SEBA/SMEBA
CLASS 9 HISTORY CHAPTER -5
THE BEGINNING OF BRITISH RULE
IN
ASSAM
QUESTIONS & ANSWERS
অধ্যায় 5 : অসমে
ব্রিটিশ শাসনের সূচনা
প্রশ্ন এবং উত্তর
ছোট প্রশ্ন এবং উত্তর
Q.1. অসমে আহোমরা কত বছর রাজত্ব করে? আহোম রাজবংশের প্রতিষ্ঠাতা কে ছিলেন?
ANS:- অসমে 1228 সাল থেকে 1826 সাল পর্যন্ত প্রায় 600 বছর আহোমরা রাজত্ব করে। আহোম রাজবংশের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন চুকাফা।
Q.2. মানের আক্রমণের সময় কাছাড়ের রাজা কে ছিলেন?
ANS:- মানের আক্রমণের সময় কাছাড়ের রাজা ছিলেন গোবিন্দ চন্দ্র।
Q.3. কখন/কোন সময়ে
রবার্টসন অসমে কমিশনার ছিলেন?
ANS:- রবার্টসন 1832 থেকে 1834 সাল পর্যন্ত অসমে কমিশনার ছিলেন।
Q.4. কার আমলে উজান অসমে আহোম রাজার
শাসন ব্যবস্থা পুনরায় প্রতিষ্ঠিত হয়?
ANS:- রবার্টসনের আমলে উজান অসমে আহোম রাজার শাসন ব্যবস্থা পুনরায় প্রতিষ্ঠিত হয়।
Q.5. 1834 সালে অসমে রবার্টসনের জায়গায় কে গভর্নর জেনারেলের এজেন্ট হিসাবে নিযুক্ত হন?
ANS:- 1834 সালে রবার্টসনের জায়গায় মেজর জেনকিনস গভর্নর জেনারেলের এজেন্ট হিসাবে নিযুক্ত হন।
Q.6. অসমে ধারাবাহিকভাবে কয়টি
ব্রিটিশ বিরোধী বিদ্রোহ সংঘটিত হয়েছিল?
ANS:- অসমে ধারাবাহিকভাবে তিনটি ব্রিটিশ বিরোধী বিদ্রোহ সংঘটিত হয়েছিল।
Q.7. কে গুমধর কুয়রসহ
বিদ্রোহীদেরকে সাত বছরের সাজা দিয়ে বাংলাদেশের রংপুর জেলে পাঠান?
ANS:- ব্রিটিশ কমিশনার ডেভিড স্কট।
Q.8. কোন সালে শদিয়াখোয়া গোহাইয়ের মৃত্যু হয়?
ANS:- 1835 সালে শদিয়াখোয়া গোহাইয়ের মৃত্যু হয়।
Q.9. কাকে কখন শদিয়ায় খামতিদের
শাসন ভার সঁপে দেওয়া হয়?
ANS:- 1826 সালের চুক্তি অনুসারে শদিয়াখোয়া গোহাইকে শদিয়ায় খামতিদের শাসন ভার সঁপে দেওয়া হয়।
Q.10. খামতিরা শদিয়ায় ব্রিটিশ
পলিটিক্যাল এজেন্টকে কেন হত্যা করে?
ANS:- খামতিরা মটক রাজ্যের একখন্ড ভূমি দাবি করা নিয়ে দু'দলের মধ্যে বিরোধ বাধে। ব্রিটিশরা খামতি রাজ্য নিজের অধীনে নিয়ে যায়। খামতিরা শদিয়ায় ব্রিটিশ পলিটিক্যাল এজেন্টকে হত্যা করে।
Q.11. কোথায় চিংফৌদের রাজ্য ছিল?
ANS:- নদিহিং ( নতুন দিহিং ) এবং টেঙাপানি নদীর মধ্যেকার সমভূমি অঞ্চলে চিংফৌদের রাজ্য ছিল।
Q.12. কারা ধনঞ্জয় পিয়লি ফুকনের
সহযোগী ছিলেন?
ANS:- ধনঞ্জয় পিয়লি ফুকনের সহযোগী ছিলেন পুত্র হরনাথ, জামাতা জিওরাম দুলিয়া বড়ুয়া, বদনচন্দ্র বরফুকন, পুত্র পিয়লি ফুকন, রূপচাঁদ কুমার, দেওরাম দিহিঙ্গিয়া বড়ুয়া এবং বৌম চিংফৌ।
Q.13. পিয়লি ফুকন, জিওরাম দুলিয়াদের বিচারক কে ছিলেন?
ANS:- পিয়লি ফুকন, জিওরাম দুলিয়াদের বিচারক ছিলেন উজান অসমের পলিটিক্যাল এজেন্ট নিউভিল।
Q.14. কখন ও কোন অপরাধে পিয়লি ফুকন
ও জিওরাম দুলিয়াবড়ুয়ার ফাঁসি হয়?
ANS:- চেরাপুঞ্জিতে স্থিত কমিশনারের আদালতের রায়ের মাধ্যমে 1830 সালের আগস্ট মাসে শিবসাগরের পুকুরপাড়ে পিয়লি ফুকন ও জিওরাম দুলিয়াবড়ুয়ার ফাঁসি হয়। তাদের অপরাধ ছিল সরকারি খারঘরে আগুন দিয়ে বিদ্রোহ শুরু করা।
Q.15. কারা গুমধর কুয়রকে সমর্থন করেছিলেন?
ANS:- গুমধর কুয়রকে সমর্থন করেছিলেন ধনঞ্জয় পিয়লি বরগোহাই, হরনাথ ও জিওরাম।
Q.16. তিরৎ সিং কে ছিলেন?
ANS:- তিরৎ সিং খাসি পাহাড় অঞ্চলের শাসনকর্তা ছিলেন। খাসি পাহাড়ের মধ্য দিয়ে সুরমা উপত্যকার সঙ্গে যোগসূত্র স্থাপনের জন্য তিনি রানী থেকে নংখৌর মধ্য দিয়ে একটি পথ নির্মাণের জন্য ব্রিটিশকে অনুমতি দেন।
Q.17. কিভাবে খাসি পাহাড় ব্রিটিশের হাতে চলে যায়?
ANS:- 1833 সালে তিরৎ সিং ব্রিটিশ এর হাতে যুদ্ধে পরাস্ত হলে খাসি পাহাড় ব্রিটিশের হাতে চলে যায়। এই যুদ্ধ শুরু হয়েছিল 1829 সালে।
Q.18. চিংফৌদের মুরব্বিকে কি বলা হত?
ANS:- চিংফৌদের মুরব্বিকে গাম বলা হত।
Q.19. কিভাবে জয়ন্তিয়া রাজ্য ব্রিটিশের হাতে চলে যায়?
ANS:- 1835 সালে জয়ন্তিয়া রাজা রাজেন্দ্র সিংহকে পরাস্ত করে ক্যাপ্টেন লিস্টার জয়ন্তিয়া রাজ্য দখল করে। রাজেন্দ্র সিংহকে সিলেটে নির্বাসন দেওয়া হয়।
Q.20. কোথায়
গোভা রাজ্য ছিল?
ANS:- নগাওয়ের পশ্চিমে জয়ন্তিয়া রাজ্যের অধীনে গোভা রাজ্য ছিল।
Q.21. কে কখন তিনজন ব্রিটিশ লোককে
কালিমাতার সামনে বলি দেন?
ANS:- 1832 সালে তিনজন ব্রিটিশ লোককে গোভা রাজ্যের শাসনকর্তা কালিমাতার সামনে বলি দেন।
Q.22. কখন কাছাড়ের রাজা গোবিন্দ চন্দ্রের মৃত্যু হয়?
ANS:- 1830 সালে কাছাড়ের রাজা গোবিন্দ চন্দ্রের মৃত্যু হয়।
Q.23. কখন নাগা পাহাড় ব্রিটিশের শাসনে যায়?
ANS:- 1866 সালে নাগা পাহাড় ব্রিটিশের শাসনে যায়।
Q.24. কখন গারো পাহাড় ব্রিটিশের দখলে যায়? কোথায় গারো
পাহাড়ের সদরস্থান ছিল?
ANS:- 1839 সালে গারো পাহাড়কে ব্রিটিশ নিজের দখলে নেয়। গারো পাহাড় কে একটি নতুন জেলা করা হয় ও তার সদরস্থান ছিল তুরা।
Q.25. কখন লুসাই পাহাড় ব্রিটিশের দখলে যায়?
ANS:- 1898 সালে লুসাই পাহাড় (মিজোদের পাহাড়) ব্রিটিশরা অসমে শামিল করে।
Q.26. কোন সালে ডেভিড স্কটের মৃত্যু হয়? ডেভিড স্কটের মৃত্যুর পর অসমের পরবর্তী
কমিশনার কারা ছিলেন?
ANS:- 1831 সালে ডেভিড স্কুটের মৃত্যু হয়। তার মৃত্যু হওয়ায় ক্রেব্রুকট এবং পরবর্তীতে রবার্টসন অসমের স্থায়ী কমিশনার হন।
Q.27. নিম্ন অসমে গা - কর কি ছিল? কামরূপ ও
দরঙ্গে এই করকে কি বলা হত?
ANS:- নিম্ন অসমে প্রত্যেক পাইককে তিন পুরা পরিমাণ চাষের জমি দিয়ে 2 টাকা করে খাজনা আদায় করা হয়েছিল। এই জমিকে “গাজমি” জমি এবং এর খাজনা কে গা - কর বলা হতো। এই কর কামরূপে পাইক কর, দরঙ্গে জোহাল কর বা চরু কর বলা হত।
Q.28. কে কার তত্ত্বাবধানে নিম্ন
অঞ্চলের জমি জরিপ করেছিলেন? এই জমি কয় ভাগে ভাগ করা হয়েছিল ও কি কি?
ANS:- ডেভিড স্কট ক্যাপ্টেন ম্যাথিউসের তত্ত্বাবধানে নিম্ন অঞ্চলের জমি জরিপ করে তিন ভাগে ভাগ করেছিলেন:-
Ø বস্তি অঞ্চল,
Ø রুপন করা তথা শালিকৃষি অঞ্চল এবং
Ø বাসযোগ্য তথা অন্য ধান, সরিষা ইত্যাদি চাষের জমি।
Q.29. ডেভিড স্কটের সামরিক ব্যবস্থার
পরিবর্তনসমূহ উল্লেখ কর।
ANS:- ডেভিড স্কটের সামরিক ব্যবস্থার পরিবর্তন::-
Ø 1826 সালে কোম্পানির নিজস্ব সেনা বঙ্গ দেশে ফিরিয়ে যায়।
Ø স্কোট “আসাম লাইট ইনফ্যান্ট্রি” নামক সামরিক বাহিনী গঠন করেন।
Ø হিন্দুস্থানী , গোর্খা, মনিপুরী ও স্থানীয় লোক নিয়ে গঠিত এই বাহিনীর একটি অংশ বিশ্বনাথে এবং অপরটি অংশ সদিয়াতে রাখা হয়েছিল।
Q.30. প্রকৃতপক্ষে ইষ্ট ইন্ডিয়া
কোম্পানি অসমে কেন এসেছিল?
ANS:- প্রকৃতপক্ষে ইষ্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি অসমে এসে নিজের ঘাঁটি গেড়ে তাদের অধিকৃত অঞ্চলকে সুরক্ষিত করার লক্ষ্যে এসেছিল।
Q.31. গৌহাটি থেকে প্রচারিত ইস্ট
ইন্ডিয়া কোম্পানির ঘোষণাপত্রটিতে কি কি উল্লেখ ছিল লেখ।
ANS:- গৌহাটি থেকে প্রচারিত ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ঘোষণাপত্র:-
Ø ইংরেজরা অসমে উপনিবেশ স্থাপন করতে আসেনি এসেছে অত্যাচারী বরমীদের হাত থেকে অসমকে রক্ষা করতে।
Ø মানরা সরে গেলে এবং অসমে বর্মি আক্রমণ বাধা দিতে পারে এমন সুস্থির সরকার গঠন হলে কোম্পানি অসন ছেড়ে চলে যাবে।
Ø ইংরেজ অসমীয়া দেরকে তাদের সহযোগিতা করতে আহ্বান জানায়।
Q.32. কার নেতৃত্বে প্রথম ইস্ট
ইন্ডিয়া কোম্পানির দলটি অসমের গৌহাটিতে উপস্থিত হয়েছিল?
ANS:- কর্নেল রিচার্ডসনের নেতৃত্বে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির দলটি প্রথমে অসমের গৌহাটিতে উপস্থিত হয়।
বড় প্রশ্ন এবং উত্তর
Q.1. ডেভিড স্কট সম্পর্কে একটি সংক্ষিপ্ত টীকা লেখ।
ANS:- ডেভিড স্কট ছিলেন ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির এজেন্ট। তিনি গোয়ালপাড়া ও গৌহাটির
মধ্যে অধিকাংশ দখল করেছিলেন। প্রথম ইঙ্গ বরমী যুদ্ধে চট্টগ্রাম ও শ্রীহট্ট
ও সীমান্ত দিয়ে মণিপুর রাজ্যের মধ্যে দিয়ে এগিয়ে যাওয়া বাহিনীর নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। 1860 সালে গোরখপুরে একজন রেজিষ্ট্রার হিসাবে যোগদান করে বঙ্গদেশের কয়েকটি জেলার বিচারক তথা কালেক্টর হয়েছিলেন। 1820 সালের নভেম্বর মাসে উত্তরে সিকিম দক্ষিনে কাছাড় ও সিলেট
থেকে সমগ্র উত্তর-পূর্বাঞ্চলের
দায়িত্বভার নিয়েছিলেন গভর্নর জেনারেলের এজেন্ট হিসাবে।
Q.2. ডেভিড স্কটের সময় অসমের
প্রশাসন কিরুপ ছিল উল্লেখ কর।
ANS:- ডেভিড স্কট ও অসমের প্রশাসন:-
Ø সুদক্ষ, বিচক্ষণ ও দূরদর্শী শাসক ছিলেন।
Ø প্রশাসনিক সুবিধার জন্য অসম কে উজান অসম ও নিম্ন অসম এই দুই ভাগে ভাগ করেন।
Ø 1828 সালে উজান অসমের দেখাশোনার জন্য ক্যাপটেন নিউভিলকে “সহকারি পদে নিযুক্তি দেন এবং নিম্ন অসমের জন্য ছিলেন ক্যাপ্টেন অ্যাডাম হুয়াইট।
Ø আহোম আধিকারিকদের কিছু প্রশাসনিক ভার দিয়েছিলেন। কিন্তু তারা আগ্রহী না থাকায় বঙ্গদেশ থেকে প্রশাসনের জন্য কর্মচারী এনেছিলেন।
Q.3. ডেভিড স্কটের সময় অসমের রাজস্ব
ব্যবস্থার সংস্কার কিরুপ হয়েছিল উল্লেখ কর।
ANS:- ডেভিড স্কটের রাজস্ব ব্যবস্থার সংস্কার :-
·
মূলধন সংগ্রহের জন্য অসমের লোকজনের উপর নতুন নতুন কর আরোপ।
·
পাইক প্রথা উঠিয়ে জন প্রতি তিন টাকা হারে খাজনা আদায়।
·
জনার্দন বরবড়ুয়া নামের একজন আহোম আধিকারিককে রাজস্ব সংগ্রহের দায়িত্ব দেওয়া হয়। তাঁকে হাজারিকা শইকীয়া ও বড়ুয়া পদবিধারী আধিকারিকরা সহায়তা করেছিলেন।
·
ক্ষেত্র আধিকারিকদের জায়গার উপর ভিত্তি করে কর সংগ্রহের নিয়ম করা হলো।
·
এক একটি জেলা কয়েকটি মৌজায় ভাগ করে এক একজন আধিকারিক (মৌজাদার)কর সংগ্রহের দায়িত্ব দেওয়া হলো।
·
নিম্ন এবং উজান অসমের ক্ষেত্রে পৃথক রাজস্ব ব্যবস্থা ছিল।
·
কর সংগ্রহের জন্য গৌহাটিতে একটি পৃথক কেন্দ্র স্থাপন করা হয়।
·
জমির খাজনা ছাড়াও পৃথক পৃথক বৃত্তির উপর আর্থিক কর চাপিয়েছিলেন ডেভিড স্কট।
·
চাদা নামে দেবোত্তর ব্রহ্মোত্তর ও ধর্মত্তর জমির উপর ডেভিড স্কট খাজানা নিরূপণ করেন এতে করের পরিমাণ ছিল জমির আধা অংশ।
·
ক্যাপটেন ম্যাথুজের তত্ত্বাবধানে ডেভিড স্কট নিম্ন অসমে জমি জরিপ করেন ও জমিগুলিকে তিন ভাগে ভাগ করে করের ব্যবস্থা করেন।
·
নিম্ন অসমে চৌধুরীদের পরগনা ছিল। ডেভিড স্কট সেরেস্তাদার, তহবিলদার, পাটোয়ারী, ঠাকুরিয়া ইত্যাদি খাজানা সংগ্রহকারী কর্মচারী নিয়োগ করেন।
Q.4. ডেভিড স্কটের সময় অসমের বিচার ব্যবস্থার সংস্কার কিরুপ হয়েছিল উল্লেখ কর।
ANS:- ডেভিড স্কট ও অসমের বিচার ব্যবস্থার সংস্কার:-
·
স্থানীয় সাধারণ দেওয়ানি ও ফৌজদারি মামলাগুলো নিষ্পত্তির জন্য স্থানীয় লোক নিয়ে পঞ্চায়েত গঠন করা হয়।
·
গুরুতর অপরাধ গুলি কমিশনারের সরকারি আধিকারিকরা পঞ্চায়েতের সহায়তায় বিচার করে ছিলেন।
·
পঞ্চায়েতের বিচারে সন্তুষ্ট না হলে আধিকারিকদের কাছে আপিল করার ব্যবস্থা ছিল। এরপরও সন্তুষ্ট না হলে কমিশনারের কাছে আপিল করতে পারতেন তিনি রায় দিতেন।
·
স্কট লম্বোদর বরফুকন কে উজান অসমের দেওয়ানী বিচারের ভার দিয়েছিলেন।
·
ফৌজদারি মামলাগুলো নিষ্পত্তি করতে ব্রিটিশ আধিকারিকরা।
·
নিম্নঅসমে দেওয়ানী মামলার জন্য একটি আদালত ছিল।
·
স্কট পুলিশ বিভাগের ব্যবস্থা কে গঠন করেছিলেন।
Q.5. রবার্টসনের সময় অসমের রাজস্ব
ব্যবস্থার সংস্কার/সংশোধন কিরুপ হয়েছিল উল্লেখ কর।
ANS:- রবার্টসন ও অসমের রাজস্ব ব্যবস্থার সংশোধন:-
Ø জমির গুনাগুন নির্ধারণ করে খাজনার নিরিখ ধার্য করেন।
Ø খাজনা সংগ্রহের বন্ধ করতে জমির পরিমাণ, কৃষকের নাম ঠিকানা ইত্যাদি লিপিবদ্ধ করার প্রথা প্রচলন করেন।
Ø খাজনার পরিমাণ অনুসারে কৃষকের নাম সহ পাত্তা দেওয়ার নিয়ম করেন।
Ø গৃহকর, কোদাল কর, লাঙ্গল কর বা মাথাপিছু কর একই রাখা হয়।
Ø জমি ঘরবাড়ি ও অরণ্য অঞ্চল এর তথ্য সংগ্রহ করে রাজস্ব কর্মচারীর দুর্নীতি রোধ করা হয়।
Ø রায়তকে পাট্টা ও রাজস্ব দানের রসিদ দেওয়ার ব্যবস্থা হয়।
Ø রাজস্ব কর্মচারীরা ছোটখাটো মামলা দায়ের করলেও তারা কালেক্টরকে না জানিয়ে জরিমানা বা শাস্তি দিতে পারতেন না। ফলে রাজকোষে অর্থের পরিমাণ বাড়ে।
Q.6. রবার্টসনের সময় অসমের
প্রশাসনিক ব্যবস্থার সংস্কার/সংশোধন কিরুপ হয়েছিল উল্লেখ কর।
ANS:- রবার্টসন ও অসমের প্রশাসনিক সংস্কার:-
·
অসমে পাঁচটি জেলা স্থাপন করে সরকারি কর্মকর্তাকে কালেক্টর ও বিচারকের দায়িত্ব দেওয়া হয়।
·
ন্যায়বিচারের জন্য জেলায় প্রধান সহকারী কর্মকর্তার আদালত মুন্সেফ আদালত এবং পঞ্চায়েত আদালতের ব্যবস্থা করা হয়।
·
ফৌজদারি মামলার প্রধান সহকারি কর্মকর্তা জুরির সাহায্যে বিচার করতেন।
·
গুরুতর মামলার রায় কমিশনারকে অবগত করার নিয়ম করা হয়।
·
বিশ্বনাথ, চারীদুয়ার, নগাও ও নদুয়ায় এ আদালত স্থাপন করা হয়।
Q.7. মেজর জেনকিনসের ভূমিকা তথা
কল্যাণ মূলক নীতিগুলো উল্লেখ কর।
ANS:- মেজর জেনকিনসের ভূমিকা তথা কল্যাণ মূলক নীতি:-
Ø 1834 সালে গভর্নরের এজেন্ট নিযুক্ত হওয়ার পূর্বে 1831 সালে পেমবাবাটনের সঙ্গে মিলে কাছাড়, মণিপুর ও অসম জরিপ করেছিলেন।
Ø অসমে চা-পাতা কয়লা ও তেল শিল্পের বিকাশের সঙ্গে জড়িত ছিলেন।
Ø স্কট ব্যবসায় প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি করা সীমান্ত চৌকি (কান্দাহার) তুলে নিয়েছিলেন জেনকিনস অন্যান্য সব চৌকি তুলে দেন।
Ø জেনকিনস এর প্রচেষ্টায় ব্রহ্মপুত্র নদে প্রথম বাষ্প চালিত জাহাজ এর প্রচলন হয়েছিল।
Ø গুয়াহাটি এবং শিবসাগরে ইংরেজি মাধ্যমের বিদ্যালয় স্থাপন করেছিলেন।
Ø অসমে বঙ্গদেশের আমলা নিযুক্তির প্রতিবাদ করেছিলেন।
Ø “এশিয়াটিক সোসাইটি অফ বেঙ্গল” নামের সাময়িকপত্রে অসম সম্পর্কে বেশ কয়েকটি প্রবন্ধ লিখেছিলেন।
Q.8. মেজর জেনকিনসের সময় অসমের রাজস্ব ব্যবস্থার সংস্কার/সংশোধন কিরুপ হয়েছিল উল্লেখ কর।
ANS:- মেজর জেনকিনসের রাজস্ব ব্যবস্থার সংস্কার:
·
মাথাপিছু করের বদলে ভূমি রাজস্ব ব্যবস্থার প্রবর্তন করেন। জমির খাজনা বৃদ্ধি করে অব্যবহৃত এবং আবাদি জমির উপর খাজনা ধার্য করেন।
·
নদী থেকে সোনা উপার্জনের ঠিকা দেওয়া হল।
·
নদী বিল খাল মাছ ধরার জন্য নিলামের ব্যবস্থা করেন।
·
গরু মহিষ চরানো মাঠ বাঁশ বেত মুগাকীটপতঙ্গ ও তার খাদ্য সোম গাছের উপর কর বসায়।
·
1858 সালে টিকট কর, 1860 সালে আয় কর আমদানি কর ও অনুজ্ঞা পত্র কর বসায়।
·
জেলা গুলিকে “টঙ্গনি” নামের কিছু রাজস্ব কেন্দ্রে ভাগ করে এক একজন ফুকন, রাজখোয়া ও বড়ুয়াকে দায়িত্ব দেওয়া হয়।
·
টঙ্গনির বদলে পরে মৌজার মজাদারকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল।
·
জোরহাটে বসবাসকারী সম্ভ্রান্ত শ্রেণির অসন্তোষ লোকেরা অসুবিধার সৃষ্টি করতে পারেন ভেবেই জেনকিনস জেলার সদর জোরহাট থেকে শিবসাগরের বদলি করেন। তার যুক্তি ছিল যাতায়াত ব্যবস্থা অনুন্নত ও বন্যা আক্রান্ত।
·
1843 সালে বন্দি মহিলা বা দাস প্রথা নিষিদ্ধ করেন যেটি ছিল জেনকিনস এর দর্শনীয় পদক্ষেপ।
·
কর পরিশোধ করতে না পারায় জেনকিন্স আহোম রাজ্য, মটকরাজ্য ও কছারিরাজ্য ব্রিটিশ সাম্রাজ্যে শামিল করেন।
·
আফিম চাষ বন্ধ করে একদিকে সরকারিভাবে আফিম বিক্রির মাধ্যমে রাজ ভান্ডার সমৃদ্ধ করেন এবং অন্যদিকে চা বাগানে শ্রমিকের অভাব পূর্ণ করেন।
Q.9. মেজর জেনকিনসের আফিম চাষ বন্ধে
উৎপন্ন সমস্যাগুলি কি কি উল্লেখ কর।
ANS:- মেজর জেনকিনসের আফিম চাষ বন্ধ উৎপন্ন সমস্যা:-
Ø আফিম চাষ বন্ধ করে সরকারি আফিম বিক্রি করার ব্যবস্থা করায় চাষীদের পথ বন্ধ হয়ে যায়।
Ø আফিম চাষিরা চা-বাগানে শ্রমিক হিসেবে কাজ করতে বাধ্য হয়েছিলেন।
Ø আফিমখোঁররা সর্কারি আফিম কিনতে বাধ্য এর নেশা অসমীয়াদেরকে শারীরিক ও মানসিকভাবে দুর্বল করে তুলল।
Ø কৃষিভিত্তিক অর্থনীতির অবনতি ঘটল অর্থ ধার দেওয়ার ব্যবস্থা শুরু হলো সুদখোর মহাজন আবির্ভাব হলো।
Ø অসমবাসির চেয়ে বিদেশী বণিকরা অধিক লাভম্বিত হয় এবং ফলস্বরূপ 1857 এর বিদ্রোহ ও পরে কৃষক বিদ্রোহ দেখা দেয়।
Q.10. ব্রহ্মপুত্র উপত্যকায় মেজর
জেনকিনস কিভাবে জিলা গঠন করেছিলেন বর্ণনা কর।
ANS:- ব্রহ্মপুত্র উপত্যকায় মেজর জেনকিনসের জিলা গঠন:-
প্রথম অবস্থা:-
Ø ব্রহ্মপুত্র উপত্যকায় চারটি জিলা ক্রমে গোয়ালপাড়া, কামরূপ, দরং ও নগাও ছিল। নগাওঁ কে খাগরিজান বলা হত। খাগরিজানের সদর স্থান ছিল নগাওঁ। পূর্বে ধনশিরি পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। 1834 সালে এই সদর স্থান রাঙ্গাগড়ে এবং পরে পুরনিগুদামে এবং আবার এরপরে নগাওঁ করা হয়।
Ø কামরূপ জেলার পচ্চিম সীমায় মানস, পূর্বে বরনদী ছিল এবং সদর ছিল গোয়াহাটি।
Ø দরং জেলার সদর ছিল মঙ্গলদৈ। 1834 সালে সদর স্থান তেজপুর করা হয়।
Ø গোয়ালপাড়ার সদর স্থান ছিল ধুবড়ী।
পরের অবস্থা:-
·
কাছাড় জেলা গঠন করা হয় ও তার সদর স্থান শিলচর করা হয়।
·
1836 সালে কাছাড়কে ঢাকা ডিভিশনের অধীনে নিয়ে যাওয়া হয়।
·
শিবসাগর ও লক্ষ্মীমপুর জেলা গঠন করা হয় এবং তাদের সদর ছিল ক্রমে জুরহাট ও লক্ষ্মীমপুর।
Q.11. আহোম রাজা পুরন্দর সিংহ ও
রবার্টসনের মধ্যে স্বাক্ষরিত চুক্তির স্বর্তগুলি বর্ণনা কর।
ANS:- আহোম রাজা পুরন্দর সিংহ ও রবার্টসনের মধ্যে স্বাক্ষরিত চুক্তি মতে রাজা কর হিসাবে বছরে 50 হাজার দিতে হতো। রাজা কর দিতে না পারায় তার রাজ্য ব্রিটিশের দখলে যায়। তার রাজ্যটি 2 টি জেলায় পরিণত হয়। এই দুইটি জেলা হল শিবসাগর এবং লক্ষীমপুর।
Q.12. প্রথম ব্রিটিশ বিরোধী
বিদ্রোহের কারণগুলি উল্লেখ কর।
ANS:- প্রথম ব্রিটিশ বিরোধী বিদ্রোহের কারণ:-
Ø আহোম সম্ভ্রান্ত শ্রেণীরা ভোগ করে আসা জমি-বাড়ি, পাইক, মান-মর্যাদা ও অন্যান্য সুবিধা হারায়।
Ø 1824 সালে অসমীয়াদেরকে দেওয়া ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির প্রতিশ্রুতি ভুয়া প্রমাণিত হয়।
Ø ইংরেজরা জাতপাতের ব্যবধান না রাখায় এবং লেখাপড়া জানা ও সাধারন জ্ঞান থাকা লোকদের কাজে নিযুক্তি দেওয়ায় অভিজাতরা অপমান বোধ করেন।
Ø আহোম সম্ভ্রান্ত লোকের সবাই কাজ বা পেনশন পেত না ও তাদেরকে অলস ও অদক্ষ বিবেচনা করা হতো।
Ø অসমীয়ারা খেত-খামার হারিয়ে কর্মহীন হয় এবং আর্থিক অবস্থার অবনতি ঘটে।
Ø বঙ্গ দেশ থেকে আমলা আনায় সম্ভ্রান্ত শ্রেণি অসন্তুষ্ট হয়েছিলেন।
Ø খাজনা ও কর বৃদ্ধি গায়েখাটার পরিবর্তে অর্থ দিতে বাধ্য প্রভৃতি সব শ্রেণীর মানুষকে শোচনীয় করে।
Ø ইংরেজ বিশ্বাসঘাতকতা করে অসমের স্বাধীনতা হরণ করে। স্বাধীনতা পুনরুদ্ধারের জন্য বিদ্রোহের নেতৃত্ব দেন অভিজাত শ্রেণীরা।
Q.13. ব্রিটিশের বিরুদ্ধে সংঘটিত
ধারাবাহিক তিনটি বিদ্রুহ কি কি ছিল উল্লেখ কর।
ANS:- ব্রিটিশের বিরুদ্ধে সংঘটিত ধারাবাহিক তিনটি বিদ্রুহ:-
·
অভিজাত দের স্বাধীনতা পুনরুদ্ধারের বিদ্রোহ।
·
গুমধর কুয়র, ধনঞ্জয় পিয়লি ফুকন, জিওরাম দুলিয়া বড়ুয়া প্রমুখ এর বিদ্রোহ।
·
গদাধর এর বিদ্রোহ।
Q.14. কিভাবে অসম ব্রিটিশের দখল যায় সংক্ষেপে বর্ণনা কর।
ANS:- ব্রিটিশের অসম দখল:
লর্ড বেন্টিংক কে দেওয়া প্রস্তাব অনুসারে 1833 সালে রবার্টসন পুরন্দর সিংহের সঙ্গে একটি চুক্তি স্বাক্ষরের মাধ্যমে 50 হাজার টাকা কর ধার্য করে মটক ও শদিয়া রাজ্য ছাড়া পুরন্দর সিংহকে উজান অসম শাসন করতে দেওয়া হয়। কিন্তু পুরন্দর সিংহের কুশাসন, দুর্নীতি এবং কর দিতে অসমর্থ অজুহাতে 1839 সালে পুরন্দর সিংহকে ক্ষমতাচ্যুত করে অসম রাজ্য সরাসরি ব্রিটিশের
অধীনে আনা হয়।
Q.15. কিভাবে মটক রাজ্য ব্রিটিশের দখল যায় সংক্ষেপে বর্ণনা কর।
ANS:- ব্রিটিশের মটক রাজ্য দখল:-
মুয়া মরিয়া বিদ্রোহের সমাধানকল্পে বুড়ি দিহিং ও ব্রহ্মপুত্র নদের মধ্যে অঞ্চল “মটক” রাজ্য রূপে স্বীকৃতি লাভ করে। রঙাগরা ছিল রাজধানী। 1826 সালের ইয়াণ্ডাবু চুক্তির পর এই মটক রাজাকে ব্রিটিশরা মটকের বরসেনাপতি পদে নিযুক্তি দেন। তার মৃত্যুর পর মাজু গোহাই রাজ্যের অধিপতি হন। ব্রিটিশরা মাজু গোহাইর কাছে রাজ্যের একাংশ সহ টাকা ও দাবি করে। দু'পক্ষের সংঘর্ষের ফলে মটক রাজ্য ব্রিটিশের দখলে যায়। মটক রাজাকে বছরে 7000 টাকা পেনশন দেওয়া হয়।
****************************


0 Comments
HELLO VIEWERS, PLEASE SEND YOUR COMMENTS AND SUGGESTION ON THE POST AND SHARE THE POST TO YOUR FRIEND CIRCLE.