সেবা/অসম দশম শ্রেণী সমাজ
বিজ্ঞান
অসমের
আঞ্চলিক ভূগোল - ব্রহ্মপুত্র সমতল
পরিচয় ও ভূ-প্রকৃতি , উত্তর ও দক্ষিণ পারের
প্রধান উপনদী, পৃথিবীর বৃহত্তম নদীদ্বীপ, বনজ সম্পদ,
বন-জঙ্গল ও বন্যপ্রাণী, রাষ্ট্রীয় উদ্যান, সংরক্ষিত বন, ও অভয়ারণ্য, কৃষি, শিল্প-উদ্যোগ, পর্যটন উদ্যোগ
SEBA/ASSAM
CLASS 10 SOCIAL SCIENCES
Visit – www.smartlearningservice.com
অসমের আঞ্চলিক ভূগোল
ব্রহ্মপুত্র সমতল
পরিচয় ও ভূ-প্রকৃতি :
ব্রহ্মপুত্র সমতল একটি বৃহৎ সমতল। পূর্ব থেকে
পশ্চিমে এর দৈর্ঘ্য প্রায় ৭২০ কিলোমিটার এবং উত্তর থেকে দক্ষিণে এটি গড়ে প্রায়
৯০ কিলোমিটার প্রশস্ত। সমতলটির একটি উল্লেখযোগ্য ভূ-প্রকৃতি হল যে, পূর্ব থেকে
পশ্চিমের দিকে এর ঢাল খুব কম। তাই সমতলটিতে বা তার আশপাশে বর্ষাকালে দু’দিন বৃষ্টিপাত
হলেই, বৃষ্টিপাতের জল ব্ৰহ্মপুত্র দিয়ে দ্রুত
প্রবাহিত হতে পারে না এবং ফলে নদীটি জলে স্ফীত হয়ে পড়ে ও বন্যার সৃষ্টি হয়।
এছাড়াও এই সমতলটির মধ্যে উত্তরের হিমালয় ও দক্ষিণের নাগাপাহাড়, কার্বি পাহাড়, উত্তর কাছাড়
পাহাড় এবং মেঘালয় থেকে প্রায় ৪০টি বড়ো উপনদী নির্গত হয়ে ব্রহ্মপুত্রে পতিত
হয়েছে। এই উপনদীগুলোর আশপাশে আবার অনেক নতুন বা পুরানো নদীর প্রবাহ, খাল, বিল, জলাশয় ইত্যাদি
দেখতে পাওয়া যায়। ব্রহ্মপুত্রের বুকে তিন পাশের পাহাড়-পর্বতগুলো থেকে মাটি, বালি, কাদা, পাথর ইত্যাদি
বয়ে আসে বলে এবং নদীর তলদেশ উঁচু হওয়ার জন্য এই অবক্ষেপগুলো স্থানে স্থানে নদীর
বুকে এবং স্থানে স্থানে পারে জমা হয়ে চর, দ্বীপ, বালিয়াড়ি ইত্যাদির সৃষ্টি করে। প্রকৃত
পক্ষে নদীর মূল প্রবাহটি গড়ে যদিও ৫/৬ কিলোমিটার প্রশস্ত, তবুও এর দুই পার
থেকে দুইদিকে প্রায় ৬/৮ কিলোমিটার দূর পর্যন্ত জলাশয়, ডোবা, চর ইত্যাদিকে
বিস্তৃত হয়ে থাকতে দেখা যায়।
উত্তর ও দক্ষিণ পারের
প্রধান উপনদী:-
সমতলটির উত্তর পারের প্রধান উপনদী হল
সুবনশিরি, রঙা নৈ, ডিক্রং, বুরৈ, বড়োগাং, জিয়া ভরলু, গাভরু, জিয়া ধনশিরি, বড়োনদী, পাগলদিয়া, মানস, চম্পামতী, সরলভাগা, গদাধর ও সোনকোষ। দক্ষিণ পারের প্রধান
উপনদীগুলো হল ডিব্ৰু, বুড়িদিহিং, দিসাং, দিখৌ, জাঁজি, ভোগদৈ, কাকডোঙা, ধনশিরি, কলং, কপিলি, ডিগারু, কুলসি, দুধনৈ, কৃষ্ণাই, জিনারি, ও জিঞ্জিরাম। এই উপনদীগুলোরও দুই পারে অনেক
জলাশয়, খাল, বিল ইত্যাদি দেখা যায়। উত্তর পারের
উপনদীগুলো বর্ষাকালে মাঝে মধ্যে গতি পরিবর্তন করতে থাকে বলে এগুলোর দুই পারে বিল, ডোবা, জলাশয় ইত্যাদির
সংখ্যা বেশি।
ব্রহ্মপুত্র উপত্যকার ভূ-প্রকৃতির আরেকটি
উল্লেখযোগ্য চরিত্র হল যে বর্ষাকালে এর নদীগুলোর উঁচুপারের ভূমিস্খলন হয়। এই পার
ভাঙার ফলে কৃষিক্ষেত্র, বাড়ি-ঘর, পথ-ঘাট ইত্যাদির প্রচুর ক্ষতি সাধন হয়।
Visit – www.smartlearningservice.com
পৃথিবীর বৃহত্তম নদীদ্বীপ:-
ব্রহ্মপুত্র নদীর উজান অংশে জোড়হাট জেলার
উত্তরাংশে মাজুলি নামে একটি নদী দ্বীপ আছে। এটি পৃথিবীর মধ্যে বৃহত্তম নদীদ্বীপ।
পূর্বে এর কালি ছিল প্রায় ১,২০০ বর্গ কিলোমিটার। ১৯৫০ সালের ভূমিকম্পের
পর থেকে এটি পার-ভাঙার সমস্যায় আক্রান্ত হতে শুরু করে এবং ফলে এর কালি কমে
বর্তমানে প্রায় ৮০০ বর্গ কিলোমিটার হয়।
ব্রহ্মপুত্রের প্রধান প্রধান উপনদীগুলো শীর্ষখনন করে পাহাড়ের মধ্যে সমতলটিকে অল্প অল্প করে
প্রশস্ত করতে থাকে। তাই সমতলটির পাহাড়ের পাদদেশীয় সীমারেখাটি আঁকাবাঁকা।
ক্ষয়ীভবনের ফলে গড়ে ওঠা অন্য একটি ভূ-প্রাকৃতিক অবয়ব হল ব্রহ্মপুত্র তীরের
টিলাগুলো। পূর্বে বিশ্বনাথ থেকে পশ্চিমে মানকাচর পর্যন্ত ব্রহ্মপুত্রের দুই পারে
স্থানে স্থানে কয়েকটি অতি প্রাচীন শিলার টিলা ও পাহাড় দেখা যায়। এই টিলাগুলো
প্রকৃতপক্ষে মেঘালয়ের উত্তরদিকে প্রসারিত অংশমাত্র।
ব্রহ্মপুত্র সমতলের আরো একটি প্রাকৃতিক
বৈশিষ্ট্য হল যে, এর উত্তর অংশের হিমালয় পাদদেশ সংলগ্ন অঞ্চলে
গভীর অরণ্য দেখা যায়। কিন্তু এর মাটি এটেল নয় বলে এখানে শস্য ভালো হয় না। এই
অরণ্য অঞ্চলের দক্ষিণ সংলগ্ন অঞ্চলে সিক্ত মাটিতে উচু উঁচু ঘাস বন দেখা যায়। এ
ধরনের অঞ্চলকে তরাই অঞ্চল বলা হয়। ব্রহ্মপুত্র সমতলের দক্ষিণ দিকের নাগাপাহাড়, কার্বিপাহাড়
এবং মেঘালয়ের পাহাড়গুলোর পাদদেশেও অরণ্য এবং মাঝেমধ্যে জলাশয় দেখা যায়।
বনজ সম্পদ: বন-জঙ্গল ও বন্যপ্রাণী-
কোনো একটি অঞ্চলের বনজ ও কৃষিজ সম্পদ কী
ধরনের হবে তা নির্ভর করে অঞ্চলটির অবস্থান, ভূ-প্রকৃতি ও জলবায়ুর ওপর। ব্রহ্মপুত্র সমতল
ক্রান্তীয় মৌসুমি অঞ্চলে অবস্থিত। এটিকে তিনদিক থেকে পাহাড়-পর্বত বেষ্টন করে
আছে। এখানে এপ্রিল-মে মাস থেকে এক-দুই পশলা বৃষ্টিপাত শুরু হয় এবং জুন, জুলাই আগষ্ট ও
সেপ্টেম্বর মাসে এর পরিমাণ বেশি হয়। অন্যদিকে আবার অক্টোবর মাস থেকে মার্চ মাস
পর্যন্ত বৃষ্টিপাত কম হয়। তাই সমতলটিতে পর্ণমোচী উদ্ভিদ বেশি দেখা যায়। এইগুলোর
মধ্যে শাল, সেগুন, শিঙরি, বনসোম, উরিয়াম, আজার, পমা, গামারি, শিমলু, কাঁঠাল, হরিতকী, খয়ের, শিরিষ, কদম, চালতা ইত্যাদি প্রধান। আগেকার দিলে এই
গাছগুলোর সহাবস্থানে বড়ো বড়ো অরণ্য গড়ে উঠেছিল। জনসংখ্যা দ্রুত গতিতে বেড়ে
যাওয়ার ফলে এই অরণ্যগুলো ধ্বংস হয়ে চলেছে।
পর্ণমোচী অরণ্য ছাড়াও ব্রহ্মপুত্র সমতলের
পূর্ব এবং উত্তর অংশে অর্থাৎ নাগা পাহাড় ও অরুণাচল। হিমালয়ের পাদদেশে ক্রান্তীয়
চিরহরিৎ গাছ-পালার অরণ্য দেখা যায়। ডিব্ৰুগড় ও তিনসুকিয়া জেলার জয়পুর ও
বুড়িদিহিং সংরক্ষিত বন, লখিমপুর জেলার দুলুং সংরক্ষিত বন এবং শোণিতপুর
জেলার সোনাই-রুপাই সংরক্ষিত বলে এধরনের চিরহরিৎ গাছ বেশি দেখা যায়। এখানে যে সব
গাছ পাওয়া যায় তার মধ্যে হলং, নাহর, হলক মাকরি শাল, শিশু, তিতাচাপা, বন্য আম, অর্জুন, অগরু ইত্যাদি প্রধান। এখানে উল্লেখযোগ্য যে, ক্রান্তীয়
চিরহরিৎ বনাঞ্চলে ঘন ঘাস উৎপন্ন হয়। উঁচু গাছগুলোতে অর্কিড জাতীয় বিভিন্ন ধরনের
পরাশ্রয়ী গাছ প্রচুর পরিমাণে পাওয়া যায়।
ব্রহ্মপুত্র সমতলের তৃতীয়প্রকার উদ্ভিদ হল
ঘাস। এখানে দুইপ্রকারের ঘাস পাওয়া যায়। প্রথমে। ব্রহ্মপুত্রের উত্তর সমতলের
সিক্ত তরাই অঞ্চলের খড়, উলু, কাশ ইত্যাদির মতো উচু ঘাসজাতীয় গাছ এক
দ্বিতীয়ত, ব্রহ্মপুত্র ও তার প্রধান উপনদীগুলোর
পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের খাল-বিল, ডোবা, জলাশয়, চত। ইত্যাদিতে উৎপন্ন ঝাউ, নল-খাগরা, ইকরা, বেত, কাশ ইত্যাদি
গাছ।
উদ্ভিদ প্রকৃতি প্রদত্ত এক অমূল্য সম্পদ।
উদ্ভিদ থেকেই আমাদের খাদ্যবস্তু, আশ্রয়স্থল, আসবাব-পত্র, সাজ-সরঞ্জাম ইত্যাদি প্রস্তুত করা হয়।
ব্রহ্মপুত্র উপত্যকায় বর্তমানে ১২,৫১২ বর্গ কিলোমিটার পরিমাণ অঞ্চলে সংরক্ষিত
বন আছে। এটি সমতলের প্রায় ১৬ শতাংশ।
ব্রহ্মপুত্র সমতলে অর্থনৈতিকভাবে মূল্যবান
গাছ-পালার মধ্যে শাল, সেগুন, গামারি, শিশু, তিতাচাপা, চম্পা, আজার, বনসোম, আগর বা অগরু গাছ, বাঁশ, বেত ও ইকরা
প্রধান। এগুলো বাড়ি-ঘর, সেতু, রেলপথের স্লিপার, ঘরোয়া আসবাব, সাজ-সরঞ্জাম
ইত্যাদি প্রস্তুত করার কাজে ব্যবহার করা হয়। এছাড়াও পমা, পূজা, শিমলু, হলক, হলং ইত্যাদি
কোমল কাঠের গাছ থেকে প্লাইউড প্রস্তুত করা হয়। ব্রহ্মপুত্র সমতলের তিনসুকিয়া, ডিব্ৰুগড়, জোড়হাট ও
কামরূপ জেলায় বহু কাঠ চেরাইয়ের কারখানা এবং বেশ কয়েকটি প্লাইউড তৈরির কারখানা
আছে। ব্রহ্মপুত্র সমতলের অরণ্যগুলো থেকে ৪০১,০০০ ঘন মিটার শিল্প-উদ্যোগে ব্যবহার্য কাঠ
এবং ২৭,০০০ ঘন মিটার রান্না-বান্নার কাজে ব্যবহার্য
জ্বালানি সংগ্রহ করা হয়। অসম সরকারের বন বিভাগ এগুলো থেকে বছরে বহু
কোটি টাকার রাজস্ব সংগ্রহ করে। এই অঞ্চলের বন জঙ্গলে জমকালো অর্কিড ছাড়াও নিম, তুলসী, দ্রোণ, অপরাজিতা, নয়নতারা, অশোক, অর্জুন ইত্যাদি
অসংখ্য বনৌষধির গাছও পাওয়া যায়।
সমতলটির বন-জঙ্গলগুলো অনেক দুর্লভ
বন্যপ্রাণীরও বাসস্থান। এগুলোর মধ্যে কাজিরঙার এক খড়গযুক্ত গন্ডার, উজান অসমের হলৌ
বাঁদর, বন্য মহিষ, বাঘ, হাতি, ভালুক, বন্য শুয়োর ইত্যাদি প্রধান। এগুলো ছাড়াও
হরিণ, বিভিন্ন প্রকারের সাপ, কুমির, ঘড়িয়াল
ইত্যাদি এই বনাঞ্চলে পাওয়া যায়। এই তাঞ্চলের খাল বিল, ডোবা, জলাশয়
ইত্যাদিতে অসংখ্য স্থানীয় এবং পরিযায়ী পাখি দেখা যায়। খাল-বিল জলাশয় ও
নদনদীগুলোতে রুই, চিতল, বোয়াল, শিঙি, মাগুর, কই ইত্যাদি অসংখ্য ছোট বড় মাছ, কচ্ছপ, ঘড়িয়াল, শিশুমাছ ও উদ পাওয়া যায়। সমতলটির উদ্ভিদ
ও প্রাণীর রক্ষণাবেক্ষণের জন্য এর বন জঙ্ঘল গুলো সংরক্ষিত বন, অভয়ারণ্য ও
রাষ্ট্রীয় উদ্যান হিসেবে গড়ে তোলা হয়েছে। অঞ্চলটির রাষ্ট্রীয় উদ্যান, সংরক্ষিত বন, ও অভয়ারণ্যগুলোর
মধ্যে নিম্নোক্ত রাষ্ট্ৰীয় উদ্যান ও অভয়ারণ্য প্রধান।
Visit – www.smartlearningservice.com
রাষ্ট্রীয় উদ্যান, সংরক্ষিত বন, ও অভয়ারণ্য
কৃষি :-
অসম একটি কৃষি প্রধান রাজ্য। এর ব্রহ্মপুত্র
ও বরাক সমতল দুটিতে প্রতি বর্ষাকালে বন্যা হলে পলি পড়ে। তাই এর মাটি বিভিন্ন
মৌসুমি শস্যের জন্য উপকারী। এছাড়াও ব্রহ্মপুত্র সমতলের পূর্ব অংশের যে উঁচু
অঞ্চলগুলো বন্যার প্রভাব থেকে মুক্ত, সেখানে ভালো চা উৎপন্ন হয়। ব্রহ্মপুত্র
সমতলের প্রতিটি স্থানে বছরে গড়ে ১৫০ সে. মিটারের চাইতেও বেশি বৃষ্টি হয়। এই
বৃষ্টিপাতের অধিকাংশই বর্ষাকালে (মে মাস থেকে অক্টোবর মাসের মধ্যে) হয় এবং সে
সময়ে উত্তাপও ২০° সেলসিয়াস থেকে ৩৫° সেলসিয়াস হয়।
এধরনের ভূ-প্রাকৃতিক এবং জলবায়ুর অবস্থা সমতলটিতে ধান, পাট, সরিষা, বিভিন্ন ধরনের
ডাল জাতীয় শস্য, ভুট্টা, আখ, বিভিন্ন ধরনের শাক-সবজি এবং চা উৎপাদনে
সাহায্য করে। সমতলটিতে কিছু উৎকৃষ্ট ফল-মূলও উৎপন্ন হয়। এগুলোর মধ্যে কলা, নারিকেল, কমলা, লেবু, লিচু, আনারস ও বিভিন্ন
প্রকারের আলু ও কচু প্রধান।
ব্ৰহ্মপুত্ৰ সমতলের প্রায় ৩০ হাজার বর্গ
কিলোমিটার জমিতে চাষ করা হয়। এর মধ্যে ২১ হাজার বর্গ কিলোমিটার অর্থাৎ ২১ লাখ
হেক্টর জমিতে কেবল ধানই উৎপন্ন হয়। এথেকে বোঝা যায় যে অসমের কৃষিতে খাদ্যশস্য
উৎপাদনে বেশি গুরুত্ব প্রদান করা হয়।
ব্রহ্মপুত্র সমতলের প্রধান শস্য হল ধান।
এখানে পরম্পরাগতভাবে দুই ধরনের ধানের চাষ করা বর্ষাকালে রোপণ করে শীতকালে কেটে
নেওয়া শালি ধানের চাষ (আমন চাষ) এবং ফাঙ্গুন-চৈত্রে (মার্চ-এপ্রিলে) রোপণ
করে বর্ষাকালে কেটে নেওয়া আউশ ধানের চাষ। এটিকে ‘রবি’ চাষ বলা যায়। আউশ ধান ছাড়াও সমতলটির নিচু
স্থানগুলোতে বাও নামের একপ্রকার ধান ফাল্গুন চৈত্র মাসে রোপণ করে শীতকালে
অগ্রহায়ণ-পৌষ মাসে (নভেম্বর-ডিসেম্বর) কেটে নেওয়া হয়। বর্ষাকালে প্রায়ই জলমগ্ন
হয়ে থাকা সমতলটির নিচু জায়গাগুলোতে আজকাল ‘বোরো' নামে একপ্রকার নতুনভাবে প্রর্বতিত ধানের চাষ
করা হয়। নিচু জায়গাগুলোর জল শুষ্ক কালে শুকিয়ে গেলে অগ্রহায়ণ-পৌষমাসে এই ধান
রোপণ করা হয় এবং জমিতে জল জমা হওয়ার পূর্বেই বৈশাখ মাসের শেষে (মে মাস) কাটা
শুরু হয়। ব্রহ্মপুত্র সমতলে ধানের উৎপাদন মধ্যম। এখানে কৃষকেরা মাটিতে বিশেষ যত্ন
সহকারে সার প্রয়োগ করে না। তারা স্বভাবিকভাবে ঘাস-পাতা লতা পচে-গলে ও পলি পড়ে
উৎপন্ন সারের ওপরই নির্ভর করে। তাদের কৃষি পদ্ধতিও পুরানো ধরনের। তাই এখানে হেক্টর
প্রতি মাত্র ১৩৩০ কিলোগ্রাম ধান উৎপন্ন হয়। সমগ্র সমতলটির সবকয়টি প্রজাতির ধানের
মোট বার্ষিক উৎপাদন প্রায় ২,৬০০,০০০ টন।
ধানের পরেই সমতলটির প্রধান শস্য হল পাট।
উপত্যকাটির মধ্য ও নিম্ন অংশে বর্ষাকালে জল জমা হওয়া নিচু জায়গাগুলোতে পাট চাষ
করা হয়। নগাঁও, মরিগাঁও, দরং, নলবাড়ি, বড়পেটা, গোয়ালপাড়া, বঙাইগাঁও ও ধুবুড়ি জেলায় প্রচুর পরিমাণে
পাট উৎপাদন করা হয়। এই জেলাগুলোর মোট ৭০,০০০ হেক্টর জমিতে প্রায় ৭,০০,০০০ গাঁট পাট
উৎপাদন করা হয়।
আখ ব্রহ্মপুত্র সমতলের আরেকটি প্রধান শস্য।
গোলাঘাট, নগাঁও, শোণিতপুর, কামরূপ ও বড়পেটা জেলায়ও কিছু পরিমাণে আখের
চাষ করা হয়। এর জন্য উঁচু, নিয়মিত বন্যা থেকে মুক্ত উর্বর এঁটেল মাটির
প্রয়োজন। সমতলটিতে প্রায় ৩০,০০০ হেক্টর জমিতে আখের চাষ করা হয়। বছরে
প্রায় ১,২০০,০০০ টন আখ এই অঞ্চলে উৎপাদন করা হয়।
ভুট্টা বা মকাইয়ের চাষও এই অঞ্চলে হয়।
প্রধানত জনগোষ্ঠীয়, নেপালি ও চা-জনগোষ্ঠীয় কৃষকেরা এই শস্য
যথেষ্ট পরিমাণে উৎপাদন করে। ব্রহ্মপুত্র সমতলের প্রায় ১২,০০০ হেক্টর
জমিতে প্রায় ৯,০০০ ১০,০০০ টন ভুট্টা প্রতি বছর উৎপাদন করা হয়।
ব্রহ্মপুত্র উপত্যাকায় কিছু পরিমাণে গম
উৎপাদন করা হয়। প্রধানত তুলনামূলক ভাবে উঁচু জায়গায় শালি ধান কাটা হয়ে গেলে গম
রোপন করা হয়। পশ্চিম অসমের জেলাগুলোতে বছরে প্রায় ৭০,০০০ হেক্টর
জমিতে চাষ করে প্রায় ১,১০,০০০ টন গম সংগ্রহ করা হয়।
সমতলটির ব্রহ্মপুত্র ও তার প্রধান উপনদীগুলোর
চর অঞ্চলে প্রচুর আলু, বাঁধাকপি, ফুলকপি, ওলকপি ও অন্যান্য শাক-সবজি উৎপাদন করা হয়।
এখানে বছরে প্রায় ৬০০,০০০ টন আলু উৎপাদন করা হয়। গোলাঘাটের
সরুপথার অঞ্চল, বড়পেটা জেলা, বঙাইগাঁও জেলা ও ধুবুড়ি জেলা শাক-সবজি
উৎপাদনের জন্য বিখ্যাত।
ব্ৰহ্মপুত্র সমতলে কলা, আনারস, কমলা, পেঁপে ও নারিকেল
যথেষ্ট পরিমাণে উৎপন্ন হয়। তিনসুকিয়া জেলা, গোলাঘাট জেলা, কামরূপ জেলার দক্ষিণাংশ ও গোয়ালপাড়া জেলার
দক্ষিণাংশে কমলা ও আনারস ভালো হয়। দক্ষিণ কামরূপ ও দক্ষিণ গোয়ালপাড়ার
বকো-ধূপধরা-দুধনৈকৃষ্ণই অঞ্চল কলার জন্য ভারত বিখ্যাত। সমতলের সর্বত্রই পেপে
উৎপন্ন হয়। নারিকেল প্রধানত মরিগাঁও, কামরূপ, দরং ও নলবাড়ি জেলায় প্রচুর পরিমাণ উৎপন্ন
হয়।
ব্ৰহ্মপুত্র উপত্যকায় বিখ্যাত অর্থশস্য
চায়ের চাষ হয়। উপরে উল্লিখিত শস্যের মতো বাড়ির কম জমিতে কিছুদিন পূর্ব পর্যন্ত
চাপাতার চাষ করা হত না। শতাধিক হেক্টর-জোরা উছবৃষ্টির জল সহজেই বয়ে নেমে যাওয়ার
মতো মাটিতে প্রচুর শ্রমিক লাগিয়ে এক-একটি চা-বাগানে চা-চাষ করা হয়। উপযুক্ত
সময়ে চায়ের পাতা তুলে চা-বাগানেই অবস্থিত কারখানায় চা প্রস্তুত করা হয়। তারপর
বাজারে বিক্রি করার জন্য। বাক্সবন্দী করে নিলামের উদ্দেশ্যে এগুলোকে নিলামকেন্দ্রে
পাঠিয়ে দেওয়া হয়। তাই চা-চাষ করার জন্য যথেষ্ট পুঁজির প্রয়োজন। ব্রহ্মপুত্র
সমতলে প্রায় ৭০০ টি চা বাগান প্রধানত তিনসুকিয়া, ডিব্ৰুগড়, শিবসাগর, জোড়হাট, গোলাঘাট, নগাঁও, শোণিতপুর ও দরং জেলার বিস্তৃত হয়ে আছে।
এইগুলোর প্রায় ১৯০,০০০ হেক্টর মাটিতে চা চাষ করা হয় এবং তা
থেকে বছরে ৩৬৬ নিযুত কিলোগ্রাম চা উৎপাদন করা হয়। চা-চাষ করতে হলে মোটা পুঁজি, প্রচুর শ্রমিক ও
কলকারখানার আবশ্যক হওয়ার জন্য এবং এই চা-চাষে উৎপাদিত পণ্য বাজারে সরাসরি ভোগের
উপযুক্ত করে প্রস্তুত করা হয় বলে অনেকে একে কৃষি না-বলে শিল্প-উদ্যোগ বলে গণ্য
করেন। ব্রহ্মপুত্র উপত্যকায় বর্তমানে অনেকে বাড়ির বাগানে ও কৃষিক্ষেত্রে
ছোটো-ছোটো চা বাগান খুলতে শুরু করেছেন।
Visit – www.smartlearningservice.com
শিল্প-উদ্যোগ:-
শিল্প-উদ্যোগে উত্তর-পূর্বাঞ্চল দেশের
অন্যান্য অঞ্চল থেকে পশ্চাদপর। সুতরাং অসমে এবং ব্রহ্মপুত্র সমতলেও বিশেষ
শিল্প-উদ্যোগ গড়ে ওঠে নি। উদ্যোগ গড়ার জন্য যে সব সম্পদের প্রয়োজন তার কিছু
সম্পদ যেমন — খনিজ তেল, কয়লা ইত্যাদির মতো খনিজ পদার্থ, কৃষিজ সম্পদ, বনজ সম্পদ
ইত্যাদি এই সমতলে পাওয়া যায়। কিন্তু শিল্প গড়ে ওঠার জন্য যে সব আন্তঃগাঁথুনির
দরকার সেগুলোর অভাব ও স্থানীয় জনসাধারণের মধ্যে শিল্প স্থাপনের উদ্যমের অভাবের
জন্যই এখানে আশানুরূপভাবে শিল্প-উদ্যোগ গড়ে ওঠে নি।
অঞ্চলটিতে যে অল্প-স্বল্প শিল্প-উদ্যোগ আছে, সেগুলোকে দুভাগে
ভাগ করা যায়। প্রথম প্রকারটি হল পরম্পরাগত কুটির শিল্প এবং দ্বিতীয়টি হল কারখানা
বা ফ্যাক্টরি শিল্প। অঞ্চলটির সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ কুটির শিল্প হল বয়ন শিল্প।
অতীত কাল থেকেই বয়ন শিল্প এই অঞ্চলের এক ঐতিহ্যপূর্ণ ব্যবসায়। বর্তমানে
ব্রহ্মপুত্র সমতলে প্রায় ২৫০,০০০ টি হস্ত-তাঁত আছে। এগুলোতে কার্পাস, এন্ডি, মুগা ও পাটের
কাপড় বয়ন করা হয়। অঞ্চলটিতে এন্ডি, মুগা এবং কিছু পরিমাণে পাটের উৎপাদন করা হয়।
প্রকৃতপক্ষে এন্ডি ও মুগা উৎপাদনে এই অঞ্চল পৃথিবী বিখ্যাত। বয়ন ছাড়াও অঞ্চলটির
আরেক পরম্পরাগত কুটির শিল্প হল কাঁসা ও পিতলের বাসন-কোসন তৈরি করা। বড়পেটা জেলার
সর্থেবাড়িতে কাঁসার বাসন-কোসন এবং তার পার্শ্ববর্তী হালধিবাড়ীতে ও কামরূপ জেলার
হাজোতে পিতলের বাসন-কোসন তৈরি করা হয়। এগুলো ছাড়াও কুটির শিল্পের মধ্যে সোনা-রুপোর
অলঙ্কার তৈরি করা, বাঁশ-বেতের সাজ-সরঞ্জাম, আসবাবপত্র
প্রস্তুত করা, মাটির বাসন, প্রদীপ, ঘট ইত্যাদি প্রধান। কারখানাভিত্তিক উদ্যোগের
মধ্যে বনজ কাঁচামাল নিয়ে প্লাইউড উৎপাদন করাটা এই অঞ্চলের একটি প্রধান উদ্যোগ।
ডিব্ৰুগড়, তিনসুকিয়া ও জোড়হাট জেলায় বেশ কয়েকটি এবং
গুয়াহাটির আশ-পাশে দু-একটি প্লাইউড ফ্যাক্টরি আছে। উজান অসমের কারখানাগুলো
প্রধানত চা-বাগানগুলোর জন্য প্লাইউডের বাক্স তৈরি করে। ব্রহ্মপুত্র সমতলে বছরে
প্রায় ১২,০০০,০০০ বর্গমিটার প্লাইউড প্রস্তুত হয়। মরিগাঁও
জেলার জাগিরোডে হিন্দুস্তান পেপার কর্পোরেশনের একটি কাগজ তৈরির কারখানা আছে।
ব্রহ্মপুত্র উপত্যকার যোগীঘোপায় আরেকটি কাগজকল আছে। কিন্তু বর্তমানে এর উৎপাদন
বন্ধ হয়ে আছে। জাগিরোডের কাগজকল বছরে প্রায় ৮০,০০০ টন কাগজ উৎপাদন করে। কামরূপের
পানিখাইতিতে একটি হার্ডবোর্ড প্রস্তুত করার কারখানাও আছে। সমতলের ধুবুড়িতে একটি
বড়ো এবং বিজনি, উত্তর গুয়াহাটিতে এক-একটি ছোটো দেশলাই তৈরির
কারখানা আছে। ব্রহ্মপুত্র উপত্যকায় প্রাপ্ত আগরু বা আগর বা সাঁচি গাছ থেকে দুর্লভ
সুগন্ধি অগরু নিষ্কাশন করা হয়। এই প্রকার গাছ গোলাঘাট ও জোড়হাট জেলায় পাওয়া
যায়। কিন্তু অগরু নিষ্কাশন করার জন্য এই গাছ কেটে মুম্বাইতে পাঠানো হয়।
স্থানীয়ভাবে একে ভিত্তি করে কোনো উদ্যোগ গড়ে ওঠে নি।
কৃষিজ দ্রব্যের ভিত্তিতে গড়ে ওঠা
কারখানাগুলোর মধ্যে কার্পাস সুতো তৈরি করার একটি কারখানা শোণিতপুর জেলার
চারিদুয়ারে এবং অন্য একটি কারখানা কামরূপ জেলার চন্দ্রপুরে আছে। শিলঘাটে একটি পাটের
কারখানা আছে। দেরগাঁওয়ের নিকটবর্তী বরুয়া বামুন গাঁওয়ে একটি মাঝারিও নগাঁও
জেলার কামপুরে একটি ক্ষুদ্র চিনির কারখানা আছে।
ব্রহ্মপুত্র উপত্যকার পূর্ব অংশের ডিগবয়, টেঙাখাত, দুলিয়াজান, নাহরকটিয়া, মরান, লাকুয়া, লংসাই, গেলেকি, আমগুড়ি, রুদ্রসাগর, বড়হোলা ইত্যাদি
অঞ্চলে খনিজ তেল এবং নাহরকটিয়া, মরাণ, রুদ্রসাগর, লাকুয়া ইত্যাদিতে তেল ছাড়াও প্রাকৃতিক
গ্যাস পাওয়া যায়। এই তৈলক্ষেত্রগুলো থেকে উত্তোলন করা তেল পাইপের মাধ্যমে
বিহারের বারাউনি শোধনাগারে পাঠানো ছাড়াও ব্রহ্মপুত্র সমতলের ডিগবয়, নুমলিগড়, নুনমাটি ও
বঙাইগাঁওয়ে পরিশোধন করে কেরোসিন, ডিজেল, পেট্রোল, মোম ইত্যাদি তৈরি করা হয়। এই ডিগবয়ের
শোধানাগারটি এশিয়ার প্রথম শোধনাগার। এখানে থেকে বছরে প্রায় ৩ লাখ টন পেট্রোল, ডিজেল ও কেরোসিন
উৎপাদিত হয়। নুনমাটি শোধনাগার থেকে বছরে প্রায় ১ নিযুত টন তৈলজ দ্রব্য উৎপাদন
করা হয়। নুমলিগড় ও বঙাইগাঁও শোধনাগার থেকে পেট্রোল, ডিজেল ইত্যাদি
ছাড়াও ন্যাথা, মেথানল, ফরমেলিন ইত্যাদি বিভিন্ন পেট্রো-রাসায়নিক
দ্রব্য প্রস্তুত করা হয়। এগুলো ছাড়াও ডিব্ৰুগড় জেলার নামরূপে অসম সরকার খনিজ
তেলের ভিত্তিতে ‘আসাম পেট্রোকেমিক্যালস লিমিটেড নামে। একটি
রাসায়নিক পণ্য প্রস্তুতকারী কারখানা স্থাপন করেছে। এখানে মেথানল, ফর্মেলিন, পেট্রোলাইট
ইত্যাদি তৈরি করা হয়। এই নামরূপে ভারতীয় সার নিগমের একটি কারখানা আছে। এখানে
প্রাকৃতিক গ্যাসকে এক কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহার করে সার উৎপাদন করা হয়। তৈল
শোধনাগার থেকে উৎপাদিত এক প্রকার দ্রব্য দিয়ে কৃত্রিম সুতো তৈরি করা হয় এবং তা
দিয়ে বস্ত্র নির্মাণের জন্য কামরূপ, নাবাড়ি ও বঙাইগাঁও জেলায় কয়েকটি কারখানা
গড়ে উঠেছে। এগুলোর মধ্যে রঙিয়ার নিকটবর্তী তুলসীবাড়িতে অ্যাপোল (APOL) বস্ত্র কারখানা
প্রধান। নলবাড়ি জেলার নাথকুচি ও দরং জেলার বিজুলিবাড়িতে এধরনের কৃত্রিম সুতোর
বস্ত্র তৈরির কারখানা আছে। খনিজ তেল থেকে রন্ধন গ্যাসও প্রস্তুত করা হয় এবং এগুলো
বাড়ি বাড়িতে সরবরাহ করার জন্য সিলিন্ডারে ভর্তি করা হয়। এভাবে সিলিন্ডারে রন্ধন
গ্যাস ভর্তি করার কারখানা (Bottling Plant) দুলিয়াজান ও উত্তর গুয়াহাটিতে স্থাপন করা
হয়েছে।
ব্ৰহ্মপুত্ৰ সমতলের প্রায় প্রতিটি বড়ো নগরে
প্লাস্টিক থেকে বস্তা, ব্যাগ, বিভিন্ন প্রকার বয়াম, কভার ইত্যাদি
প্রয়োজনীয় সামগ্রী তৈরি করার ছোটো-বড়ো কারখানা আছে। গুয়াহাটির আসাম কার্বন ও ইণ্ডিয়া
কার্বন নামের দুটি প্রতিষ্ঠান শোধনাগার থেকে কাঁচামাল নিয়ে বিভিন্ন প্রকারের
কার্বন ভিত্তিক ঔদ্যোগিক দ্রব্য তৈরি করে। সমতলের অন্যান্য শিল্প-উদ্যোগের মধ্যে
বঙাইগাঁওয়ের অ্যালুমিনিয়ামের সাজ-সরঞ্জাম, বাসন-কোসন তৈরি করা, গুয়াহাটির ওষুধ
ও প্রসাধন তৈরি করা, তিনসুকিয়া ও গুয়াহাটির লোহার রড, তার, পাইপ ইত্যাদি
তৈরি করার কারখানাই প্রধান। এগুলো ছাড়াও যানবাহন মেরামত করা ও কাঠ চেরাইয়ের
কারখানা প্রতিটি নগর শহর ও প্রধান জায়গায় (সেবা কেন্দ্রে) দেখা যায়।
Visit – www.smartlearningservice.com
পর্যটন উদ্যোগ :
পৃথিবীর অন্যান্য দেশের মতো অসমেও পর্যটন
উদ্যোগ গড়ে ওঠার প্রচুর সম্ভাবনা আছে। প্রথমত, নদনদী, পাহাড়-পর্বত, বন-জঙ্গল, বিল-জলাশয়, চর ইত্যাদিতে পরিপূর্ণ অসমে প্রচুর প্রাকৃতিক
সৌন্দর্যে ভরা স্থান আছে যেগুলো উপভােগ করার জন্য পর্যটক আসতে পারেন। এছাড়াও
অসমের শিলাময় নদী ও ক্রমান্বয়ে ঢালু পর্বতের ঢালে দুঃসাহসিক ক্রীড়ার সুবিধাও
আছে। দ্বিতীয়ত, অসমে কামাখ্যা, উমানন্দ, বশিষ্ঠাশ্রম, নবগ্রহ, হয়গ্রীব-মাধব, পােয়ামা ইত্যাদি পবিত্র তীর্থস্থান আছে, যে সব স্থানে
প্রচুর তীর্থ যাত্রীর আগমন হতে পারে। তৃতীয়ত, অসমের গুয়াহাটি, শ্রীসূর্য, তেজপুর, দুয়রনি, শিবসাগর ইত্যাদি
স্থানে প্রাচীন ও মধ্যযুগের মঠ-মন্দির, প্রত্নতাত্ত্বিক ভগ্নাবশেষ ইত্যাদি আছে। এই
স্থানগুলোতেও অনুসন্ধিৎসু ব্যক্তি, গবেষক, ইতিহাসবিদ প্রমুখেরা আসতে পারেন। চতুর্থত, প্রাকৃতিক
সম্পদে সমৃদ্ধ বলে অসমে পাঁচটি রাষ্ট্রীয় উদ্যান, ১৭ টি অভয়ারণ্য ও প্রচুর সংরক্ষিত বনাঞ্চল
আছে। এগুলোতে গন্ডার, হলৌ বাঁদর, দেওহাঁস, নল শুয়োর, শিশু ইত্যাদি অনেক অমূল্য জীব-জন্তু ও
গাছপালা পাওয়া যায়। এগুলোও দেখার জন্য প্রচুর পর্যটক আসতে পারেন। পঞ্চমত, অসম অসংখ্য
জনগোষ্ঠীর বাসভূমি। এই জনগোষ্ঠীগুলোর প্রতিটিরই নিজস্ব সমৃদ্ধ পরম্পরাগত
কলা-সংস্কৃতি, সংগীত-নৃত্য-অভিনয় ইত্যাদি আছে। এগুলোও
দেখার জন্য, উপভােগ ও অধ্যয়ন করার জন্য অনেক পর্যটক অসমে
আসতে পারেন।
এই সব তথ্যের পরিপ্রেক্ষিতে অসমে যদি হোটেল, মোটেল, অতিথিশালা
ইত্যাদি তৈরি করা হয়, যাতায়ত ও পরিবহন ব্যবস্থাকে উন্নত করা হয়
এবং নৃত্য-গীত, দৃশ্যমান শিল্প কলা ইত্যাদি পরিবেশনের জন্য
উন্নত মানের প্রেক্ষাগৃহ স্থাপন করা হয়, এবং প্রদর্শনী, মেলা এবং উৎসব ইত্যাদির আয়োজন করা হয়, তবে অসমে পর্যটন
উদ্যোগের দ্রুত উন্নতি হবে বলে আশা করা যায়।
সেবা/অসম দশম শ্রেণী সমাজ
বিজ্ঞান
অসমের
আঞ্চলিক ভূগোল - ব্রহ্মপুত্র সমতল
পরিচয় ও ভূ-প্রকৃতি , উত্তর ও দক্ষিণ পারের
প্রধান উপনদী, পৃথিবীর বৃহত্তম নদীদ্বীপ, বনজ সম্পদ, বন-জঙ্গল ও বন্যপ্রাণী, রাষ্ট্রীয় উদ্যান, সংরক্ষিত বন, ও অভয়ারণ্য, কৃষি, শিল্প-উদ্যোগ, পর্যটন উদ্যোগ
SEBA/ASSAM
CLASS 10 SOCIAL SCIENCES
Visit – www.smartlearningservice.com
*****************






0 Comments
HELLO VIEWERS, PLEASE SEND YOUR COMMENTS AND SUGGESTION ON THE POST AND SHARE THE POST TO YOUR FRIEND CIRCLE.