থার মাধ্যমে আরও শক্তিশালী হয় বজালীতে লাচিমা, চৌখুঁটি, গানাগাও, সর্থেবারি পাটাচারকুচি, ইত্যাদিতে হাজার হাজার কৃষক জনসভায় যোগ দেন পানাগাও এর চরে অনুষ্ঠিত সভা সর্ববৃহৎ ছিল 1894 সালের 21 জানুয়ারী লচিমার কাপলা গাও এ মৌজাদার দাসোরাম চৌধুরী ও মন্ডল হরিরাম মিশ্র খাজনা সংগ্রহে গেলে মারধর এ দাসোরাম চৌধুরীর মৃত্যু হয় বরপেটার মহকুমাধিপতি মাধব চন্দ্র বরদলৈ 75 জন কৃষককে আটক করে লচিমার বিশ্রাম শিবিরে নিয়ে যান প্রায় 3000 কৃষক বিশ্রাম শিবিরকে ঘেরাও করে জ্বালিয়ে দেওয়ার হুমকিতে বন্দিরা মুক্তি পায় পরদিন উপায়ুক্ত ম্যাক ক্যাব 59 জন কৃষককে গ্রেপ্তার করান25 তারিখ প্রায় 6000 কৃষকের স্বাক্ষর সম্বলিত আবেদন উপায়ুক্তকে দেওয়া হয় কিন্তু তিনি সারা না দিয়ে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করেন অপরাধ বিচারে পুষ্পরাম কলিতা, দেবীদত্ত শর্মা, জয়ন্তী বেজ, নির্ভাষা কলিতা, নাউচাকু কলিতা ও মঙ্গলু কলিতাকে দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয় বন্দীদের কাঁধে নাঙ্গল রেখে গরুর মত ব্যবহার করে জনতাকে দৃষ্টান্ত দেখিয়েছিলেন ম্যাক ক্যাব, যাহাতে ভবিষ্যতে কেউ বিদ্রোহ করতে যেন সাহস না পায়  
Q.10. পথরুঘাটের কৃষক বিদ্রোহ সম্পর্কে আলোচনা কর
Ans:- পথরুঘাটের কৃষক বিদ্রোহ:
খাজনা বৃদ্ধির প্রতিবাদে 1894 সালের জানুয়ারি মাসে মঙ্গলদৈর পথরুঘাটে কৃষক বিদ্রোহ হয় 26-28 জানুয়ারি কলাইগাওঁ, মঙ্গলদৈ, ,সিপাঝার ও পথরুঘাটের কৃষক এক মঞ্চে মিলিত হয় ও সভার আয়োজন  করে তাহা শুনে জেলাধিপতি জে. ডি. অ্যান্ডারসন সামরিক বাহিনী নিয়ে উপস্থিত হন তিনি খাজনা না দেওয়া কৃষকের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করেন পুলিশ অধীক্ষক জে. আর বেরিংটনকে প্রায় 200 জন কৃষক ঘিরে ফেলেন কিন্তু তিনি পালিয়ে যান এবং বিশ্রাম শিবিরে  আশ্রয় নেনউত্তেজিত প্রায় 2 হাজার কৃষক বিশ্রাম শিবিরকে ঘিরে ফেলেন উপায়ুক্ত এন্ডারসন সবাইকে সরে যেতে বললেন কৃষক ও পুলিশ বাহিনীর মধ্যে মারামারি শুরু হয় পুলিশ অধীক্ষক এর গুলিচালনার নির্দেশে প্রায় 140 জন কৃষক নিহত ও 150 জন কৃষক আহত হন মোট 37 জন কৃষককে গ্রেফতার করে মঙ্গলদৈ মহকুমাধিপতি  রেনসন  সাহের বিচার করে আকলু শেখ ও অন্যান্য 6 জন কে শাস্তি প্রদান করে এভাবে কঠোর হাতে কৃষক বিদ্রোহ দমন করা হয় সমস্ত কৃষক বিদ্রোহ (1861 থেকে 1894) পরবর্তী সময়ে অসমীয়া জনগণকে স্বাধীনতা সংগ্রামে অনুপ্রেরণা জুগিয়েছিল
Q.11. জয়ন্তিয়া বিদ্রোহ সম্পর্কে আলোচনা কর
Ans:- জয়ন্তিয়া বিদ্রোহ:
a.   1835 সালে রাজা রাজেন্দ্র সিংহের হাতছাড়া হয়ে ইংরেজের হাতে যায়, এতে চিংট্যাং বা জয়ন্তীয়ারা বিক্ষুব্ধ হয়    
b.  দেওয়ানী ও ফৌজদারী বিচারের ভার দেওয়া হয় দলৈ জনগোষ্ঠীকে
c.   উন্মুক্ত ভাবে মাছ ধরা, খড়ি কাটা, খড় সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ হয় এবং কর আরোপ করা হয়
d.  সুদূর কাল থেকে পাহাড়িয়া জ জনজাতিরা ব্যবহার করে আসা অস্ত্রের ওপর নিষেধাজ্ঞা করা হয়
e.   গৃহকর, আয় কর, ধার্য করা হয়
সহজ সরল ধর্মীয়, পরম্পরাগত, সামাজিক ও অর্থনৈতিক জীবনে ইংরাজরা হস্তক্ষেপ করায় জয়ন্তিয়ারা তাদের সরদার ও দলৈদের সাথে মিলিত হয়ে জয়ন্তিয়া পাহাড়ে বিদ্রোহের সূচনা করে বিদ্রোহ ছড়িয়ে পড়ে জয়ন্তীপুর, মুলাগুল, জাফলং ও ছেরা ইত্যাদিতে 1861 সালে  ওকিয়্যাং নংবাহ বিদ্রোহ ঘোষণা করেন 1862 সালের 17 জানুয়ারি জোয়াইর ব্রিটিশ  ছাউনি আক্রমণ করা হয় তীব্র সংঘর্ষে শতাধিক লোক দুই পক্ষের নিহত হয় ব্রিটিশ সরকার জি. ডি. সায়ারসকে জয়ন্তিয়া পাহাড়ের সামরিক ও অসামরিক কর্তৃক প্রদান করা হয় এবং খাসি-জয়ন্তিয়া পাহাড়ের ডেপুটি কমিশনার হন বি. ডব্লিউ মর্টন  ব্রিটিশ সরকার ওকিয়্যাং নংবাহকে জীবন্ত ধরতে পারলে 1000 টাকা পুরস্কার দেওয়ার কথা ঘোষণা করেন তাকে ধরে জোয়াইতে ফাঁসি দেওয়া হয়, ফলে বিদ্রোহ স্থবির হয় ও অবশেষে 1863 সালে বিদ্রোহের পরিসমাপ্তি ঘটে



****************


Post a Comment

0 Comments