ASSAM SEBA/SMEBA CLASS 8-10 BENGALI RAPID
READER
সেবা অসম দশম শ্রেনী বাংলা দ্রুত পঠন
বৈচিত্র্যপূর্ণ অসম
পাঠ – ১ : তিওয়াগণ
তিওয়াগণ
সংক্ষিপ্তসার :
‘তিওয়াদের
পরিচয়’ শীর্ষক প্রবন্ধে ত্রয়ী
লেখক যথাক্রমে ধনদা কাকতি, রিমল আমচি ও রূপান্তর
সেনাপতি তিওয়াদের প্রকৃত পরিচয়টি একবিংশ শতাব্দীর পাঠকের সম্মুখে উপস্থাপিত
করেছেন। কারণ একবিংশ শতকের দোড়গোড়ায় ‘তিওয়াদের পরিচয়’ প্রাসঙ্গিক
হয়ে দাড়িয়েছে। প্রাচীনকাল থেকেই বসবাস করে আসা একটি নৃগোষ্ঠী হল তিওয়া। ভাষিক
দিক দিয়ে তারা ইন্দো-চীনের অন্তর্গত তিব্বত-বর্মীয় ভাষা গোষ্ঠী পরিবারের বৃহত্তর
শাখা ‘বোড়ো’র
অন্তর্গত। বর্তমানে এই গোষ্ঠীর লোকেরা অসমের নগাঁও, মরিগাঁও, কামরূপ, কাৰ্বি
আংলং, জোরহাট, ধেমাজি, লখিমপুর, শদিয়া
ও মেঘালয় রাজ্যের কিছু অংশে বিশৃঙ্খলভাবে রয়েছে। তিওয়াদের সূক্ষ্মভাবে যদিও
দাতিঅলিয়া, পাহাড়িয়া ও থলোয়ালি -
এই তিনটি ভাগে বিভক্ত করা যায়, তবুও বর্তমানে পাহাড়ি ও
সমতলের বাসিন্দা হিসেবে দুটো ভাগে বিভক্ত করা হয়ে থাকে।
আসামের ইতিহাসের পাতায়
তিওয়াদের স্থান উল্লেখযোগ্য। তিওয়া বীর জোঙ্গাল বলহু প্রাক ঐতিহাসিক যুগের একজন
কিংবদন্তীমূলক রাজা। মধ্যযুগে গোভা, নেলী, খলা, চহরি
সহ বেশ কয়েকটি ছোট বড় রাজ্য তাদের নেতৃত্বে কপিলি উপত্যকায় গড়ে উঠেছিল।
তাছাড়া আহোমের রহা ও জগী চৌকির অধীনে ‘পাংচো রাজ্য’ ও
সাঁতো রাজ্য’ নামে বারোটি ক্ষুদ্র রাজ্য
সহ দমাল দন্দুয়া আদি রাজ্যের জন্ম হয়েছিল। ১৮৩৫ খ্রিঃ গোভা রাজা তিনজন ব্রিটিশকে
ধরে এনে কালীদেবীর সম্মুখে তাদের বলি দিলে, ইংরেজদের রোষে পড়ে তাকে
রাজ্য হারাতে হয়। ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনে তিওয়াদের বিশেষ অবদান রয়েছে। এমনকি
অসমের প্রথম কৃষক বিদ্রোহ ‘ফুলগুরি ধেঁয়া’-র জন্ম ও নেতৃত্ব দিয়েছিল
তিওয়ারা।
শব্দার্থ :
তিওয়া - বিশেষ জাতি বা
সম্প্রদায়। বৈষ্ণব
- বিষ্ণুর উপাসক। মিশন
- লক্ষ্য। কনফারেন্স
- সম্মেলন। অন্ধবিশ্বাস
- বিবেচনা না করে কোনো কিছু মেনে নেন। উপাধ্যক্ষ - অধ্যক্ষের সহকারী। রোষাগ্নি - তীব্র ক্রোধ বা
রোষানল। পূর্বপুরুষ
- বংশের উর্ধ্ব পরুষ। মুরব্বি
- বড়ো/প্রধান মাতব্বর। শৈববাদ
- শৈবধর্মে বিশ্বাসী। নব বৈষ্ণববাদ - নতুন
বৈষ্ণবধর্মে বিশ্বাসী।
অতি সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন
Q.1 প্রাচীনকাল থেকে অসমে বসবাস
করে আসা নৃগোষ্ঠীর নাম কী?
ANS:- তিওয়া।
Q.2 তিওয়া’ জনগোষ্ঠীকে
কয়টি ভাগে ভাগ করা হয়েছে?
ANS:- তিনটি।
Q.3 প্রাক ঐতিহাসিকযুগে অসমের
কিংবদন্তীমূলক রাজার নাম কী?
ANS:- তিওয়া বীর
জোঙাল বলহু।
Q.4 কত খ্রিস্টাব্দে গোভা রাজা
তিনজন ব্রিটিশকে ধরে এনে কালীদেবীর সম্মুখে তাদের বলি দিয়েছিলেন?
ANS:- ১৮৩৫
খ্রিষ্টাব্দে।
Q.5 অসমের প্রথম কৃষক বিদ্রোহ ‘ফুলগুড়ি
ধেঁয়া’র জন্ম ও নেতৃত্ব দিয়েছিল
কারা?
ANS:- তিওয়ারা।
Q.6 ১৯৪২ র গণ আন্দোলনে তিওয়া
জনজাতির মধ্যে কোন ব্যক্তি শহিদ হয়েছিলেন?
ANS:- হেমরাম
পাটর।
Q.7 দুই বা ততোধিক পরিবার একত্রিত
হয়ে কী তৈরি হয়?
ANS:- একটি
মাহারি।
Q.8 কয়েকটি মাহারি একত্রিত হয়ে
কী তৈরি হয়?
ANS:- একটি কুল বা
খুটা।
Q.9 একাধিক কুল মিলে কী তৈরি হয়?
ANS:- একটি খেল।
Q.10 একাধিক খেল মিলে কী তৈরি হয়?
ANS:- একটি
গ্রাম।।
Q.11 খেলের প্রশাসনিক ও সামাজিক
মুরব্বিকে সমতলে কী বলা হয়?
ANS:- ‘জেলা’ বলা
হয়।
Q.12 পাহাড়ে একটি পিনুঙের (খেলের
সমকক্ষ) মুরব্বিকে কী বলা হয়?
ANS:- লর।
Q.13 ‘হারি কুঁয়রি’
কোন সমাজের এক সম্মানীয় ও মর্যাদাপূর্ণ পদবির নাম?
ANS:- তিওয়া সমাজের।
Q.14 পাহাড়ের প্রতিটি পরিবারের
মুরব্বিকে ‘জেলা’ বলার
পাশাপাশি বাসগৃহকে কী বলে অভিহিত করা হয়?
ANS:- নবার।
Q.15 তিওয়াদের সাংস্কৃতিক
প্রাণকেন্দ্রগুলিকে কী নামে অভিহিত করা হয়?
ANS:- ‘চামাদি’ বা ‘ডেকাচাং’।
Q.16 ধার্মিক দিক দিয়ে তিওয়ারা
মূলত কোন্ মতবাদে বিশ্বাসী?
ANS:- জড়বাদী।
Q.17 অসমের পাহাড়ি অঞ্চলগুলোতে কোন
শতাব্দী থেকে খ্রিস্টধর্ম প্রসার লাভ করে?
ANS:- বিংশ
শতাব্দী।
Q.18 প্রাচীন অর্থনীতির জীবন্ত দলিল
কোনটি?
ANS:- জোনবিল
মেলাটি।
Q.19 তিওয়ারা কী ধরনের বস্ত্র
পরিধান করে?
ANS:- ফুল আঁকা
বস্ত্র।
Q.20 বিশেষভাবে প্রস্তুত করা
তিওয়াদের পানীয়কে কী বলে?
ANS:- ‘জ্য’ বলে।
Q.21 বলাইরাম সেনাপতি কে?
ANS:- অসম
সাহিত্য-সংস্কৃতির জগতের একজন সুপ্রতিষ্ঠিত লেখক ও সংস্কৃতি সাধক।
Q.22 কত খ্রিস্টাব্দে বলাইরাম
সেনাপতির জন্ম?
ANS:- ১৯৩১ সালের
৩ মার্চ।
Q.23 ইন্দ্রসিং দেউরি কে ছিলেন?
ANS:- তিওয়া
জাতীয় জীবনের একজন কাণ্ডারি স্বরূপ।
Q.24 ইন্দ্ৰসিং দেউরি কত
খ্রিস্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন?
ANS:- ১৯৩২ সালে।
Q.25 কত খ্রিস্টাব্দে ইন্দ্ৰসিং
দেউরি প্রথমবারের জন্য কাৰ্বি আংলং স্বায়ত্ব শাসিত পরিষদের সাধারণ সদস্য হিসেবে মনোনীত
হন?
ANS:- ১৯৭৬ সালে।
Q.26 তিওয়াদের কয়টি ভাগে ভাগ করা
যায়? ভাগগুলো কী কী?
ANS:- তিনটি ভাগে
তিওয়াদের ভাগ করা যায়। ভাগগুলো হলো- দাতিঅলিয়া, পাহাড়িয়া
ও থলোয়ারি ইত্যাদি।
Q.27 তিওয়াদের প্রাচীন অর্থনীতির
জীবন্ত দলিল কোনটি? তিওয়া সমাজের গঠনটি কোথা থেকে
আরম্ভ হয়?
ANS:- জোনবিল
মেলাটি। পরিবার থেকে আরম্ভ হয়।
Q.28 ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনে
কাদের অবদান রয়েছে? কারা অসমের প্রথম কৃষক বিদ্রোহ
‘ফুলগুরি ধেয়া’র জন্ম ও নেতৃত্ব দিয়েছিল?
ANS:- তিওয়াদের।
তিওয়ারা।
Q.29 কত খ্রিস্টাব্দে তিনজন
ব্রিটিশকে কালীদেবীর সম্মুখে বলি দেওয়া হয়েছিল? তার ফলে তিওয়াদের কী হয়েছিল?
ANS:- ১৮৩৫
খ্রিস্টাব্দে। রাজ্য হারাতে হয়েছিল।
Q.30 ‘মাহারি’ কীভাবে
তৈরি হয়? কুল বা খুটা কী?
ANS:- একাধিক
পরিবার একত্রিত হয়ে একটি মাহারি তৈরি হয় এবং কয়েকটি মাহারি একত্রিত হয়ে একটি
কুল বা খুটা তৈরি হয়।
Q.31 খেল কাকে বলে? একাধিক
খেল মিলে কী তৈরি হয়?
ANS:- একাধিক কুল
মিলে একটি খেল তৈরি হয় এবং এক বা অধিক খেল মিলে একটি গ্রাম তৈরি হয়।
Q.32 খেলের প্রশাসনিক ও সামাজিক
মুরব্বিকে সমতলে কী বলা হয়? ‘লর’ কাকে
বলে?
ANS:- খেলের
প্রশাসনিক ও সামাজিক মুরব্বিকে সমতলে ‘জেলা’ বলা
হয় এবং পাহাড়ে একটি পিলুঙের মুরব্বিকে ‘লর’ বলা
হয়।
Q.33 তিওয়াদের সম্মানীয় ও
মর্যাদাপূর্ণ পদবি কী? তিওয়াদের সাংস্কৃতিক
প্রাণকেন্দ্রের নাম কী?
ANS:- হারি
কুয়রি তিওয়াদের সম্মানীয় ও মর্যাদাপূর্ণ পদবি। চামাদি
বা ডেকাচাং তিওয়াদের সাংস্কৃতিক প্রাণকেন্দ্রের নাম।
Q.34 তিওয়ারা মূলত কার উপাসক? পূর্বপুরুষকে
তিওয়ারা কী হিসেবে পূজা করত?
ANS:- তিওয়ারা
মূলত জড়বাদী বা জড়োপাসক এবং পূর্বপুরুষকে তিওয়ারা উপাসক দেবতা হিসেবে পূজা করত।
Q.35 হিন্দুধর্ম থেকে উদ্ভূত হওয়া
যে কোন দুটি মতবাদের উল্লেখ করো।
ANS:- শাক্তবাদ, বৈষ্ণববাদ, শৈববাদ, নববৈষ্ণববাদ
ইত্যাদি।
Q.36 পাহাড় অঞ্চলের বিভিন্ন পজা বা
পার্বণগুলো কী কী?
ANS:- বানছুয়া, ছগ্রা, য়াংলি, মুইনারি, ডানঠী, লাংখন, মাইপথালা, মাইরাবা, খাপলাং, রাবানে
পূজা, পান্থাইচ্যবা ইত্যাদি।
Q.37 আমিষভোজী তিওয়াদের প্রিয়
খাদ্য কী কী?
ANS:- টু মেছাম
(মুরগির মাংস) এবং বা মেছাম (শুয়রের মাংস) প্রিয় খাদ্য।
Q.38 ইন্দ্ৰসিং দেউরিকে কী বলে সম্বোধন
করা হত? কত খ্রিস্টাব্দে তার মৃত্যু
হয়?
ANS:- ‘ফাপরৈ’ (জাতির পিতা)। ১৯৯৪ খ্রি: ২০ আগষ্ট।
Q.39 বলাইরাম সেনাপতির পিতা ও মাতার
নাম কী?
ANS:- পিতা
বগারাম সেনাপতি এবং মাতার নাম পদ্মেশ্বরী বরদলৈ।
Q.40 বলাইরাম সেনাপতির রচনা সমগ্র
কখন প্রকাশিত হয়? কত সালে তিনি ইহলীলা সম্বরণ করেন?
ANS:- ২০১৭ সালে।
২০১৪ সালের ১১ মে।
ছোট প্রশ্ন
Q.1 বর্তমানে তিওয়া জনজাতি কোন
কোন অঞ্চল জুড়ে বিস্তৃতি লাভ করেছে ? সংক্ষেপে বুঝিয়ে দাও।
ANS:- বর্তমানে
তিওয়া জনজাতি বা জনগোষ্ঠীর লোকগুলো অসনের নগাঁও, মৰিগাও, কামরূপ, কাৰ্বি
আংলং, জোরহাট, ধেমাজি, লখিমপুর, শদিয়া
ও মেঘালয় রাজ্যের কিছু অংশে বিশৃহুলভাবে রয়েছে। তিওয়াদের সুক্ষ্মভাবে যদিও
দাতিঅলিয়া, পাহাড়িয়া ও থলোয়ালি এই
তিনটি ভাগে বিভক্ত করা যায়, তবুও ব্যাপকভাবে বর্তমানে
পাহাড়ি ও সমতলের বাসিন্দা হিসাবে দুটো ভাগে বিভক্ত করা হয়ে থাকে। ইতিহাসের
পাতায় তিওয়াদের স্থান উল্লেখযোগ্য।
Q.2 ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনে
তিওয়াদের অবদান আলোচনা করো।
ANS:- ১৮৩৫
খ্রিষ্টাব্দে গোভা রাজা তিনজন ব্রিটিশকে ধরে এনে কালিদেবীরর সন্মুখে তাদের বলি
দিলে, ইংরেজদের রোষে পড়ে তাকে
রাজ্য হারাতে হয়। ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনে তিওয়াদের বিশেষ অবদান রয়েছে। অসমের
প্রথম কৃষক বিদ্রোহ ‘ফুলগুরি ধেঁয়া’র জন্ম ও নেতৃত্ব দিয়েছিল
তিওয়ারা। বিদ্রোহের অপরাধে চোয়াবর লালুঙ সহ আরো অনেক লোকের প্রাণ যাওয়ার
পাশাপাশি এগারোজন লোক যাবজবিন দ্বীপান্তর হয়েছিল। এমনকি ১৯৪২ এর গণ আন্দোলনেও
তিওয়া জনজাতির প্রতিনিধি স্থানীয় ব্যক্তিত্ব হেমরাম পাটর শ্বহিদ হয়েছিলেন।
Q.3 তিওয়াদের সাংস্কৃতিক
ক্ষেত্রটি কেন সমৃদ্ধ? তা বিশেষভাবে আলোচনা করো।
ANS:- তিওয়াদের
সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রটি বিশেষভাবে সমৃদ্ধ। স্নেহ-ভালবাসা ও ভ্রাতৃত্ববোধের বিরল
দৃষ্টান্ত ‘জোনবিল মেলা’টি প্রাচীন
অর্থনীতির জীবন্ত দলিল। এছাড়াও পাহাড় অঞ্চলের বিভিন্ন পূজা, উৎসব
পার্বণগুলো যেমন বানছুয়া, ছগ্রা, য়াংলি, মুইনারি, ডানঠী, লাংখন, মাইপথালা, মাইরাবা, খাপলাং, রাবানে
পূজা, পান্থাইচ্যবা ইত্যাদি। অন্যদিকে
সমতল অঞ্চলের উৎসব পার্বণগুলো হচ্ছে জোনবিল মেলা, বরত, গোহাঁই
উলিওয়া মেলা, বহাগ বিহু, মাঘ
বিহু এবং কাতি বিহু ইত্যাদি। তিওয়াদের বিভিন্ন উৎসবনুষ্ঠানগুলোর সঙ্গে নৃত্য গীত
বাদ্য আদি জড়িত হয়ে আছে।
Q.4 তিওয়াদের উৎসবানুষ্ঠানে
বিভিন্ন বাদ্যযন্ত্রের ব্যবহারগুলো উল্লেখ করো।
ANS:- তিওয়াদের
বিভিন্ন উৎসবানুষ্ঠানগুলোর সঙ্গে নৃত্য-গীত-বাদ্য আদি জড়িত হয়ে আছে। বিভিন্ন
উৎসবানুষ্ঠান অনুযায়ী খাম (ঢোল) বার, খাম খুজুরা, খাম
পান্থাই, দমদিং, দগর, পাতিট্রোল
আদি চামড়ার বাদ্য, বাঁশের চিয়ারি দিয়ে তৈরি
বাফাংগ্রাম, থক থররক, মুখে
ফু দিয়ে আঙুল ব্যবহার করে বাজানো পাংশি (বাঁশি),থোরাং, মোষের শিঙের পেঁপা (শিঙা), মুহুরি
এবং খায়াং (তাল) ইত্যাদি বাদ্যযন্ত্রের ব্যবহার তিওয়া সমাজে দেখা যায়।
Q.5 তিওয়াদের পরিধেয় বস্ত্রগুলো
কী কী? সংক্ষেপে আলোচনা করো।
ANS:- স্বকীয়
বৈশিষ্ট্যম্পূর্ণ আকর্ষণীয় বিভিন্ন ফুল আকা বস্ত্র তিওয়ারা পরিধান করে। পুরুষেরা
থানা, তাগলা, থেনাচ, ফালি, ফাগা
ইত্যাদি এবং মহিলারা কাছ্যং, ফাছকাই, নারা
ইত্যাদি পরিধান করে। তাছাড়া কয়েক প্রকার মণি যেমন চাপল, চিংলি
ল, কল পান্থা আদি তিওয়ারা পরিধান করে। খাইদং, ছন্যানে
খাইদং এবং রফানে খাইদং নামের কয়েকপ্রকার কানের অলংকার পরিধান করে।
Q.6 “অল
পাটি হিলস লিডার কনফারেন্স” এ কি
সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল?
ANS:- তিওয়াসা
মিশনের কাজ চলাকালীন ‘অল পাটি হিলস লিডার
কনফারেন্স’ একাংশ তিওয়া অঞ্চলকে নিয়ে মেঘালয় রাজ্য গঠনের দাবি উত্থাপন করায়
ইন্দ্ৰসিং দেউরি এর প্রতিবাদ করার সিদ্ধান্ত নেন। কারণ ইতিপূর্বে সংযুক্ত মিকির
পাহাড় ও উত্তর কাছাড় পার্বত্য জিলা গঠনের সময় তিওয়া বসতি প্রধান এলাকা বিভাজিত
হয়েছিল। তিওয়া জাতির উন্নতিকল্পে কাজ করার জন্য ‘লালুং
দরবার’ নামক সংগঠনটি ১৯৬৭ সালে
ইন্দ্ৰসিং দেউরির নেতৃত্বেই জন্ম হয়েছিল।
Q.7 ইন্দ্ৰসিং দেউরি কীভাবে তিওয়া
সাহিত্য-সংস্কৃতির ভাণ্ডারকে সমৃদ্ধ করেছিলেন? সংক্ষেপে আলোচনা করো।
ANS:- ইন্দ্ৰসিং
দেউরি মহাশয় তিওয়া সাহিত্য-সংস্কৃতির ভাণ্ডারকে সমৃদ্ধ করে গেছেন। তার
রচিত তিওয়া কবিতা ও গান বেশ কিছু পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। তার ‘তিওয়া
তসিমা’ গানটি
ইতিমধ্যে তিওয়া জাতীয় সংগীত হিসেবে তিওয়ারা গ্রহণ করেছে। এই জাতীয় সংগীতের সুর
তিনি নিজে দিয়েছিলেন।
বস্তুতঃ ইন্দ্ৰসিং দেউরি
মহাশয় ছিলেন তিওয়া জাতীয় জীবনের একজন কাণ্ডারি স্বরূপ। তিনি একাধারে সংগঠক, সমাজ
সচেতুক, সমাজ সংস্কারক, লেখক, গীতিকার
সরকার এবং বিচক্ষণ রাজনীতিবিদ ছিলেন।
Q.8 বলাইরাম সেনাপতি তিওয়া ভাষা
প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে কী কী পদক্ষেপ নিয়েছিলেন? সংক্ষেপে আলোচনা করো।
ANS:- বলাইরাম
সেনাপতি ছাত্রাবস্থা থেকেই সাহিত্য সংস্কৃতি চর্চার প্রতি আগ্রহী ছিলেন। তিওয়াদের
নৃত্য-গীত-বাদ্য আদির চর্চা ও প্রসারের ক্ষেত্রে এক পদ্ধতিগত অনুশীলনের জন্য
প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেছিলেন। তাঁর রচনা করা তিওয়া লোকগীতির স্বরলিপি-এর এক
উৎকৃষ্ট উদাহরণ। তিনি তিওয়া জনগোষ্ঠীর নিজস্ব সংস্কৃতি সংরক্ষণের জন্য ‘তিওয়া কৃষ্টি সন্থা’ গঠনের বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ
করেছিলেন। এককথায় তিওয়া ভাষা প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে তিনি প্রাণপাত করেছিলেন।
Q.9 টীকা লেখঃ-
(ক) ইন্দ্ৰসিং
দেউরী (খ) বলাইরাম
সেনাপতি
ANS:-
(ক) ইন্দ্ৰসিং দেউরী :–
পশ্চিম কাৰ্বি আংলং জেলার
এক প্রত্যন্ত গ্রাম রংখৈপার-এ ১৯৩২ সালে তাঁর জন্ম। তিনি ছিলেন মালচিং পোমও মামা
আমচির তৃতীয় সন্তান। ১৯৩৯ সালে কাৰ্বি আংলং জেলায় তার শিক্ষাজীবন আরম্ভ হয়।
১৯৪৯ সালে তিনি কমিউনিস্ট পার্টির সংস্পর্শে আসেন। ‘লালুং দরবার’ নামক
সংগঠনটি ১৯৬৭ সালে ইন্দ্ৰসিং দেউরির নেতৃত্বেই জন্ম হয়েছিল।
(খ) বলাইরাম সেনাপতি :
অসম সাহিত্য-সংস্কৃতির
জগতের একজন সুপ্রতিষ্ঠিত লেখক ও সংস্কৃতি সাধক হলেন বলাইরাম সেনাপতি। তার জন্ম
১৯৩১ সালের ৩ মার্চ নগাঁও জেলার ইতিহাস প্রসিদ্ধ বারপূজিয়া গ্রামে। তার পিতা
ছিলেন বগারাম সেনাপতি ও মাতা পদ্মেশ্বরী বরদলৈ। বারপূজিয়া এল পি, এবং
এম ভি স্কুলে প্রাথমিক শিক্ষা গ্রহণের পর সেনাপতি মাধ্যমিক শিক্ষা গ্রহণ করেন
নগাঁও গভর্ণমেন্ট হাই স্কুলে।
দীর্ঘ প্রশ্নউত্তর
Q.1 তিওয়াদের সমতল অঞ্চলের উৎসবের
বর্ণনা দাও।
ANS:- তিওয়াদের
স্নেহ ভালবাসা ও ভ্রাতৃত্ববোধের বিরল দৃষ্টান্ত হলো ‘জোনবিল’ মেলা।
যা প্রাচীন অর্থনীতির জীবন্ত দলিল। এছাড়াও পাহাড় অঞ্চলের বিভিন্ন পূজা, উৎসব
পার্বণগুলো যেমন - বানছয়া, ছগ্রা, য়াংলি, মুইনারি, ডাঠি, লাংখন, মাই
পথালা, মাই রাবা, খাপলাং
রাবানে পূজা, পান্থাইচ্যবা ইত্যাদি।
অন্যদিকে সমতল অঞ্চলের উৎসবগুলো হচ্ছে - জোনবিল মেলা, বরত, গোঁহাই
উলিওয়া মেলা, বহাগ বিহু, মাঘ
বিহু এবং কাতি বিহু ইত্যাদি। তিওয়াদের বিভিন্ন উৎসবানষ্ঠান অনুযায়ী খ্রাম (ঢোল) বার, খ্রাম
খুজুরা, খ্রাম পান্থাই, দুমদিং, দগর
পাতিটোল আদি চামড়ার বাদ্য, বাঁশের চিয়ারি দিয়ে তৈরি
বাফাং খ্রাম, থকথররক, মুখে
ফু দিয়ে আঙুল ব্যবহার করে বাজানো পাংশি (বাঁশি),থোরাং, মোষের শিঙের পেপা (শিঙা), মুহুরি
এবং খায়াং (তাল) ইত্যাদি বাদ্যযন্ত্রের ব্যবহার তিওয়া সমাজে দেখা যায়।
অন্যদিকে তিওয়া সমাজের
স্বকীয় বৈশিষ্ট্যপূর্ণ আকর্ষণীয় ফুল আকা বস্ত্র পরিধান করে। পরুষেরা থানা, তাগলা, থেনচু, ফালি, ফাগা
ইত্যাদি এবং মহিলারা কাছ্যং, ফাছকাই, নারা
ইত্যাদি পরিধান করে। তাছাড়া কয়েকপ্রকার মণি যেমন চাপল, চিংলি
ল কল পান্থা আদি তিওয়ারা পরিধান করে। খাইদং, ছন্যানে খাইদং এবং রফানে
খাইদং নামের কয়েকপ্রকার কানের অলংকার পরিধান করে।
Q.2 তিওয়া জনজাতির মধ্যে জাতীয়
চেতনা জাগ্রত করার ক্ষেত্রে ইন্দসিং দেউরীর ভূমিকা আলোচনা করো।
ANS:- তিওয়া
জনজাতির মধ্যে আজীবন সংগ্রাম করে যাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে অন্যতম হলেন ইন্দ্ৰসিং
দেউরী। তার জন্ম পশ্চিম কাৰ্বি আংলং জেলার এক প্রত্যন্ত গ্রাম রংখৈপার এ ১৯৩২
সালে। তিনি ছিলেন মালচিং পোমও মামা আমচির তৃতীয় সন্তান। ১৯৩৯ সালে কাৰ্বি আংলং
জেলার বাউলাগোগ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষাজীবন আরম্ভ করে নগাওঁ জেলার ডিমেী
হাইস্কুলে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পড়েন।
কাৰ্বি আংলং জেলার
তিওয়াদের অন্ধবিশ্বাস সমূহ দূর করে শিক্ষার আলো বিতরণের পাশাপাশি তিওয়া সমাজকে
আধুনিক সমাজের সঙ্গে আত্মীকৃত করিয়ে দেওয়ার মানসিকতায় অতি কষ্টে ইন্দ্ৰসিং
দেউরি বিন মাগলাই বরটসিং আমসি ও পদ্মকান্ত কাকতি আদি সচেতন ব্যক্তিদের সহযোগিতায়
১৯৬০ সালে থারাখুঞ্জি গ্রামে ‘তিওয়াসা মিশন’ নামে
এক সামাজিক অনুষ্ঠানের জন্ম দেন। এই প্রতিষ্ঠানটি তিওয়া গ্রামগুলোতে প্রাথমিক
পাঠদানের ব্যবস্থা করেছিল। তখনই ইন্দ্ৰসিং দেউরী “অ তিওয়া, অ
তিওয়া ছেরান চাওয়া” নামের একটি জনপ্রিয় গান রচনা করেছিলেন।
‘তিওয়াসা
মিশনের’ কাজ চলাকালীন ‘অল পার্টি হিলস লিডার
কনফারেন্স’ একাংশ তিওয়া অঞ্চলকে নিয়ে মেঘালয় রাজ্য গঠনের দাবি উত্থাপন করায়
ইন্দ্রসিং দেউরি এর প্রতিবাদ করার সিদ্ধান্ত নেন। ইতিপূর্বে সংযুক্ত মিকির পাহাড়
ও উত্তর কাছাড় পার্বত্য জিলা গঠনের সময় তিওয়া বসতি প্রধান এলাকা বিভাজিত
হয়েছিল। এমনকি তিওয়া জাতির উন্নতিকল্পে কাজ করার জন্য ‘লালুং
দরবার’ নামের সংগঠনটি ১৯৬৭ সালে
ইন্দ্ৰসিং দেউরির নেতৃত্বেই জন্ম হয়েছিল।
Q.3 তিওয়া জনজাতির সাহিত্য
সংস্কৃতির উন্নতিকল্পে বলাইরাম সেনাপতির ভূমিকা আলোচনা করো।
ANS:- অসম
সাহিত্য সংস্কৃতির জগতের একজন সুপ্রতিষ্ঠিত লেখক ও সংস্কৃতি সাধক হলেন বলাইরাম
সেনাপতি। তার জন্ম ১৯৩১ সালের ৩ মার্চ নগাঁও জেলার ইতিহাস প্রসিদ্ধ বারপূজিয়া
গ্রামে। তার পিতা ছিলেন বগারাম সেনাপতি ও মাতা পদ্মেশ্বরী বরদলৈ। বারপূজিয়া এল পি
এবং এম ভি স্কুলে প্রাথমিক শিক্ষা গ্রহণের পর সেনাপতি মাধ্যমিক শিক্ষা গ্রহণ করেন নগাঁও
গভর্ণমেন্ট হাইস্কুলে।
বলাইরাম সেনাপতি
ছাত্রাবস্থা থেকেই সাহিত্য-সংস্কৃতি চর্চার প্রতি আগ্রহী ছিলেন। তিওয়াদের
নৃত্য-গীতবাদ্য আদির চর্চা ও প্রসারের ক্ষেত্রে এক পদ্ধতিগত অনুশীলনের জন্য প্রয়োজনীয়
ব্যবস্থা গ্রহণ করেছিলেন। তার করা তিওয়া লোকগীতির স্বরলিপি-এর এক উৎকৃষ্ট উদাহরণ।
তিনি তিওয়া জনগোষ্ঠীর নিজস্ব সংস্কৃতি সংরক্ষণের জন্য ‘তিওয়া
কৃষ্টি সন্থা’ গঠনের বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ
করেছিলেন। তিওয়া ভাষাটি প্রতিষ্ঠা করার ক্ষেত্রে তিনি আপ্রাণ চেষ্টা করেছিলেন।
বলাইরাম সেনাপতির বহুসংখ্যক সাহিত্য অসমিয়া ভাষায় সৃষ্টি। এর দ্বারা তিনি কেবল
তিওয়া সাহিত্য সংস্কৃতিকেই নয়, অসমিয়া সাহিত্যের
ভাণ্ডারও সমৃদ্ধ করে গেছেন। তিনি ‘রামধেনু’ পত্রিকায়
বিভিন্ন বিষয়ের লেখালেখির মাধ্যমে সেকালে অসমের সাহিত্য সংস্কৃতির জগতে পরিচিত
হয়ে উঠেন। গীতিকার, সুরকার, গায়ক
সেনাপতি ১৯৫৪ সালে ‘মুকুল’ নামে একটি
গানের বই রচনা করেন। ‘রামধেন’তে
লেখা তার তিওয়াদের ‘রাতিসেক’ বিষয়ক
প্রবন্ধ সেকালের সমকালীন অসমীয়া বিদ্বৎ সমাজের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সক্ষম হয়েছিল।
সেনাপতি দীর্ঘদিন অসম সাহিত্য সভার কার্যবাহী সদস্য ছিলেন। তাছাড়াও তিওয়া
সাহিত্য সভার সভাপতির আসন অলংকৃত করেছিলেন।
তিওয়াগণ পাঠ্যপুস্তকের প্রশ্নোত্তর
Q.1 ভাষিক দিক থেকে তিওয়ারা কোন্
শাখার লোক?
ANS:- ভাষিক দিক
থেকে তারা ইন্দো-চীনের অন্তর্গত তিব্বত-বর্মীয় ভাষঙ্গেী পরিবারের বৃহত্তর শাখা ‘বোড়ো’র
অন্তর্গত।
Q.2 তিওয়াদের উৎসব পার্বণে
ব্যবহৃত বিভিন্ন বাদ্যযন্ত্রের নাম লেখো। উত্তর। উত্তর। তিওয়াদের
বিভিন্ন উৎসবানুষ্ঠানগুলোর সঙ্গে নৃত্য-গীত-বাদ্য আদি জড়িত হয়ে আছে। বিভিন্ন
উৎসবানুষ্ঠান অনুযায়ী খাম (ঢোল) বার, খাম খুজুরা, খাম
পান্থাই, দমদিং, দগর, পাতিট্রোল
আদি চামড়ার বাদ্য, বাঁশের চিয়ারি দিয়ে তৈরি
বাফাংগ্রাম, থক থররক, মুখে
ফু দিয়ে আঙুল ব্যবহার করে বাজানো পাংশি (বাঁশি),থোরাং, মোষের শিঙের পেঁপা (শিঙা), মুহুরি
এবং খায়াং (তাল) ইত্যাদি বাদ্যযন্ত্রের ব্যবহার তিওয়া সমাজে দেখা যায়।
Q.3 ফুলগুরির ধেওয়া কী?
ANS:- ১৮৩৫
খ্রিষ্টাব্দে গোভা রাজা তিনজন ব্রিটিশকে ধরে এনে কালিদেবীরর সন্মুখে তাদের বলি
দিলে, ইংরেজদের রোষে পড়ে তাকে
রাজ্য হারাতে হয়। ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনে তিওয়াদের বিশেষ অবদান রয়েছে। অসমের
প্রথম কৃষক বিদ্রোহ ‘ফুলগুরি ধেঁয়া’র জন্ম ও নেতৃত্ব দিয়েছিল
তিওয়ারা। বিদ্রোহের অপরাধে চোয়াবর লালুঙ সহ আরো অনেক লোকের প্রাণ যাওয়ার
পাশাপাশি এগারোজন লোক যাবজবিন দ্বীপান্তর হয়েছিল। এমনকি ১৯৪২ এর গণ আন্দোলনেও
তিওয়া জনজাতির প্রতিনিধি স্থানীয় ব্যক্তিত্ব হেমরাম পাটর শ্বহিদ হয়েছিলেন।
Q.4 ইন্দ্রসিং দেউরি সম্পর্কে যা
জানো লেখ।
ANS:- তিওয়া
জনজাতির মধ্যে জাতীয় চেতনা জাগ্রত করার জন্য সারাজীবন সংগ্রাম করে যাওয়া
ব্যক্তিদের মধ্যে অন্যতম হলেন ইন্দ্ৰসিং দেউরি। তিনি পশ্চিম কাৰ্বি আলং জেলার এক
প্রত্যন্ত গ্রাম রংখৈপার-এ ১৯৩২ সালে জন্মগ্রহণ করেন। ইন্দ্ৰসিং ছিলেন মালচিং পোম
ও মামা আমচির তৃতীয় সন্তান। ১৯৩৯ সালে কাৰ্বি আংলং জেলার বাউলাগোগ প্রাথমিক
বিদ্যালয়ে শিক্ষাজীবন আরম্ভ করে নগাঁও জেলার ডিমৌ হাইস্কুলে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত
পড়েন। এরপর অর্থাভাবে পড়াশোনা বন্ধ হয়ে যায়। ১৯৪৯ সালে ভারতীয় বিপ্লবী
কমিউনিস্ট পার্টির সংস্পর্শে আসেন। তিনি অনুভব করেন তিওয়াদের সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক
ও শিক্ষা সংক্রান্ত দুরবস্থার কথা। আর্থিক অস্বচ্ছলতার জন্য ১৯৫১ সালে পশুপালন
বিভাগের চাকরিতে যোগদান করেন। কিন্তু জাতির প্রতি দায়িত্ব ও কর্তব্য পালনের জন্য
১৯৫৩ সালে গারো পাহাড় জেলার তুরা থেকে চাকরিতে ইস্তফা দিয়ে পুনরায় জাতিকে
জাগ্রত করার কাজে ব্রতী হন। কার্বি আলং জেলার
তিওয়াদের অন্ধবিশ্বাসসমূহ দূর করে শিক্ষার আলো বিতরণের পাশাপাশি তিওয়া সমাজকে
আধুনিক সমাজের সাথে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার মানসিকতায় অতি কষ্টে ইন্দ্রসিং দেউরি
বিমাগলাই, রবটসিং আমসি ও পদ্মকান্ত
কাকতি ইত্যাদি সচেতন ব্যক্তিদের সহযোগিতায় ১৯৬০ সালে থারাবুজি গ্রামে ‘তিওয়াসা
মিশন’ নামে এক সামাজিক
অনুষ্ঠানের জন্ম দেন। এই প্রতিষ্ঠানটি তিওয়া গ্রামগুলোতে প্রাথমিক পাঠদানের
ব্যবস্থা করেছিল। তখন ইন্দ্ৰসিং “অতিওয়া, অ
তিওয়া ছেরান ছাওয়া” নামের
একটি জনপ্রিয় গান রচনা করেছিলেন।
‘তিওয়াসা
মিশনে’র কাজ চলাকালীন ‘অল পার্টি হিলস লিডার
কনফারেন্স’ এ
একাংশ তিওয়া অঞ্চলকে নিয়ে মেঘালয় রাজ্য গঠনের দাবি উত্থাপন করায় ইন্দ্রসিং
দেউরি এর প্রতিবাদ করার সিদ্ধান্ত নেন। কারণ ইতিপূর্বে সংযুক্ত মিকির পাহাড় ও
উত্তর কাছাড় পার্বত্য জিলা গঠনের সময় তিওয়া বসতি প্রধান এলাকা বিভাজিত হয়েছিল।
তিওয়া জাতির উন্নতিকল্পে কাজ করার জন্য ‘লালুং দরবার’ নামক
সংগঠনটি ১৯৬৭ সালে ইন্দ্ৰসিং দেউরির নেতৃত্বেই জন্ম হয়েছিল।
ইন্দ্ৰসিং দেউরি মহাশয়
১৯৭৬ সালে প্রথমবারের জন্য কাৰ্বি আংলং স্বায়ত্ত শাসিত পরিষদের সাধারণ সদস্য
হিসাবে মনোনীত হন। এবং পরবর্তী পর্যায়ে পরিষদের উপাধ্যক্ষ রূপেও নিযুক্ত
হয়েছিলেন। ১৯৮১ সালে অনুষ্ঠিত কাৰ্বি আংলং স্বায়ত্ত শাসিত পরিষদের সাধারণ
নির্বাচনে আরি সমষ্টি থেকে লালুং দরবারের হয়ে নির্দলীয় প্রার্থী হিসেবে
প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে নির্বাচিত হন এবং পরবর্তী পর্যায়ে পরিষদের অধ্যক্ষ পদে
অধিষ্ঠিত হন।
ইন্দ্ৰসিং দেউরি ছিলেন
তিওয়া জাতীয় জীবনের একজন কাণ্ডারি স্বরূপ। তিনি একাধারে সংগঠক, সমাজ
সচেতক, সমাজ সংস্কারক, লেখক, গীতিকার, সুরকার
এবং বিচক্ষণ রাজনীতিবিদ ছিলেন। পাহাড়ের তিওয়ারা তাই ইন্দ্রসিং দেউরিকে ‘ফাপরৈ’ (জাতির পিতা) বলে সম্বোধন করত। যতদিন তিওয়া জাতির অস্তিত্ব
থাকবে ততদিন পর্যন্ত ইন্দ্ৰসিং দেউরি তিওয়া জাতির মধ্যে বেঁচে থাকবেন। ১৯৯৪ খ্রি.র
২০ আগস্ট তাঁর মৃত্যু হয়।
Q.5 বলাইরাম সেনাপতি সম্পর্কে যা
জানো লেখ।
ANS:- অসমিয়া
সাহিত্য-সংস্কৃতির জগতে একজন সুপ্রতিষ্ঠিত লেখক ও সংস্কৃতি সাধক হলেন বলাইরাম
সেনাপতি। তার জন্ম ১৯৩১ সালের ৩ মার্চ নগাঁও জেলার ইতিহাস প্রসিদ্ধ বারপৃজিয়া
গ্রামে। তার পিতা ছিলেন বগারাম সেনাপতি ও মাতা পদ্মেশ্বরী বরদলৈ। বারপূজিয়া এল.
পি. এবং এম. ভি. স্কুলে প্রাথমিক শিক্ষা গ্রহণের পর সেনাপতি মাধ্যমিক শিক্ষা গ্রহণ
করেন নগাঁও গভর্নমেন্ট হাইস্কুলে। পারিবারিক সমস্যার জন্য হাইস্কুলের শিক্ষা
সম্পূর্ণ করার আগেই তিনি ১৯৫৩ থেকে ১৯৬৩ সন পর্যন্ত সংযুক্ত উত্তর কাছাড় ও মিকির
পাহাড় জেলার বরথল মধ্য ইংরাজি বিদ্যালয়ে শিক্ষকতার কাজ করেন। ‘মিকির বৈচিত্র্যপূর্ণ অসম পাহাড়ত কি ঘটিছে’ (মিকির পাহাড়ে কী ঘটেছে) নামক ‘রামধেনু’তে
প্রকাশিত প্রবন্ধটির জন্য সরকারি কর্তৃপক্ষের রোষাগ্নিতে পড়ে মাত্র ১০ বছর
শিক্ষকতা করে বরথল এম. ই. স্কুলের প্রধান শিক্ষকের চাকরি ছেড়ে ফিরে আসতে হয়।
এরপর তিনি কৃষিকাজে মনোনিবেশ করেন। বলাইরাম সেনাপতি ছাত্রাবস্থা থেকেই
সাহিত্য-সংস্কৃতি চর্চার প্রতি আগ্রহী ছিলেন। তিওয়াদের নৃত্য-গীত-বাদ্য আদির
চর্চা ও প্রসারের ক্ষেত্রে এক পদ্ধতিগত অনুশীলনের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ
করেছিলেন। তাঁর লেখা তিওয়া লোকগীতির স্বরলিপি এর এক উৎকৃষ্ট উদাহরণ। তিনি তিওয়া
জনগোষ্ঠীর নিজস্ব সংস্কৃতি সংরক্ষণের জন্য তিওয়াকৃষ্টি সংগঠনের বিশেষ উদ্যোগ
গ্রহণ করেছিলেন। তিওয়া ভাষাটি প্রতিষ্ঠা করার ক্ষেত্রে তিনি প্রাণপাত করেছিলেন।
সেনাপতির বহু সংখ্যক সাহিত্য অসমিয়া ভাষায় সৃষ্টি। এর দ্বারা তিনি কেবল তিওয়া
সাহিত্য সংস্কৃতিকেই নয় অসমিয়া সাহিত্যের ভাণ্ডারও সমৃদ্ধ করে গেছেন। তিনি ‘রামধেনু’ পত্রিকায়
বিভিন্ন বিষয়ের লেখালেখির মাধ্যমে সেকালে অসমের সাহিত্য-সংস্কৃতির জগতে পরিচিত
হয়ে ওঠেন। গীতিকার, সুরকার, গায়ক
সেনাপতি ১৯৫৪ সালে ‘মুকুল’ নামে একটি গানের বই রচনা করে
প্রকাশ করেন। ‘রামধেনু’তে
লেখা তার তিওয়াদের ‘রাতিসেক’ বিষয়ক প্রবন্ধ সেকালের
সমকালীন অসমিয়া বিদ্বান সমাজের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সক্ষম হয়েছিল। সেনাপতি
দীর্ঘদিন অসম সাহিত্য সভার কার্যবাহক সদস্য ছিলেন। বারপূজিয়ায় অনুষ্ঠিত নগাঁও
জিলা সাহিত্য সভার সভাপতি পদে তিনি অধিষ্ঠিত হয়েছিলেন। তা ছাড়া তিওয়া সাহিত্য
সভার সভাপতির আসন অলংকৃত করেছিলেন। সাহিত্যিক হিসেবে তাঁর অমর সৃষ্টি হল— ‘অতীতর সন্ধানত’(১৯৯৭), ‘পাঁচোরজিয়া অঞ্চলর লালুঙ লোকগীতির ওপরত সামান্য আলোকপাত’ (১৯৯৭)
এবং ‘তিওয়া জনগোষ্ঠীর সংস্কৃতির আলোকপাত’, ‘তিওয়া সমাজ আৰু সংস্কৃতি’ (২০১০) এই
তিনটি গ্রন্থ। পুস্তক আকারে প্রকাশিত ‘অনন্তদেব স্মারক বক্তৃতায়’ তার
প্রদান করা ‘তিওয়া জনজাতি এবং বৈষ্ণব
সমাজ শীর্ষক ভাষণ’টিতে সেনাপতির চিন্তার গভীরতা ও সমাজ বিশ্লেষণের বিচক্ষণতা সুন্দররূপে
প্রকাশ পেয়েছে। সেনাপতির মৃত্যুর পর ২০১৭ সালে ‘বলাইরাম
সেনাপতি রচনাসমগ্র’ প্রকাশিত হয়। বিভিন্ন
সংবাদপত্র, সাময়িক, তিওয়াগণ
স্মৃতিগ্রন্থ, মুখপত্র ইত্যাদিতে তিনি
নিয়মিত লেখালেখি করতেন। এগুলির মধ্যে রামধেনু, আমার প্রতিনিধি, সাদিনীয়া, অসমিয়া
নবযুগ, রিংছাং, আজির
অসম এবং গরীয়সী ইত্যাদির নাম বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। সাহিত্য জগতে তাঁর উল্লেখযোগ্য
অবদানের জন্য ১৯৯১ সালে অসম সরকার তাঁকে সাহিত্যিক পেন্সন প্রদান করেন। এছাড়াও
তিওয়া সমাজ-সংস্কৃতির একান্ত সাধক, গবেষক, পণ্ডিত
হিসেবে নগাঁও জিলা সাহিত্য সভা ২০১১ সালে ‘তিলকচন্দ্র দেবশর্মা স্মারক’, ‘ড. সূৰ্য্যকুমার ভূঞাঁ পুরস্কার’ এবং
অসম লোক সংস্কৃতির সাধক হিসেবে বকুল বন ন্যাস, অসম ২০১১ সালে ‘বকুল বন’ পুরস্কার
প্রদান করে।
বলাইরাম সেনাপতির রচিত
গীতি আলেখ্য নগাঁও ও গুয়াহাটি বেতার কেন্দ্র থেকে প্রচারিত হয়েছে। আকাশবাণীতে
প্রচারিত বলাইরাম সেনাপতির রচিত গীতি আলেখ্যগুলো হল—নগার নরোত্তম গোঁসাই
শ্রীরাম, ফুলগুরির ধেঁওয়া, তিওয়া
সমাজ-সংস্কৃতি, হারানো দিনের সুর এবং
স্বাধীনতা সংগ্রামের বিপ্লবী গীত।
বিশাল ব্যক্তিত্বের
অধিকারী অথচ সহজ-সরল জীবনযাপন করা স্বল্পভাষী এই মহান ব্যক্তি ২০১৪ সালের ১১ই মে
ইহলীলা সম্বরণ করেন।
**************



0 Comments
HELLO VIEWERS, PLEASE SEND YOUR COMMENTS AND SUGGESTION ON THE POST AND SHARE THE POST TO YOUR FRIEND CIRCLE.